“বিধবা ভাতা ছেড়ে নিন এই সরকারি যোজনা!” বিরাট সুযোগ হাতছাড়া করলেই পস্তাবেন!

দুর্গাপুজোর ঠিক আগে রাজ্যবাসীর জন্য এক দুর্দান্ত আর্থিক সুখবর নিয়ে এল রাজ্য সরকার। বিশেষ করে রাজ্যের প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত নারীদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একজোড়া বড় প্রকল্পের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নবান্ন থেকে সরাসরি ঘোষণা করা হয়েছে যে, নির্দিষ্ট বয়সসীমার মধ্যে থাকা যোগ্য উপভোক্তারা এখন থেকে প্রতি মাসে মোট সাড়ে চার হাজার টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পেতে পারেন। সামাজিক সুরক্ষার এই নতুন পদক্ষেপে একদিকে যেমন বয়স্ক ও বিধবা ভাতার অঙ্ক বৃদ্ধি পেয়েছে, তেমনই বেশ কয়েকটি জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে বড়সড় পরিবর্তন আনা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী নবান্ন থেকে আয়োজিত প্রেস কনফারেন্সে বিস্তারিত জানিয়ে বলেন যে, রাজ্যের প্রায় ১ লক্ষ ২৪ হাজার বিশেষভাবে সক্ষম (দিব্যাঙ্গ) বোন বা দিদিরা এই নতুন সুবিধার আওতায় আসবেন। যাদের বয়স ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, তাঁদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে সরকার বিশেষভাবে উদ্যোগী হয়েছে। এতদিন দুটি আলাদা ভাতা একসঙ্গে পাওয়ার নিয়মে কড়াকড়ি থাকলেও বর্তমান নীতি অনুযায়ী, ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি যে সমস্ত মহিলা দিব্যাঙ্গ বা বিশেষভাবে সক্ষম, তাঁরা মাসিক দেড় হাজার টাকা সাধারণ ভাতার পাশাপাশি অতিরিক্ত ৩ হাজার টাকার ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’-র সুবিধাও একসঙ্গে পাবেন। এর ফলে এই বিশেষ ক্যাটাগরির নারীরা প্রতি মাসে নিয়মিতভাবে সরাসরি সাড়ে চার হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্য পাবেন।
পাশাপাশি, এদিন রাজ্যের সমস্ত বিধবা ভাতা প্রাপক মহিলাদের উদ্দেশ্যেও একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও লাভজনক পরামর্শ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি যে সমস্ত মহিলা বর্তমানে নিয়মিতভাবে মাসিক বিধবা ভাতা সংগ্রহ করছেন, তাঁরা চাইলে অত্যন্ত সহজ প্রক্রিয়ায় তাঁদের বর্তমান বিধবা ভাতাটি স্বেচ্ছায় সারেন্ডার বা সমর্পণ করতে পারেন। এর পরিবর্তে তাঁরা আরও বেশি আর্থিক সুবিধাযুক্ত ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’-র জন্য নতুন করে আবেদন করতে পারবেন। মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী, এই বয়সের মহিলারা দেড় হাজার টাকার বিধবা ভাতা পরিত্যাগ করে যদি ৩ হাজার টাকার অন্নপূর্ণা ভাতার জন্য নাম নথিভুক্ত করেন, তবে তাঁদের পকেটে প্রতি মাসে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেশি অঙ্কের টাকা ঢুকবে, যা তাঁদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার খরচ চালাতে ভীষণভাবে সাহায্য করবে।
অন্যদিকে, এই পুরো জনকল্যাণমূলক ঘোষণা প্রসঙ্গে রাজনৈতিক মহলের বিশিষ্ট ব্যক্তি শুভেন্দু অধিকারীও নিজের মতামত প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, নির্দিষ্ট বয়সসীমার মধ্যে থাকা বিশেষভাবে সক্ষম নারীরা ঠিক কী উপায়ে এবং কোন নিয়ম মেনে এই সর্বোচ্চ সাড়ে চার হাজার টাকার আর্থিক সুবিধা একযোগে পেতে পারেন, তার সম্পূর্ণ প্রশাসনিক রূপরেখা পরিষ্কার করে দেওয়া হয়েছে। পুজোর মরশুমের ঠিক প্রাক্কালে সরকারের এই মেগা ভাতা বৃদ্ধির ঘোষণায় বাংলার গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলের সাধারণ মানুষের মধ্যে উপচে পড়া আনন্দ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের একাংশের মতে, উৎসবের মরশুমে সাধারণ মানুষের হাতে নগদ টাকার জোগান বাড়লে তা সামগ্রিক বাজার অর্থনীতিকেও চাঙ্গা করতে বড় ভূমিকা নেবে।