ডিএ জট কাটাতে এবার সরাসরি দিল্লিতে মহা বৈঠক! সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বড় পদক্ষেপ!

রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের মহার্ঘভাতা বা ডিএ সংক্রান্ত জটিলতা কাটাতে এবার আসরে নামছে দেশের শীর্ষ আদালত। আইনি টানাপোড়েন এবং বকেয়া মেটানোর প্রক্রিয়াকে চূড়ান্ত রূপ দিতে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর শনিবার দিল্লির মাটিতে বসতে চলেছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গঠিত প্রাক্তন বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বাধীন বিশেষ কমিটির সঙ্গে সমস্ত সরকারি কর্মচারী সংগঠন এবং তাদের আইনজীবীদের এই মুখোমুখি আলোচনার ডাক দেওয়া হয়েছে। অর্থ দফতরের পাঠানো সরকারি চিঠির মাধ্যমে এই বৈঠকের নির্দিষ্ট দিনক্ষণ ও স্থান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
মূলত রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের একাংশের অভিযোগ, তারা এখনও পর্যন্ত সম্পূর্ণ মহার্ঘভাতা পাননি কিংবা যা পেয়েছেন তা প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট নয়। এই সমস্ত অসন্তোষ এবং বকেয়া মেটানোর জটিল হিসাব-নিকাশ খতিয়ে দেখতেই বিচারপতি সঞ্জয় কারল ও বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রের বেঞ্চ এই বিশেষ কমিটি গঠন করে দিল্লি বৈঠকে বসার নির্দেশ দিয়েছিল। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ২৭ অক্টোবর এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে এবং তার আগে আগামী আট সপ্তাহের মধ্যে কমিটিকে পুরো প্রক্রিয়ার বিশদ হলফনামা আদালতে জমা দিতে হবে।
বৈঠকের প্রস্তুতি হিসেবে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর শনিবারের মধ্যে সমস্ত কর্মচারী সংগঠনকে তাদের সুনির্দিষ্ট লিখিত বক্তব্য ই-মেইলের মাধ্যমে কমিটির কাছে পাঠিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহেতা আদালতে জানিয়েছিলেন যে, ইতিমধ্যেই কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ বাবদ প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। তা সত্ত্বেও ১০০ শতাংশ ডিএ পাওয়ার দাবিতে অনড় রয়েছেন কর্মীরা। অন্যদিকে, সুপ্রিম কোর্টের গঠিত কমিটির কাছে রাজ্য সরকার বকেয়ার ৮৫ শতাংশ মেটানো এবং ১৫ শতাংশ ছাড় দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে। পাশাপাশি, ২০০৮ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহে সময় লাগায় ওই মেয়াদের বকেয়া আগামী দু’বছরে চারটি সমান কিস্তিতে পরিশোধ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
তবে সরকারের এই আংশিক বকেয়া মেটানোর ফর্মুলায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন কর্মচারীরা। তাদের স্পষ্ট প্রশ্ন, কেন তাদের সম্পূর্ণ বা ১০০ শতাংশ ডিএ দেওয়া হবে না? এর পাশাপাশি ‘গ্রান্টস ইন এড’ বা সাহায্যপ্রাপ্ত সংস্থার কর্মীরাও এখনও পর্যন্ত মহার্ঘভাতা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। এই সমস্ত পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এবং অমীমাংসিত বিষয়গুলোর আইনি ও স্থায়ী সমাধানসূত্র বের করতেই এই দ্বিপাক্ষিক আলোচনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে।
শীর্ষ আদালতের নির্দেশ মেনে বৈঠকে কোন কোন প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবেন, তার একটি স্পষ্ট তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে। কনফেডারেশন অফ স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজের পক্ষ থেকে বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন আইনজীবী ফিরদৌস শামিম, গোপা বিশ্বাস এবং সংগঠনের প্রতিনিধি শ্যামল কুমার মিত্র। অন্য একটি কর্মচারী সংগঠনের পক্ষে অংশ নেবেন বিশিষ্ট আইনজীবী করুণা নন্দী, বিপুল কুমার ও সংগঠনের প্রতিনিধি মৃন্ময় শ্রীমানি। এছাড়া সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের পক্ষে জোরালো সওয়াল করতে বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন আইনজীবী অভিজিৎ উপাধ্যায় এবং সংগঠনের কনভেনর ভাস্কর ঘোষ। আগামী ১২ সেপ্টেম্বর শনিবার বিকেল ঠিক পাঁচটায় দিল্লির এই হাই-ভোল্টেজ বৈঠকে ঠিক কী সিদ্ধান্ত উঠে আসে, সেদিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে লক্ষ লক্ষ রাজ্য সরকারি কর্মচারী।