উন্নয়নের কাজে গাফিলতি! বৈঠকে সরকারি অফিসারদের চরম ভর্ৎসনা করার কঙ্গনার ভিডিও ভাইরাল হতেই শোরগোল

ফের একবার শিরোনামে উঠে এলেন অভিনেত্রী তথা বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রানাওয়াত। তবে এবার কোনো সিনেমা বা অভিনয় নয়, বরং সরকারি আধিকারিকদের ওপর তাঁর তীব্র ক্ষোভ উগরে দেওয়ার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়ের বেগে ভাইরাল হয়েছে। হিমাচল প্রদেশের মাণ্ডি লোকসভা কেন্দ্রে উন্নয়নের কাজ ধীরগতিতে হওয়ায় রাজ্য সরকারের আধিকারিকদের তীব্র ভর্ৎসনা করতে দেখা গেছে তাঁকে। জেলা উন্নয়ন সমন্বয় ও পর্যবেক্ষণ কমিটির (DISHA) বৈঠকে এই অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
এমপিএলএডিএস (MPLADS) তহবিল নিয়ে প্রশ্ন
এমপিএলএডিএস-এর আওতায় বরাদ্দ তহবিলের কথিত অব্যবহার এবং কাজের শ্লথগতি নিয়ে সোশাল মিডিয়া এক্স (X)-এ ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিতে সরব হতে দেখা গিয়েছে কঙ্গনাকে। তিনি দাবি করেন, তাঁর সাংসদ তহবিলে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও তার মাত্র অর্ধেক ব্যবহার করা হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসারদের (BDO) কাছে খরচের হিসাব চেয়ে তিনি বলেন, এর আগে আধিকারিকেরা তাঁকে ৯০ শতাংশ তহবিল খরচের আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তার মিল নেই।
ভিডিওতে আধিকারিকদের উদ্দেশ্যে কঙ্গনাকে বলতে শোনা যায়, ‘‘আমাকে এইসব অর্থহীন জুমলা দেবেন না। প্রত্যেক দিশা কমিটির বৈঠকেই আমি এগুলো শুনছি৷ এবার কাজটা করেই ফেলুন। বিষয়গুলো ‘সমাধান করার’ সময় শেষ হয়ে গিয়েছে। কঙ্গনা ১১ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছেন, অথচ একটিও কাজ করা হয়নি। এটা এতটাই অযোগ্যতা!’’
‘আধিকারিকরা আমার থেকেও ভালো অভিনয় করতে পারেন’
বৈঠকে পেশ করা খরচের পরিসংখ্যানের সঙ্গে বাস্তব চিত্রের মিল নেই অভিযোগ করে কঙ্গনা বলেন, বিভিন্ন সংস্থার অনুসন্ধানে দেখা গিয়েছে এমপিএলএডিএস-এর ৩০-৪০ শতাংশ তহবিল ভুয়ো উপভোক্তাদের দেওয়া হয়েছে এবং সেই টাকা আর উদ্ধার করা সম্ভব নয়।
রাজনীতিতে আসার পর সাংসদ হিসেবে নিজের কাজ নিয়ে জাতীয় স্তরে নিয়মিত উপহাসের শিকার হওয়ার কথাও তুলে ধরেন তিনি। ক্ষোভ প্রকাশ করে কঙ্গনা বলেন, মাণ্ডির বাসিন্দারা আটকে থাকা প্রকল্পের ছবি দিয়ে রিল পোস্ট করলেও আধিকারিকরা দফতরে বসে তাঁকে নিয়ে হাসাহাসি ও কটূক্তি করছেন। ব্যঙ্গের সুরে তিনি বলেন, “আধিকারিকরা তো আমার থেকেও ভালো অভিনয় করতে পারেন।” শেষ পর্যন্ত সমস্ত অসম্পূর্ণ প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করতে এবং তহবিলের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন বিজেপি সাংসদ।