হরমুজ বন্ধ, ইজরায়েলেও বড় ধাক্কা! নিজের ফাঁদেই কি আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে পড়লেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প?

ইরাক যুদ্ধের পর পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার সবচেয়ে বড় সামরিক পদক্ষেপ হিসেবে যাকে মনে করা হচ্ছিল, সেই ইরান যুদ্ধই এখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা এবং দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনেইর মৃত্যুর পর থেকেই শুরু হয় নতুন সমীকরণ। হোয়াইট হাউসের পরিকল্পনা ছিল তেহরানকে ভেঙে ওয়াশিংটনের অনুকূলে আঞ্চলিক ব্যবস্থা পুনর্গঠন করা। কিন্তু বাস্তবে ঘটছে ঠিক তার উল্টোটা। যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ইরান সামরিকভাবে কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও রাজনৈতিকভাবে অনেক বেশি সংহত হয়ে উঠেছে, যা মার্কিন প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

সবচেয়ে বড় আঘাত এসে লেগেছে কৌশলগত হরমুজ প্রণালীতে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ইরানের পাল্টা অবরোধের কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ কার্যত বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। মার্কিন ও আন্তর্জাতিক জাহাজগুলিকে পারাপারের জন্য এখন তেহরানের অনুমতি নিতে হচ্ছে, যা বিশ্ব বাণিজ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। শুধু তাই নয়, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের সবচেয়ে বড় কূনৈতিক সাফল্য অর্থাৎ ‘আব্রাহাম চুক্তি’ এখন পুরোপুরি ভেঙে পড়ার মুখে। সৌদি আরব ও পাকিস্তানের পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে তুরস্ক যুক্ত হয়ে ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ গড়ে তোলার পর মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার একাধিপত্যও বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে।

এদিকে, চলতি বছরের অক্টোবরে ইজরায়েলে আসন্ন নির্বাচন ট্রাম্প ও বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সম্পর্কে বড় ফাটল ধরিয়েছে। গাজা পরিকল্পনা থেকে শুরু করে যুদ্ধবিরতি নিয়ে দুই নেতার মতবিরোধ প্রকাশ্যে চলে এসেছে। অন্যদিকে, আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও ট্রাম্পের এই নীতি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ দানা বাঁধছে। সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের এই জটিল সংঘাতে মার্কিন প্রভাব ক্রমশ সঙ্কুচিত হয়ে আসায় ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শাসনকাল এক বিরাট ভূ-রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে।