কুখ্যাত পাথর মাফিয়া টুলু মণ্ডলের সাম্রাজ্যে বড় ধাক্কা! ভোরবেলা কমব্যাট ফোর্স নিয়ে কোথায় হানা দিল পুলিশ?

রাজ্যের অপরাধ জগতের অন্যতম আলোচিত ও প্রভাবশালী নাম বীরভূমের কুখ্যাত পাথর মাফিয়া টুলু মণ্ডল। শত কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতি এবং অবৈধ পাথর পাচার মামলায় ফেরার থাকার পর এবার তার বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে পুলিশ প্রশাসন। শুক্রবার ভোররাত থেকেই সিউড়ির অরবিন্দপল্লী এলাকায় টুলু মণ্ডলের মালিকানাধীন একটি সুরক্ষিত বাড়িতে আকস্মিক তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে বীরভূম জেলা পুলিশের বিশেষ দল। আইন-শৃঙ্খলার যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পুরো বাড়িটি কমব্যাট ফোর্স বা বিশেষ কমব্যাট বাহিনীর জওয়ানদের দিয়ে সম্পূর্ণ ঘিরে ফেলা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে এবং পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, অরবিন্দপল্লীর এই বিলাসবহুল বাড়িটি সরাসরি টুলু মণ্ডলের নামেই নথিভুক্ত রয়েছে। মাঝে মধ্যেই সে এই বাড়িতে এসে লুকিয়ে থাকত বলে প্রতিবেশীরা দাবি করেছেন। তবে বর্তমানে বাড়িটিতে টুলুর বিশ্বস্ত ম্যানেজার ছোটন থাকত বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। পাথর পাচার কাণ্ডে ইতিপূর্বে গ্রেফতার হওয়া একাধিক অভিযুক্তকে লাগাতার জেরা করার পরেই ছোটনের এই ঠিকানার সন্ধান পায় তদন্তকারী আধিকারিকরা।

উল্লেখ্য, কয়েকশো কোটি টাকার আর্থিক তছরুপের অভিযোগে ইতিমধ্যেই টুলু মণ্ডলের বিরুদ্ধে সিউড়ি আদালত থেকে কঠোর ‘হুলিয়া’ জারি করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, অপরাধের জাল আন্তর্জাতিক স্তরে বিস্তৃত থাকায় ইন্টারপোলের সাহায্য নিয়ে তার বিরুদ্ধে ‘রেড কর্নার’ নোটিশও জারি করা হয়েছে। সম্প্রতি টুলুরই এক আত্মীয় মহম্মদ মফিজুদ্দিন ওরফে শান্ত শেখের গাড়ি থেকে থাইল্যান্ডসহ একাধিক বিদেশি মুদ্রার নোট উদ্ধার করে বীরভূম পুলিশ, যা এই তদন্তকে আরও তীব্র করে তুলেছে।

আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সিউড়ি জেলা আদালতের বিচারক কড়া নির্দেশিকা জারি করেছেন। নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ১৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে টুলু মণ্ডল যদি আদালতে আত্মসমর্পণ না করে, তবে তার সমস্ত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি সরাসরি সরকারের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হবে। এমনকি এরপর তাকে আইনত ‘ঘোষিত অপরাধী’ হিসেবে ঘোষণা করা হবে।

প্রসঙ্গত, ‘পাথর-সম্রাট’ হিসেবে পরিচিত টুলুর এক আত্মীয় মীনাক্ষী মণ্ডলের বাড়ি থেকে এর আগে তল্লাশি চালিয়ে সাড়ে আঠাশ কোটি নগদ টাকা এবং ১৫ কেজি ওজনের সোনার বাট উদ্ধার করেছিল পুলিশ। এখানেই শেষ নয়, টুলু মণ্ডলের সঙ্গে আর্থিক যোগসাজশ থাকার অভিযোগে অনুব্রত মণ্ডলের তৎকালীন দেহরক্ষী সায়গল হোসেনের বাসভবনেও হানা দিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ও পাকিস্তানের মুদ্রা উদ্ধার করেছিল তদন্তকারীরা। একে একে সমস্ত গোপন আস্তানা এবং আর্থিক দুর্নীতির উৎস খুঁজে বের করতে বর্তমানে মরিয়া হয়ে উঠেছে পুলিশ প্রশাসন।