“তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল পিজি!” দিল্লির জঘন্য দুর্ঘটনা কাড়ল ৭ তরতাজা প্রাণ, কড়া শাস্তির মুখে কর্তারা?

দক্ষিণ-পশ্চিম দিল্লির জনবহুল সত্য নিকেতন এলাকায় একটি পাঁচতলা অবৈধ পিজি (পেয়িং গেস্ট) ভবন মর্মান্তিক ও আকস্মিক ধসে পড়ার জেরে প্রাণহানির ঘটনায় অবশেষে অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (এমসিডি)। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন দক্ষিণ অঞ্চলের ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) সহ মোট পাঁচজন ঊর্ধ্বতন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীকে অবিলম্বে বরখাস্ত করেছে। এমসিডির ভিজিল্যান্স বিভাগ কর্তৃক সদ্য জারি করা পৃথক অফিসিয়াল আদেশ অনুসারে, এই সমস্ত অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় কার্যক্রম বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
চলতি বছরের ৭ই সেপ্টেম্বর জারি করা সরকারি আদেশ অনুযায়ী এমসিডি কর্তৃক স্থগিতকৃত বা বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তাদের তালিকায় একাধিক শীর্ষ প্রশাসনিক ও প্রকৌশল পদের আধিকারিকরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। বরখাস্ত হওয়া আধিকারিকদের মধ্যে রয়েছেন রাকেশ কুমার (ডেপুটি কমিশনার, দক্ষিণ অঞ্চল), রণবীর সিং (সুপারিনটেন্ডিং ইঞ্জিনিয়ার), ললিত কুমার গোয়াল (এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার – বিল্ডিং), সুনীল চৌহান (সহকারী প্রকৌশলী – বিল্ডিং) এবং আশীষ কুমার (জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার – বিল্ডিং)। ডিএমসি সার্ভিসেস (কন্ট্রোল অ্যান্ড আপিল) রেগুলেশন, ১৯৫৯-এর রেগুলেশন ৫(২)-এর অধীনে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সাময়িক বরখাস্তের এই মেয়াদকালে অভিযুক্ত সকল কর্মকর্তা নিয়মমাফিক জীবনধারণ ভাতা বা সাবসিস্টেন্স অ্যালাউন্স পাবেন।
ঘটনার সূত্রপাত গত রবিবার দুপুর ১টায়, যখন সত্য নিকেতন এলাকায় অবস্থিত প্রায় ৩০ বছরের পুরনো একটি পাঁচতলা পেয়িং গেস্ট ভবন হঠাৎ করেই তাসের ঘরের মতো হুড়মুড়িয়ে ধসে পড়ে। এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনায় ৬ জন মেধাবী ছাত্র এবং ১ জন শ্রমিকসহ মোট ৭ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত তৎপর হয়ে এখনও পর্যন্ত মোট ১২ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে। এদিকে, এই চাঞ্চল্যকর দুর্ঘটনার পরেই মূল অভিযুক্ত ভবনের মালিক হরিরামকে পাকড়াও করতে দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে ১০টি ভিন্ন বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। জেলা অপারেশন ইউনিট, স্থানীয় পুলিশ ও স্পেশাল স্টাফদের নিয়ে গড়া এই দলগুলির নেতৃত্ব দিচ্ছেন অতিরিক্ত ডিসিপি পদমর্যাদার সিনিয়র কর্মকর্তারা। পলাতক হরিরামের সন্ধানে দিল্লি ও হরিয়ানার বিভিন্ন সম্ভাব্য ঠিকানায় লাগাতার তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। একই সঙ্গে হাইকোর্টে মামলা গড়ানোর পাশাপাশি এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে।