পুজোর পরই মহারণ! সজল ঘোষের বাড়িতে শমীক-তাপসদের মেগা ব্রেকফাস্ট মিটিংয়ে কীসের ব্লু-প্রিন্ট তৈরি হলো?

দুর্গাপুজো মিটতেই রাজ্য রাজনীতিতে ফের একবার পুরভোটের দামামা বেজে গেছে। ভোট নিয়ে তৎপরতা যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই রবিবার সকালে বিজেপি শিবিরে এক চাঞ্চল্যকর ও হাই-প্রোফাইল বৈঠক সম্পন্ন হলো। বরানগরের বিধায়ক সজল ঘোষের বাড়িতে প্রাতঃরাশ বৈঠকে একে একে যোগ দেন দলের হেভিওয়েট নেতা শমীক ভট্টাচার্য, তাপস রায়, উত্তর কলকাতা জেলা সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষ এবং ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর সন্তোষ পাঠক।

কী নিয়ে হলো এই বৈঠক?

প্রাথমিকভাবে শমীক ভট্টাচার্যের এই আগমনকে নিছক ‘সৌজন্য সাক্ষাৎ’ বলে মনে করা হলেও, পরবর্তীতে নিজেই সেই জল্পনায় জল ঢেলে দেন তিনি। বৌবাজারের শতদল সংঘের পুজোর খুঁটিপুজোয় যোগ দেওয়ার আগে সজল ঘোষের বাড়িতে বসে প্রাতঃরাশ সেরে নেন বিজেপি নেতারা। বৈঠক শেষে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এটি নিছক চা-চক্র ছিল না। তাঁর কথায়, “শুধু সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়। তাপস রায়, তমোঘ্ন ঘোষেরা ছিল। কাজেই টি-টোয়েন্টি ম্যাচ নিয়ে আলোচনা হবে না, এটাই স্বাভাবিক।”

মূলত আসন্ন কলকাতা ও হাওড়া পুরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখেই এই রণরৈনিক বৈঠক হয়েছে বলে জানা গেছে। বিধানসভা ভোটের পর এবার পুরভোটে সংগঠনকে চাঙ্গা করতে এবং ওয়ার্ডভিত্তিক বুথ স্তরকে আরও শক্তিশালী করতে মরিয়া পদ্মশিবির।

প্রার্থী তালিকা ও বিরোধীদের নিয়ে বড় বার্তা

পুরভোটের প্রার্থী বাছাই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে শমীক ভট্টাচার্য অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানান, মানুষের বিচারেই প্রতিযোগিতায় যোগ্য প্রার্থীরাই প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে আসবেন। পাশাপাশি রাজ্যের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, একদিকে যেমন বিজেপির পতাকা খোলার লোকের অভাব নেই, তেমনই অন্যদিকে বিরোধীদের পতাকা লাগানোর লোকটুকুও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ২০৯টি আসন নিয়ে এখনই অতিমাত্রায় বিচলিত না হয়ে শক্তিশালী ও লড়াকু প্রার্থী দেওয়ার পক্ষেই যে দল এগোচ্ছে, এই বৈঠকের মাধ্যমে সেই বার্তাই দিলেন শমীক ভট্টাচার্য।