আসল না কি বিষাক্ত নকল দারুচিনি খাচ্ছেন? রান্নাঘরে থাকা এই মশলাটি কিডনি-লিভারের মারাত্মক ক্ষতি করছে না তো?

রান্নার স্বাদ বাড়ানো থেকে শুরু করে সুস্বাস্থ্য বজায় রাখা—দারুচিনির জুড়ি মেলা ভার। কিন্তু আপনি কি জানেন, বাজারে বিক্রি হওয়া সমস্ত দারুচিনি এক নয়? বেশিরভাগ মানুষই আসল এবং নকল বা ক্যাসিয়া দারুচিনির পার্থক্য না বুঝে একই দামে তা কিনে বাড়ি নিয়ে আসেন। স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে এই দুইয়ের ফারক এবং তার ক্ষতিকর দিকগুলি জেনে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
বাজারে সাধারণত দুই ধরনের দারুচিনি দেখতে পাওয়া যায়—একটি হলো খাঁটি ‘সিলন দারুচিনি’ এবং অন্যটি তুলনামূলক সস্তা ‘ক্যাসিয়া দারুচিনি’। বাহ্যিক দিক থেকে দুটিকে একইরকম মনে হলেও এদের গুণগত মানে আকাশ-পাতাল তফাত রয়েছে।
চেনার উপায়: সিলন দারুচিনির রঙ হালকা বাদামী ও লালচে আভা যুক্ত হয়। এর ছালগুলো কাগজের মতো বহুস্তর বিশিষ্ট এবং বেশ নরম হওয়ায় সহজেই ভেঙে যায়। অন্যদিকে, ক্যাসিয়া দারুচিনির স্তর বেশ পুরু ও শক্ত হয়। গন্ধের দিক থেকেও দুটিতে বড় ফারক রয়েছে—ক্যাসিয়ার গন্ধ অত্যন্ত তীব্র ও ঝাঁঝালো, অথচ সিলন দারুচিনির সুবাস বেশ মৃদু এবং স্বাদ কিছুটা মিষ্টি।
স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব: বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বাজারে বহুল প্রচলিত ক্যাসিয়া দারুচিনি শুধু পুষ্টিগুণেই কম নয়, বরং এতে উচ্চ পরিমাণে ‘কুমারিন’ নামক উপাদান থাকে। নিয়মিত বা বেশি মাত্রায় এটি সেবন করলে লিভার এবং কিডনির মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। এর বিপরীতে, আসল সিলন দারুচিনিতে কুমারিনের পরিমাণ অত্যন্ত নগণ্য বা থাকেই না। এতে পর্যাপ্ত পরিমাণে সিনামালডিহাইড, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম থাকায় এটি শরীরকে সুস্থ রাখতে দারুণভাবে সাহায্য করে।
তাই পরবর্তীবার বাজার থেকে মশলা কেনার সময় অন্ধের মতো না কিনে, জেনেশুনে আসল সিলন দারুচিনি বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।