মোদি-অমিত শাহের থেকেও বড় দেশপ্রেমিক ওয়েইসি! চরম শত্রুতার পরেও কংগ্রেস নেতার মুখে এ কোন কথা?

জাতীয় রাজনীতিতে কংগ্রেস এবং এআইএমআইএম একে অপরের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পরিচিত হলেও, তেলেঙ্গানার বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ এক নতুন ইঙ্গিত বহন করছে। আসাদউদ্দিন ওয়েইসি কি আদতে বিজেপির সহযোগী নাকি কংগ্রেস শিবিরের বন্ধু—এই প্রশ্ন দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক মহলে ঘুরে বেড়াত। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাবলি প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, আঞ্চলিক স্বার্থ এবং রাজনৈতিক কৌশলগত বাস্তবতাবাদের জেরে তেলেঙ্গানায় ওয়েইসি ও মুখ্যমন্ত্রী এ রেবন্ত রেড্ডির সম্পর্ক এখন এক অভিনব ও কৌশলগত বন্ধুত্বের রূপ নিয়েছে।
সংসদের ভেতর ও বাইরে বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে রাহুল গান্ধী কিংবা কংগ্রেসের কঠোর সমালোচক হিসেবে পরিচিত ওয়েইসি। এমনকি অতীতে ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারের সময় রেবন্ত রেড্ডিকে “আরএসএস-আন্না” বলে কটাক্ষ করতেও পিছপা হননি তিনি। অন্যদিকে, রেবন্ত রেড্ডিও হায়দ্রাবাদের এই সাংসদকে বিজেপির “বি-টিম” হিসেবে আক্রমণ করেছিলেন। কিন্তু বর্তমানে রাজ্যে কংগ্রেস সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেই পুরনো তিক্ততা উবে গেছে। সম্প্রতি এক জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি ও ওয়েইসিকে প্রকাশ্যে একই মঞ্চে দেখা যায়, যা রাজনৈতিক মহলে তীব্র শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
মঞ্চে দাঁড়িয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে ওয়েইসি ঘোষণা করেন যে, তারা সুনির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক দলকে নয়, বরং মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডির নেতৃত্বকে সমর্থন করছেন। বিশেষ করে যখন মুখ্যমন্ত্রী দলের অন্দরে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহের মুখে পড়েছেন, ঠিক সেই সময় ওয়েইসির এই প্রকাশ্য সমর্থন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, রেবন্ত রেড্ডিও পাল্টা মন্তব্যে ওয়েইসির প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন এবং দাবি করেন যে, দেশপ্রেমের ক্ষেত্রে ওয়েইসি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের চেয়ে কোনো অংশে কম নন।
এই অপ্রত্যাশিত রাজনৈতিক সখ্য গড়ে ওঠার পেছনে রয়েছে গভীর সমীকরণ। তেলেঙ্গানার মোট জনসংখ্যার প্রায় ১২.৭ থেকে ১৭ শতাংশ মানুষ মুসলিম সম্প্রদায়ের এবং তারা রাজ্যের অন্তত ৪০টি বিধানসভা আসনে নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে হায়দ্রাবাদ শহরে মুসলিম ভোটারদের প্রভাব প্রায় ৩০ শতাংশ। ফলে ওয়েইসির এই সমর্থন শুধু রেবন্ত রেড্ডিকে দলের ভেতরে কোণঠাসা অবস্থা থেকে মুক্তি দিতে সাহায্য করছে না, বরং আগামী ২০২৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে কংগ্রেস সরকারের ভিতও শক্ত করছে। অন্যদিকে, ওয়েইসির জন্যও এই সমীকরণ প্রশাসনিক ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারের পথ প্রশস্ত করেছে। সব মিলিয়ে আদর্শগত দ্বন্দ্ব ভুলে তেলেঙ্গানায় এই দুই নেতার পারস্পরিক রাজনৈতিক উপযোগিতার সম্পর্ক এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।