বিপাকে জনপ্রিয় শিক্ষক খান স্যার! ৫০ লক্ষ টাকার প্রতারণা ও অবৈধ দখলের অভিযোগে বিস্ফোরক মামলা

শিক্ষামহলে এক বিশাল হুলস্থুল ফেলে দিয়ে সামনে এল এক চাঞ্চল্যকর খবর। প্রখ্যাত শিক্ষক তথা ‘খান গ্লোবাল স্টাডিজ’-এর জনপ্রিয় পরিচালক ফয়সাল খান ওরফে খান স্যারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পাটনা এসএসপি (SSP)-এর কার্যালয়ে দায়ের করা এই অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ, কোচিং সেন্টার অবৈধভাবে দখল এবং প্রাণনাশের হুমকির মতো অত্যন্ত গুরুতর ও স্পর্শকাতর অভিযোগ আনা হয়েছে। ইতিমধ্যেই পাটনা পুলিশের পক্ষ থেকে এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগের তদন্তভার এসডিপিও সিটি-০১-এর ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে।

অভিযোগকারী নিখিল কুমার ওরফে রঞ্জিত কুমার সিং তাঁর অভিযোগে দাবি করেছেন যে, তিনি ২০১৯ সালে একটি কোচিং সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলতে তিনি প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন বলে জানিয়েছেন। কিন্তু পরবর্তীকালে তাঁর সেই কোচিং সেন্টারটি সম্পূর্ণ অবৈধভাবে দখল করে নেওয়া হয় বলে তাঁর অভিযোগ। নিখিল কুমারের আরও দাবি, তিনি বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করা সত্ত্বেও তাঁকে তাঁর নিজের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে এবং গভীর চক্রান্তের মাধ্যমে তাঁকে প্রতারণার শিকার বানানো হয়েছে। এই ঘটনায় তিনি যেমন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তেমনই তাঁর সঙ্গে মারাত্মক বিশ্বাসভঙ্গ করা হয়েছে বলে পুলিশকে জানিয়েছেন।

পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিয়েছে গত ২৫ জুন, ২০২৬ থেকে শুরু হওয়া ক্রমাগত হুমকির ঘটনায়। অভিযোগকারীর দাবি, গত বছর ২৫ জুন থেকে তাঁকে লাগাতার প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এই ভয়াবহ হুমকির জেরে তিনি এবং তাঁর পুরো পরিবার চরম আতঙ্ক ও ভয়ের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। জীবন সংশয়ের আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি অবিলম্বে পুলিশ প্রশাসনের কাছে নিজের ও পরিবারের যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোরালো দাবি জানিয়েছেন।

পাটনা এসএসপি কার্যালয়ে দায়ের করা এই অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে পুলিশ প্রশাসন অত্যন্ত সতর্ক পদক্ষেপ নিচ্ছে। এসডিপিও সিটি-০১-কে এই মামলার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্তকারী দল কোচিং সেন্টারটির প্রতিষ্ঠা, সেখানে করা বিনিয়োগের উপযুক্ত প্রমাণাদি, মালিকানা সংক্রান্ত আইনি নথি এবং দখলের অভিযোগ খতিয়ে দেখবে। একই সঙ্গে ২৫ জুনের পর থেকে আসা হুমকির বিষয়েও সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে জিজ্ঞাসাবাদ ও উপলব্ধ প্রমাণাদি যাচাইয়ের পরই এই আইনি লড়াইয়ের প্রকৃত সত্যতা প্রকাশ্যে আসবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।