বাচ্চাদের ডায়েটে মারাত্মক ভুল করছেন না তো? জন্মের পর প্রথম ২ বছর এই বিষাক্ত উপাদানটি ভুলেও মুখে দেবেন না!

শিশুদের মুখে মিষ্টি তুলে দেওয়ার আগে সাবধান! অজান্তেই আপনি আপনার সন্তানের শরীরে মারণ রোগের বীজ বপন করছেন না তো? সম্প্রতি মার্কিন গবেষণা সংস্থা পিএনএএস (PNAS)-এর একটি চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিশুর জীবনের প্রথম দুই বছর বা প্রথম ১০০০ দিনে যদি তাকে চিনি বা মিষ্টি জাতীয় খাবার থেকে দূরে রাখা যায়, তবে ভবিষ্যতে তার শরীরে ক্যান্সার এবং টাইপ ২ ডায়াবেটিসের মতো মারাত্মক রোগের ঝুঁকি বহুলাংশে কমে যায়।
ব্রিটেনের একটি ঐতিহাসিক ঘটনার ওপর ভিত্তি করে এই গবেষণাটি চালানো হয়। ১৯৫৩ সালে সেখানে চিনির রেশনিং ব্যবস্থা তুলে নেওয়ার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে চিনির ব্যবহার রাতারাতি দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছিল। সেই সময়ের প্রায় ৬৪ হাজার প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের স্বাস্থ্য ডেটা বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা দেখতে পেয়েছেন, শৈশবের প্রথমভাগে কম চিনি খাওয়ার অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যের জন্য কতটা সুরক্ষাদায়ক। অথচ আমাদের দেশে নতুন মায়েরা প্রায়শই না বুঝে জন্মের পরপরই শিশুর দুধে চিনি মিশিয়ে দেওয়ার পুরনো অভ্যাসে অভ্যস্ত।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, এর অর্থ এই নয় যে সারাজীবন শিশুকে মিষ্টি থেকে বঞ্চিত রাখতে হবে। তবে শৈশবে অতিরিক্ত চিনি খাওয়ার অভ্যাস শরীরে স্থূলতা, বিপাকীয় ত্রুটি এবং ইনসুলিনের কার্যকারিতায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, প্রক্রিয়াজাত মিষ্টি বা প্যাকেটজাত খাবারের বদলে শিশুদের ডায়েটে ফল, শাকসবজি, ডাল এবং পুষ্টিকর প্রোটিন রাখা উচিত। ছোট্ট একটি অভ্যাসের পরিবর্তনই আপনার সন্তানকে ভবিষ্যতে পঙ্গু করে দেওয়া বহু রোগ থেকে রক্ষা করতে পারে।