টানা ৬ দিন আকাশে, ১০০টির বেশি সফল উদ্ধার অভিযান! নেপালের হড়পা বানে সাক্ষাৎ দেবদূত হয়ে উঠলেন মহিলা পাইলট প্রিয়া

কাদামাটির তলায় সামান্য প্রাণের সন্ধান। গত প্রায় দশ দিন ধরে নেপালের বিপর্যয়গ্রস্ত এলাকায় চলছে সেই যুদ্ধকালীন তৎপরতা। উদ্ধারকারীরা যখনই আশা হারাচ্ছেন— মনে হচ্ছে আর বোধহয় এই জায়গায় নেই কোনো প্রাণের স্পন্দন— তখনই বৈদ্যুতিন যন্ত্র জানান দিচ্ছে জীবনের উপস্থিতি। নেপালের হড়পা বানে বহু মানুষের প্রাণহানির পাশাপাশি ঘটে চলেছে একের পর এক মিরাকেল। কাদার নীচে দীর্ঘক্ষণ চাপা থাকার পরেও জীবিত উদ্ধার করা হচ্ছে মানুষকে। তবে ক্যামেরার ফ্ল্যাশলাইট বা খবরের শিরোনাম থেকে দূরে থেকে যাঁরা দিবারাত্র এক করে মানুষের প্রাণ বাঁচিয়ে চলেছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম প্রিয়া অধিকারী। নেপালের প্রথম মহিলা হেলিকপ্টার ক্যাপ্টেন প্রিয়া গত ৬ দিন ধরে টানা লড়ে চলেছেন মৃত্যুর বিরুদ্ধে। হিসেব বলছে, এই কদিনেই ১০০টিরও বেশি উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছেন তিনি।
২৬ অগাস্টের সেই ভয়ংকর সকাল
গত ২৬ অগাস্ট সকালে হঠাৎ হড়পা বানে বদলে যায় নেপালের প্রাণোচ্ছ্বল ছবিটা। কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই ধেয়ে আসে কাদাজলের বিশাল ঢেউ। কাদায় চাপা পড়ে যায় ঘরবাড়ি, পথঘাট, বাজার ও প্রান্তর। ২৭ অগাস্ট থেকে উদ্ধার অভিযান শুরু হলেও বহু এলাকায় এখনও সড়কপথে পৌঁছানো অসম্ভব। ফলে হেলিকপ্টারই একমাত্র ভরসা। নেপাল-তিব্বত বর্ডারের সবচেয়ে বিপদসংকুল এলাকা, বিশেষ করে তিমুর এবং রসুয়ার মতো জেলাগুলোতে যেখানে হড়পা বান সরাসরি আঘাত হেনেছে, সেখানে উদ্ধারকার্য চালানো অত্যন্ত কঠিন। আর এই চরম প্রতিকূল পরিস্থিতিতেই দক্ষ হাতে একের পর এক মানুষকে উদ্ধার করে আনছেন প্রিয়া।
কেবিন ক্রু থেকে পাইলট: এক অদম্য লড়াইয়ের গল্প
শুরুতে ককপিটে বসার কোনো পরিকল্পনা ছিল না প্রিয়ার। পরিবেশ বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা শেষ করে তিনি কেরিয়ার শুরু করেছিলেন ডোমেস্টিক ফ্লাইটের কেবিন-ক্রু হিসেবে। পরে এক বন্ধুর পরামর্শে হেলিকপ্টার বাহিনীতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, যা বদলে দেয় তাঁর জীবন। বাবা-মায়ের পূর্ণ সমর্থনে দীর্ঘ ট্রেনিং শেষে ২০১৭ সাল থেকে নিয়মিত হেলিকপ্টার চালাচ্ছেন তিনি। এর আগেও একাধিক বিপদসংকুল এলাকায় উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। তবে বর্তমান নেপাল সংকটে তাঁর এই সাহসিকতা নারীশক্তির এক অনন্য ইতিহাস রচনা করছে।