পড়াশোনার খরচ নিয়ে আর চিন্তা নেই! মোদী সরকারের এই দুর্দান্ত স্কলারশিপে সরাসরি অ্যাকাউন্টে ঢুকবে ১২ হাজার টাকা!

অভাবের তাড়নায় বহু মেধাবী ছাত্রছাত্রীর পড়াশোনা মাঝপথে থেমে যাওয়ার উপক্রম হয়। আর্থিক সংকটের কারণে ভালো ফল করেও অনেকে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণ করতে ব্যর্থ হন। দেশের তরুণ প্রজন্মের এই শিক্ষাগত দুর্দশার কথা গভীরভাবে উপলব্ধি করে মোদী সরকার এক যুগান্তকারী ও বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের অধীনস্থ স্কুল শিক্ষা ও স্বাক্ষরতা দফতরের ব্যবস্থাপনায় চালু হয়েছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ‘ন্যাশনাল মিনস কাম মেরিট স্কলারশিপ’ (NMMSS)। এই প্রকল্পের আওতায় যোগ্য ছাত্রছাত্রীদের প্রতি বছর ১২ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়, যা তাদের অ্যাকাউন্টে সরাসরি পাঠানো হয়। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের এই বৃত্তির জন্য আবেদনের শেষ তারিখ আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। তাই সময় নষ্ট না করে আগ্রহী প্রার্থীদের দ্রুত আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এই মর্যাদাপূর্ণ স্কলারশিপের সুবিধা পাওয়ার জন্য কিছু সুনির্দিষ্ট যোগ্যতার মাপকাঠি নির্ধারণ করেছে মন্ত্রক। প্রথমত, আবেদনকারী শিক্ষার্থীর অভিভাবক বা পরিবারের বার্ষিক মোট আয় ৩.৫০ লক্ষ টাকার বেশি হওয়া চলবে না। দ্বিতীয়ত, ছাত্রছাত্রীদের সপ্তম শ্রেণির চূড়ান্ত পরীক্ষায় কমপক্ষে ৫৫ শতাংশ নম্বর বা সমতুল্য গ্রেড পেয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে। তবে তফশিলি জাতি (SC) এবং তফশিলি উপজাতি (ST) ভুক্ত পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে নম্বরের যোগ্যতার শর্তে ৫ শতাংশের বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে। মূলত দেশের দুঃস্থ ও মেধাবী পড়ুয়ারা যাতে আর্থিক অনটনের মুখে পড়ে পড়াশোনা বন্ধ করতে বাধ্য না হন, সেদিকে লক্ষ্য রেখেই এই কেন্দ্রীয় প্রকল্পের রূপায়ণ ঘটানো হয়েছে।
প্রতি বছর নবম শ্রেণianর প্রায় ১ লক্ষ নতুন মেধাবী ছাত্রছাত্রীকে এই কেন্দ্রীয় বৃত্তির আওতায় নির্বাচিত করা হয়। সংশ্লিষ্ট রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের নির্ধারিত বৃত্তি নির্বাচন বা ট্যালেন্ট সার্চ পরীক্ষায় সফল প্রার্থীদের এই স্কলারশিপ প্রদান করা হয়ে থাকে। সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে আবেদনের ক্ষেত্রে দুটি ধাপে যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়—প্রথমে ইনস্টিটিউট নোডাল অফিসার এবং পরবর্তীতে জেলা নোডাল অফিসারের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করা হয়।
শিক্ষাকে সর্বস্তরে পৌঁছে দিতে এবং ড্রপআউট হার কমাতে সরকারের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। আপনি বা আপনার পরিচিত কেউ যদি এই সমস্ত যোগ্যতার শর্ত পূরণ করেন, তবে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অফিশিয়াল পোর্টাল বা নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আবেদন সেরে ফেলুন। কেন্দ্রের এই আর্থিক অনুদান দুঃস্থ পরিবারের তরুণ মেধাবীদের স্বপ্ন পূরণে এক নতুন দিগন্ত খুলে দেবে বলেই মনে করছেন শিক্ষামহল।