পড়াশোনার টাকার চিন্তা শেষ! এসবিআই দিচ্ছে ১৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত স্কলারশিপ, আজই আবেদন করুন

আর্থিক অনটনের কারণে কৃতি শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন যাতে মাঝপথে থেমে না যায়, সেই লক্ষ্যে এক বিশাল সুযোগ নিয়ে এল স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (SBI)। এসবিআই ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে শুরু হয়েছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় ‘এসবিআই প্ল্যাটিনাম জুবিলি আশা স্কলারশিপ ২০২৬-২৭’-এর আবেদন প্রক্রিয়া। এই প্রকল্পের আওতায় নবম শ্রেণি থেকে শুরু করে স্নাতকোত্তর এবং এমনকি বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে ইচ্ছুক মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের জন্য ১৫,০০০ টাকা থেকে শুরু করে একেবারে ১৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখে এই বৃত্তির আবেদনের সময়সীমা বাড়িয়ে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ পর্যন্ত করা হয়েছে। আগ্রহীরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অনলাইনেই এই স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে পারবেন। কোন স্তরে কত টাকা পর্যন্ত বৃত্তি মিলবে, এক নজরে দেখে নেওয়া যাক তার বিশদ বিবরণ:
নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি: এই স্তরের শিক্ষার্থীরা বার্ষিক সর্বোচ্চ ১৫,০০০ টাকা পর্যন্ত বৃত্তি পেতে পারে। এর জন্য পূর্ববর্তী পরীক্ষায় ন্যূনতম ৭৫ শতাংশ নম্বর (এসসি/এসটিদের জন্য ৬৫% এবং বিশেষভাবে সক্ষমদের জন্য ৬০%) থাকা বাধ্যতামূলক। পরিবারের বার্ষিক আয় ৩ লক্ষ টাকার বেশি হওয়া যাবে না।
স্নাতক স্তর: এনআইআরএফ (NIRF) র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ৩০০টি প্রতিষ্ঠান বা ন্যাক (NAAC) ‘এ’ বা তদূর্ধ্ব গ্রেডপ্রাপ্ত কলেজের স্নাতক পড়ুয়ারা সর্বোচ্চ ৭৫,০০০ টাকা পর্যন্ত সহায়তা পাবেন। এক্ষেত্রে পরিবারের বার্ষিক আয়সীমা ৬ লক্ষ টাকা ধার্য করা হয়েছে।
স্নাতকোত্তর ও পেশাদার কোর্স: স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীরা দেড় লক্ষ টাকা পর্যন্ত এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় এমবিবিএস (NEET স্কোরসহ) ও আইআইটি পড়ুয়ারা ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বৃত্তি পাবেন। এছাড়া আইআইএম-এ এমবিএ বা পিজিডিএম করার জন্য মিলবে সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত অনুদান।
বিদেশে উচ্চশিক্ষা: কিউএস টপ ২০০ (QS Top 200) তালিকার অন্তর্ভুক্ত বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর বা উচ্চতর পড়াশোনা করতে যাওয়া ভারতীয় শিক্ষার্থীরা সর্বোচ্চ ১৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত স্কলারশিপের সুবিধা পেতে পারেন। এর জন্য জিআরই, জিম্যাট বা সমতুল্য প্রবেশিকা পরীক্ষার স্কোর থাকা আবশ্যক।
কীভাবে আবেদন করবেন? আগ্রহী ও যোগ্য প্রার্থীদের প্রথমে এসবিআই আশা স্কলারশিপের অফিশিয়াল পোর্টালে গিয়ে নিজের অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে। এরপর সঠিক বিভাগ নির্বাচন করে অনলাইন আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে। আবেদনের সময় মার্কশিট, পরিচয়পত্র, আয়ের প্রমাণপত্র, ব্যাঙ্ক পাসবুক এবং নির্দিষ্ট প্রবেশিকা পরীক্ষার স্কোরকার্ডের মতো প্রয়োজনীয় নথিপত্র আপলোড করতে হবে। নথি যাচাই এবং সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত প্রার্থীদের টেলিফোনিক ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে চূড়ান্ত নির্বাচন করা হবে। আর্থিক প্রতিবন্ধকতা জয় করে পড়াশোনাকে এগিয়ে নিতে এই সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া না করে দ্রুত আবেদন সেরে ফেলুন।