বিগ বস বাংলায় চরম টুইস্ট! প্রথম সপ্তাহেই বাদ পড়ার পর কার এন্ট্রিতে জমজমাট হলো ঘরের খেলা?

মাত্র সাত দিনেই চরম উত্তেজনায় জমে উঠেছে ‘বিগ বস বাংলা’র (Bigg Boss Bangla) হাই-ভোল্টেজ ঘর। হাসি-মজা, খুনসুটি থেকে শুরু করে রকমারি ঝগড়া-অভিমান—সব মিলিয়ে ১৫ জন প্রতিযোগীর অংশগ্রহণে এই রিয়ালিটি শো যখন ধীরে ধীরে দর্শকদের মনে পাকাপোক্ত জায়গা করে নিচ্ছিল, ঠিক তখনই ঘটে গেল এক অপ্রত্যাশিত ছন্দপতন। ‘বিগ বস বাংলা’ সিজন ৩-এর প্রথম সপ্তাহেই শো থেকে আচমকা বিদায় নিতে হয় প্রতিযোগী অনিন্দ্য সেনগুপ্তকে (Anindya Sengupta)। আর তাঁর ঠিক পরেই দর্শকের মনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছিল যে, এই প্রথম সপ্তাহের শূন্য স্থানে কে হতে চলেছেন পরবর্তী ওয়াইল্ড কার্ড এন্ট্রি? অবশেষে সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে রবিবার ঘড়ির কাঁটা ঘুরতেই বিগ বস বাংলার সুরক্ষিত ঘরে প্রবেশ করেন মায়ানগরীর পরিচিত মুখ, জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেতা রাজবীর দে (Rajveer Dey)। ঠিক কে এই রাজবীর? আসুন, একনজরে চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাক এই উঠতি তারকা-মডেলের বর্ণাঢ্য কেরিয়ার-জার্নির দিকে।

রাজবীরের অসামান্য জনপ্রিয়তা দেশজুড়ে আকাশছোঁয়া রূপ নেয় যখন তিনি জনপ্রিয় রিয়ালিটি শো এমটিভি রোডিজ (MTV Roadies: Karm Ya Kaand)-এ প্রতিযোগী হিসেবে অংশ নেন। ২০২৩ সালের এই সিজনে তাঁর লড়াকু মানসিকতা নজর কেড়েছিল এবং তিনি খ্যাতনামা মেন্টর প্রিন্স নারুলার গ্যাংয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছিলেন। শো থেকে সফলভাবে বেরিয়ে আসার পর তাঁর ফ্যান ফলোয়িং রাতারাতি বহুগুণ বেড়ে যায় এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর অনুরাগীর সংখ্যা উল্কার গতিতে ঊর্ধ্বমুখী হতে থাকে। রিয়ালিটি শো ছাড়াও তিনি একাধিক নামী হিন্দি ধারাবাহিকের অত্যন্ত পরিচিত মুখ। তাঁর অভিনয় কেরিয়ারের ঝুলিতে রয়েছে ‘কসৌটি জিন্দেগী কি ২’ (Kasautii Zindagii Kay 2), ‘উড়ান’ (Udaan) এবং ‘পাঞ্চ বিট ২’ (Puncch Beat 2)-এর মতো জনপ্রিয় সব মেগা প্রজেক্ট।

ইন্ডাস্ট্রি সূত্রে খবর, খ্যাতনামা প্রযোজক একতা কাপুরের অত্যন্ত জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘কসৌটি’ দিয়েই ছোটপর্দায় ডেবিউ করেছিলেন রাজবীর। তবে তাঁর অভিনয় জীবনের অন্যতম সেরা ও স্মরণীয় কাজগুলির মধ্যে একটি হলো ‘কোল্ড লস্যি অউর চিকেন মসলা’। অল্ট বালাজির এই প্রশংসিত রোম্যান্টিক কমেডি সিরিজে অভিনেতা রাজীব খাণ্ডেলওয়াল ও জনপ্রিয় অভিনেত্রী দিব্যাঙ্কা ত্রিপাঠীর সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করেছিলেন রাজবীর। সেই সিরিজে তাঁর অভিনীত ‘জুনেইদ’ চরিত্রটি দর্শকের মনে দারুণ রেখাপাত করেছিল। উল্লেখ্য, রাজবীরের আদি জন্ম ও বেড়ে ওঠা পশ্চিমবঙ্গের উত্তরবঙ্গের সুন্দর শহর শিলিগুড়িতে। জীবনের শুরুতে তিনি শিলিগুড়িতে একটি পারিবারিক কাপড়ের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, কিন্তু গ্ল্যামার ও অভিনয়ের দুনিয়ায় নিজের সুপ্ত স্বপ্নকে সফল করতে একসময় তিনি একা হাতে মুম্বই পাড়ি দেন।

পরবর্তীতে ২০১৭ সালে মর্যাদাপূর্ণ ‘পিটার ইংল্যান্ড মিস্টার ইন্ডিয়া’ প্রতিযোগিতায় দুর্দান্ত খেতাব জিতে তিনি প্রথমবার জাতীয় গণমাধ্যমের শিরোনামে এসেছিলেন। বর্তমানে ইনস্টাগ্রামেও তাঁর জনপ্রিয়তার পারদ তুঙ্গে, যেখানে তাঁর অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ৪৪ হাজারের গণ্ডি ছাড়িয়ে গিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি যথেষ্ট অ্যাক্টিভ থাকেন এবং নিয়মিত নিজের প্রতিদিনের কড়া শরীরচর্চা থেকে শুরু করে শুটিংয়ের অন্তরালের নানা মুহূর্তের ছবি ও আকর্ষণীয় ভিডিয়ো অনুরাগীদের সঙ্গে ভাগ করে নেন।

গত ৩০ আগস্ট অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে শুরু হয়েছে বহু প্রতীক্ষিত ‘বিগ বস বাংলা’ সিজন ৩, যার সঞ্চালনার মূল দায়িত্বে রয়েছেন স্বয়ং ভারতের সফলতম ক্রিকেট ক্যাপ্টেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। শো-এর অন্দরে প্রতিযোগী হিসেবে ইতিমধ্যে দাপট দেখাচ্ছেন ভরত কল, মনামী ঘোষ, সোনামণি সাহা, দীপেন্দু বিশ্বাস, দুর্নিবার সাহা, ঝিলম গুপ্ত, ‘লাফটারসেন’ খ্যাত নিরঞ্জন মণ্ডল এবং নন্দিনী দত্তের মতো তারকারা। এদিকে, অনিন্দ্য সেনগুপ্ত আচমকাই ঘর থেকে বিদায় নেন কারণ হিসেবে শো-এর নিয়ম মেনে খেলায় অংশগ্রহণ না করা এবং লাইভ টাস্ক চলাকালীন ঘুমিয়ে পড়ার মতো গুরুতর অভিযোগ সামনে আসে, যা দেখে স্বয়ং দর্শককূলও ভীষণ বিরক্ত হয়েছিলেন।

অনিন্দ্যর সেই বিদায়ের ফাঁকফোকর গলেই একেবারে চমকপ্রদ এন্ট্রি নিলেন রাজবীর দে। বাড়িতে পা রেখেই তিনি অন্য প্রতিযোগীদের সঙ্গে এক অদ্ভুত প্র্যাঙ্ক করে প্রথম দিনেই তাক লাগিয়ে দেন। অভিনেত্রী আলেকজান্ডার টেলরের সঙ্গে তাঁকে বেশ সাবলীলভাবে ঘরের অন্দরমহলের সমস্ত হালহকিকত বুঝে নিতে দেখা যায়। পাশাপাশি, সামনে আসা নতুন প্রোমোতে অভিনেত্রী সৃজলা গুহর সঙ্গে রাজবীরের এক মিষ্টি প্রেমের রসায়ন দানা বাঁধার ইঙ্গিতও মিলছে। যদিও এই রিয়ালিটি শো-এর অন্দরে প্রেম ও রোম্যান্স শুরু হওয়া নতুন কোনো ঘটনা নয়, তবুও দীর্ঘ লড়াইয়ের এই ময়দানে টিকে থাকতে এবং চূড়ান্ত ট্রফি নিজের দখলে আনতে ‘রোডিজ’-এর জনপ্রিয় মুখ রাজবীর বাংলার এই মহা-মঞ্চে ঠিক কোন কোন নতুন চাল খেলেন, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় রয়েছে গোটা রাজ্য।