কেরিয়ারের চূড়ায় উঠেও কেন হঠাৎ অভিনয় ছাড়লেন জয়া? অমিতাভ বচ্চনকে নিয়ে ফাঁস হল অজানা তথ্য!

অভিনেত্রী হিসেবে একের পর এক সফল ছবি উপহার দিয়ে বলিউডে নিজের শক্ত ভিটে তৈরি করেছিলেন জয়া বচ্চন। ‘গুড্ডি’, ‘অভিমান’, ‘জঞ্জির’-এর মতো কালজয়ী সিনেমাগুলিতে তাঁর অনবদ্য অভিনয় আজও দর্শকের মনে অমর হয়ে আছে। কিন্তু সুপারস্টার অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর অভিনেত্রীর জীবনের অগ্রাধিকার ও সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে যায়। গ্ল্যামারাস লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশনের দুনিয়া থেকে সরে এসে তিনি সংসার এবং সন্তানদের লালন-পালনকে নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হিসেবে বেছে নেন। সম্প্রতি তাঁর জীবনের সেই সুবর্ণ দিনের নানা অজানা ও রোমাঞ্চকর দিক ফের সোশ্যাল মিডিয়ায় এবং সংবাদমাধ্যমের চর্চায় উঠে এসেছে।

অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে বিয়ের সময় দু’জনেই বলিউডের সবচেয়ে ব্যস্ত ও জনপ্রিয় তারকা ছিলেন। কিন্তু প্রথম সন্তানের জন্মের পর জয়া অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নেন যে, পরিবারের পাশে থাকা এবং সন্তানদের মানুষ করাই তাঁর কাছে সর্বাগ্রে। ছেলে অভিষেক এবং মেয়ে শ্বেতাকে সুশিক্ষায় বড় করার দায়িত্ব তিনি সম্পূর্ণ নিজের কাঁধে তুলে নেন। তবে এর মানে এই নয় যে সিনেমার জগত থেকে তাঁর চিরতরে বিচ্ছেদ ঘটেছিল। বরং পরিবারের সমস্ত দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি স্বামী অমিতাভ বচ্চনের পেশাগত জীবনের প্রতিও তাঁর গভীর নজর ও সমর্থন ছিল। অমিতাভ যখন বিভিন্ন বহুদূরের লোকেশনে শুটিংয়ে ব্যস্ত থাকতেন, তখন তাঁর সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ বজায় রাখার জন্য জয়া নাকি নানা রকমের ছোট ছোট নোট বা চিঠি লিখে পাঠাতেন। সেই হাতে লেখা চিঠির মাধ্যমেই কখনও কাজের খবরাখবর, কখনও বা ব্যক্তিগত আবেগ ও অনুভূতি স্বামীর কাছে পৌঁছে দিতেন তিনি, যা তাঁদের সুদীর্ঘ দাম্পত্যের এক অনন্য নিদর্শন।

জয়া ও অমিতাভের বিবাহিত জীবনের শুরুর বছরগুলি ছিল চরম ব্যস্ততা ও খ্যাতির মধ্যগগনে। দুজনেরই শিডিউল তখন এতটাই কঠিন ছিল যে একসঙ্গে সময় কাটানোই দায় হয়ে উঠেছিল। তা সত্ত্বেও সংসারের মূল দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিয়ে সন্তানদের বেড়ে ওঠার প্রতিটি মুহূর্ত নিজের চোখের সামনে উপভোগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন জয়া। পরবর্তীকালে অবশ্য তিনি রূপোলি পর্দায় কামব্যাক করেন, কিন্তু তাঁর কেরিয়ারের ধরন সম্পূর্ণ বদলে যায়। আগের মতো ঘন ঘন ছবি না করে তিনি অত্যন্ত বেছে বেছে এবং মেজাজি চরিত্রে অভিনয় করা শুরু করেন। ‘কভি খুশি কভি গম’, ‘কাল হো না হো’, কিংবা সাম্প্রতিককালের ‘রকি অউর রানি কি প্রেম কাহানি’—প্রতিটি ছবিতেই তাঁর পরিণত অভিনয় প্রমাণ করে দিয়েছে যে জয়া বচ্চন আজও অভিনয়ের জাদুকরি প্রতিভা ধরে রেখেছেন।

জয়ার জীবনের এই অধ্যায়টি নিছকই একজন জনপ্রিয় তারকার কেরিয়ারে সাময়িক বিরতির গল্প নয়। এটি ত্যাগ, পরিবারপ্রীতি এবং মাতৃত্বকে জীবনের সর্বোচ্চ আসনে বসানোর এক ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত। নিজের পছন্দ ও পেশাকে বিসর্জন দিয়ে যেভাবে তিনি বচ্চন পরিবারকে আগলে রেখেছিলেন, তা আজও বলিউডের সোনালী ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত এবং অনুপ্রেরণামূলক অধ্যায় হিসেবে সমাদৃত।