দলমত নির্বিশেষে বড় স্বীকৃতি! শিক্ষক দিবসে বড় সম্মান পেলেন প্রাক্তন তৃণমূল নেতা অরূপ দে

শিক্ষক দিবসের প্রাক্কালে রাজ্য রাজনীতি এবং শিক্ষামহলে এক অভাবনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করল সরকার। দলীয় মতাদর্শ বা রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে প্রকৃত যোগ্যতার মূল্যায়ন করে জলপাইগুড়ির সদর প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অরূপ দে-কে মর্যাদাপূর্ণ ‘বিদ্যাসাগর শিক্ষা সম্মান-২০২৬’-এর জন্য মনোনীত করা হয়েছে। বিগত দিনে শাসকদলের শিক্ষক সংগঠনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকা সত্ত্বেও একজন শিক্ষককে এই সম্মান প্রদান করায় রাজ্যজুড়ে ইতিবাচক আলোচনার ঝড় উঠেছে। জলপাইগুড়ি জেলা থেকে একমাত্র তাঁর এই সাফল্য অর্জন সমগ্র শহরবাসীর কাছে চরম গর্বের বিষয় হয়ে উঠেছে।

রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ইমেল মারফৎ এই সুখবর আসার পর থেকেই জলপাইগুড়ি সদর প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয় চত্বরে খুশির জোয়ার বইছে। ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা থেকে শুরু করে অভিভাবক-অভিভাবিকারা সকলেই এই ঘোষণায় অত্যন্ত আনন্দিত। শতবর্ষ প্রাচীন এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে অরূপবাবু সারা বছর ধরে বিভিন্ন গঠনমূলক কর্মসূচি এবং রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছেন। বিদ্যালয় এবং ছাত্রছাত্রীদের কল্যাণই তাঁর জীবনের একমাত্র ব্রত, যার বাস্তব স্বীকৃতি মিলল এই পুরস্কারের মাধ্যমে।

অতীতে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের সময় সরকারি পুরস্কার প্রদান নিয়ে নানা বিতর্ক ও স্বজনপোষণের অভিযোগ উঠত। অনেকেই মনে করতেন যে শাসকদল ঘনিষ্ঠ শিক্ষকরাই এই সমস্ত সম্মান পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পান। কিন্তু বর্তমান সরকার রাজনৈতিক পরিচয় বা মতাদর্শকে দূরে সরিয়ে রেখে সম্পূর্ণ যোগ্যতার ভিত্তিতে এই সম্মান প্রদান করায় প্রমাণিত হয়েছে যে সরকারের কাছে দলমতের চেয়ে কাজের মূল্যায়নই প্রধান। এই প্রসঙ্গে পুরস্কারপ্রাপক অরূপ দে অত্যন্ত আবেগঘন কণ্ঠে জানান যে তিনি অতীতে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও সরাসরি রাজনীতির মাঠে ছিলেন না। সরকার ‘আমরা-ওরা’ ভেদাভেদ না করে তাঁকে যে সম্মান দিয়েছে, তাতে তিনি অভিভূত এবং আগামী দিনেও সরকারের প্রতিটি শিক্ষা উন্নয়নমূলক কর্মসূচি সফল করতে তিনি সদা সচেষ্ট থাকবেন।

অরূপবাবুর এই অর্জনে তাঁর পরিবারেও আনন্দের রোল পড়েছে। তাঁর স্ত্রী রুমকি দে জানান যে স্কুলই তাঁর স্বামীর ধ্যান ও জ্ঞান, এবং মুখ্যমন্ত্রীর হাত থেকে এই সম্মান পাওয়ার আনন্দ তাঁরা সকলের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চান। অন্যদিকে, শিক্ষামহলের বিশিষ্ট ব্যক্তি থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় শৈখিক মহাসংঘের জেলা সভাপতি বাপন রায় পর্যন্ত সকলেই এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, একজন শিক্ষক কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসী হতেই পারেন, কিন্তু দিনশেষে তিনি সমাজ গড়ার কারিগর। সরকার তাঁর মেধা, নিষ্ঠা ও ভালো কাজকে স্বীকৃতি দিয়ে প্রমাণ করল যে বর্তমান প্রশাসন পুরোপুরি মানবিক এবং যোগ্যতার প্রকৃত মূল্যায়ন করতেই তারা বদ্ধপরিকর।