বাবা-মায়েরও ইন্টারভিউ নেয় পড়ুয়ারা! ৭ লোক কল্যাণ মার্গের চায়ের কাপে মোদীর কোন হাসির খোরাক ভাইরাল?

শুক্রবার জাতীয় শিক্ষক দিবস উপলক্ষে দিল্লির ৭ লোক কল্যাণ মার্গে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত জাতীয় শিক্ষক পুরস্কার বিজয়ীদের সঙ্গে এক বিশেষ ও খোলামেলা বৈঠকে মিলিত হন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ মোদী। প্রায় ঘণ্টাখানেক ধরে চলা এই আলোচনায় পড়াশোনা ও সিলেবাসের গণ্ডি পেরিয়ে উঠে আসে ছাত্রছাত্রীদের মানসিক বিকাশ, আধুনিক জীবনের নানা চ্যালেঞ্জ এবং শিক্ষক সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার মতো নানা দিক।

প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে এই আলাপচারিতায় উঠে আসে একাধিক হালকা ও রসাত্মক মুহূর্ত। এক শিক্ষিকা প্রধানমন্ত্রীকে জানান যে তিনি তাঁর ছাত্রছাত্রীদের মজার ছলে ইন্টারভিউ নেওয়া শেখাচ্ছেন। এই কথা শুনেই সঙ্গে সঙ্গে মোদী রসিকতা করে বলেন, ‘তাহলে তো ওরা বাড়িতে বাবা-মায়েরও ইন্টারভিউ নেয়! যেমন, আজ এটা কেন রান্না করলে? বাজেট কত খরচ হলো?’ প্রধানমন্ত্রীর এই রসিকতায় খিলখিল করে হেসে ওঠেন উপস্থিত সকলেই।

আরেকটি মজার মুহূর্তে পাবলিক স্পিকিং শেখানো এক শিক্ষিকা প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, ‘স্যরি স্যার… আপনার অরা দেখে আমি নিজেই একটু নার্ভাস হয়ে গিয়েছি।’ এর উত্তরে মুচকি হেসে মোদী পালটা প্রশ্ন করেন, ‘তার মানে আপনি বলতে চাইছেন ভালো বক্তা হওয়ার জন্য অরা থাকা উচিত নয়?’ শিক্ষিকা সঙ্গে সঙ্গে জবাব দেন, ‘না না, অবশ্যই থাকা উচিত। আপনার তো সেটা আছেই।’ মোদী তখন রসিকতা করে বলেন, ‘তাহলে তো লোকে শুনবেই না, শুধু আপনার অরার দিকেই তাকিয়ে থাকবে!’

তবে শুধু হাসিখুশি আড্ডাই নয়, বর্তমান প্রজন্মের বিভিন্ন গুরুতর সমস্যা নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। আজকের দিনে শিশুদের অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম বা মোবাইল আসক্তিকে এক মারাত্মক ব্যাধি বলে উল্লেখ করে তিনি জানান, এর থেকে শিশুদের মুক্ত করতে হলে মাঠে নেমে খেলাধুলা এবং সৃজনশীল কাজে যুক্ত করার বিকল্প নেই। পাশাপাশি স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে ছড়িয়ে পড়া ড্রাগসের নেশা নিয়েও শিক্ষকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

মহিলাদের স্বাস্থ্য সচেতনতা প্রসঙ্গে কাশী ও স্তন ক্যান্সার নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথাও শেয়ার করেন মোদী। এছাড়া একলব্য মডেল রেসিডেন্সিয়াল স্কুলের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, প্রথম প্রজন্মের যে পড়ুয়ারা অতীতে কখনো স্কুলের মুখ দেখেনি, আজ তাদের সন্তানরা আইআইটি এবং এনআইটি-র মতো প্রতিষ্ঠানে পড়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে। সবশেষে মোদী গোটা শিক্ষক সমাজের কাছে আবেদন রেখে বলেন, পড়াশোনার গণ্ডির বাইরে এসে বাচ্চাদের শৈশবকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে এবং তাদের ভেতরের সুপ্ত প্রতিভা ও শিশুসুলভ মনকে টিকিয়ে রাখার সবচেয়ে বড় কাজটি করতে হবে একজন শিক্ষককেই।