ভাসছে মালদার ভূতনি চর! বিপদে ত্রাণকর্তা তিন সিনিয়র অফিসার, পাশে কেন্দ্রও

লাগাতার বৃষ্টি ও গঙ্গার ক্ষয়ক্ষতিতে বিপর্যস্ত মালদার ভূতনি চর। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবার তিন সিনিয়র অফিসারকে সেখানে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য প্রশাসন। বৃহস্পতিবার নবান্নে সেচমন্ত্রী ও শীর্ষ আধিকারিকদের উপস্থিতিতে জরুরি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

বৈঠকটি শুরু হয় দুপুর ৩টায় এবং কয়েক ঘণ্টা ধরে চলে। এতে বিভিন্ন জেলার সেচ দফতরের ইঞ্জিনিয়ার ও আধিকারিকরা রাজ্যের নদীগুলির জলস্তর এবং বাঁধগুলির অবস্থা নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করেন। আলোচনায় মালদার ভূতনি চরকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়। উত্তরবঙ্গের ইঞ্জিনিয়ারদের ২৪ ঘণ্টা সেখানে নজর রাখতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি, আরামবাগ, খানাকুল, পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর-সহ দামোদর নদের নিম্ন অববাহিকায় নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উদয়নারায়ণপুর, আমতা-সহ অন্যান্য নিচু এলাকায়ও ইঞ্জিনিয়ার মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে যেকোনো মুহূর্তে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়। রাজ্য সরকার ইতিমধ্যে কেন্দ্রের কাছেও সহযোগিতা চেয়েছে। গঙ্গার ভাঙন রোধে কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং এই মর্মে কেন্দ্রে প্রস্তাবও পাঠানো হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

সেচ দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যজুড়ে এখন পর্যন্ত ৭৭৬টি বাঁধ মেরামত করা হয়েছে, যেখানে খরচ হয়েছে প্রায় ৭৪ কোটি টাকা। তবে এখনও কিছু বাঁধ দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। তাই চিহ্নিত দুর্বল ও ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধগুলির মেরামতির কাজ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু ও শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে সেচ দফতরের তরফে একেবারে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে – ‘টাকার অভাবে কোনও কাজ আটকে থাকবে না।’

এছাড়া, রাজ্য জুড়ে বাঁধ পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কতা বাড়িয়েছে নবান্ন। দুর্বল বাঁধগুলির উপর নজরদারি জোরদার করতে সেচ দফতরের কর্মী-আধিকারিকদের সব ছুটি বাতিল করা হয়েছে। আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে সেচ দফতরের কন্ট্রোল রুম। প্রতিটি জেলার পরিস্থিতি সরাসরি সদর দফতর থেকে পর্যবেক্ষণ করা হবে বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।