মৃত্যুর সঙ্গে ৯ দিনের পাঞ্জা লড়ে টানেল থেকে জীবিত উদ্ধার! নেপালের প্রলয়ংকরী বন্যায় অলৌকিক ফেরা ফোরম্যানের

নেপালের প্রলয়ংকরী হড়পা বান এবং ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর কেটে গেছে দীর্ঘ ৯ দিন। অবশেষে সব আশঙ্কার অবসান ঘটিয়ে অলৌকিক উপায়ে সুড়ঙ্গের গভীর অন্ধকার থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ত্রিশূলী ৩ এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ফোরম্যান সঞ্জয় শা-কে। শুক্রবার সকালে নেপাল সেনাবাহিনী এবং সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর যৌথ উদ্ধারকারী দল এই শ্বাসরুদ্ধকর ও সফল অভিযান চালায়। দীর্ঘ নয় দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর তাঁর এই অবিশ্বাস্য উদ্ধারের খবর সামনে আসতেই পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের বন্যা বয়ে গেছে।

সংবাদ সংস্থা আইএএনএস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সঞ্জয়ের স্ত্রী লক্ষ্মীকুমারী শা আবেগমথিত কণ্ঠে জানিয়েছেন, গত দশটি দিন তাঁদের পরিবারের জন্য চরম উৎকণ্ঠা ও যন্ত্রণার মধ্যে কেটেছে। সকালে স্বামীর উদ্ধারের খবর পাওয়ার পর থেকেই যেন তাঁর প্রাণ ফিরে এসেছে। তিনি দ্রুত স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে কাঠমাণ্ডুর উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। ৩০ বছর বয়সী সঞ্জয় শা নেপালের দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলা সাপতারির বাসিন্দা এবং ওই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কন্ট্রোল রুমে কর্মরত ছিলেন। আকস্মিক হড়পা বানের তোড়ে জল ও কাদা ঢুকে টানেলের ভেতর অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিলেন তিনি ও তাঁর এক সহকর্মী।

উদ্ধারের পর নেপালি সেনাবাহিনীর মেডিক্যাল টিমকে সঞ্জয় জানান, বিপর্যয় শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি নিজের কথা না ভেবে সহকর্মীদের জীবন রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা নেন। তিনি সহকর্মীদের নিরাপদ স্থানে পালিয়ে যাওয়ার জন্য জোরালো আর্জি জানান। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অন্যদের সাহায্য করতে গিয়েই তাঁর কিছুটা মূল্যবান সময় নষ্ট হয়ে যায় এবং শেষ পর্যন্ত তিনি সুড়ঙ্গ থেকে বের হতে পারেননি।

সঞ্জয়ের সঙ্গে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের অটোমেশন বিভাগের সুপারভাইজার ৪৫ বছর বয়সী কবির মহারজনকেও জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। ৯ দিন ধরে আলোর লেশমাত্রহীন সুড়ঙ্গের ভেতরে জল ও কাদায় আটকে থেকে কীভাবে তাঁরা বেঁচে রইলেন, তা চিকিৎসকদের কাছেও বিস্ময়কর। এই ঘটনার পর সঞ্জয় শা যেন নতুন জীবন ফিরে পেয়েছেন। বিপর্যয়ের মুখ থেকে তাঁর এই ফিরে আসা নেপাল ও ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকায় এক অবিশ্বাস্য অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে উঠেছে।