বলিউডের জঘন্য অন্ধকার দিক নিয়ে মুখ খুললেন শ্রেয়া ঘোষাল! ‘সোশ্যাল মিডিয়ার আগের দিনগুলোয় কী ভয়ানক অবস্থা ছিল নারীদের?’

বলিউডে কাস্টিং কাউচ এবং কাজের বিনিময়ে আপস করার বিতর্ক আজও অত্যন্ত পুরনো হলেও এখনও তা সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। ইন্ডাস্ট্রিতে কাজের সুযোগ পাওয়ার জন্য বহু নারীকে অতীতে চরম অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে—এমন অভিযোগ বারবার সামনে এসেছে। এবার এই স্পর্শকাতর বিষয় নিয়েই মুখ খুললেন দেশের অন্যতম সেরা জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী শ্রেয়া ঘোষাল। ইন্ডাস্ট্রিতে কাস্টিং কাউচের মতো ঘটনা যে নির্মম বাস্তব, তা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় স্বীকার করে নিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে তাঁর স্পষ্ট মন্তব্য, সোশ্যাল মিডিয়া এবং ইন্টারনেটের যুগ আসার আগের সময়ে বলিউডে কাজ করা মহিলাদের জন্য পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ ও কঠিন ছিল।
সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে নিজের বর্ণময় কেরিয়ারের শুরুর দিনগুলির স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে শ্রেয়া জানান, তিনি মাত্র ১৩ বছর বয়স থেকে পেশাদার গান গাওয়া শুরু করেছিলেন। তবে সেই কঠিন সময়ে তাঁর সুরক্ষার সবচেয়ে বড় বর্ম ছিল তাঁর বাবা-মায়ের কড়া উপস্থিতি। কাজের জায়গায় প্রায় প্রতিটি পদক্ষেপে বাবা-মা সঙ্গে থাকায় কেউ তাঁর সঙ্গে কোনো রকম খারাপ ব্যবহার করার বা কুপ্রস্তাব দেওয়ার সাহস পাননি। শ্রেয়ার পরিষ্কার অভিমত, বর্তমান ডিজিটাল যুগ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি ঘটালেও, অতীতে মহিলা শিল্পীদের প্রতিনিয়ত পদে পদে লড়াই করতে হয়েছে। যদিও ব্যক্তিগতভাবে তাঁকে এই ধরনের কোনো নোংরা অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়নি, তবুও ইন্ডাস্ট্রির বাকিদের ওপর চলা সেই নৃশংস শোষণকে তিনি অস্বীকার করেননি।
শুধু কাস্টিং কাউচ বা জেন্ডার বৈষম্যই নয়, শ্রেয়া খোলামেলা আলোচনা করেছেন প্লেব্যাক গায়কদের পারিশ্রমিক নিয়ে চলা প্রচলিত মিথ নিয়েও। তাঁর মতে, পারিশ্রমিক নিয়ে বাইরে যতটা জলঘোলা হয়, তার বেশিরভাগটাই ভুল ধারণার ওপর প্রতিষ্ঠিত। কেরিয়ারের শুরুর দিকে তিনিও নিজের পসার জমানোর তাগিদে বহু গান সম্পূর্ণ বিনা পারিশ্রমিকে বা অবৈতনিকভাবেই গেয়েছেন। শুধুমাত্র পুরুষ বা নারী হওয়ার কারণেই যে সবসময় পারিশ্রমিকের তারতম্য ঘটে, এমনটা নয়; বরং পুরুষ শিল্পীদেরও কেরিয়ারের শুরুর দিকে চরম আর্থিক টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। সঞ্জয় লীলা ভনশালির ‘দেবদাস’ ছবির ‘ব্যায়রি পিয়া’ গানের জাদুতে রাতারাতি লাইমলাইটে আসা এই গায়িকার এহেন সাহসী ও সত্যপন্থী মন্তব্য এখন গোটা বিনোদন দুনিয়ায় নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।