গোপন ঘরে চলছিলে কোন রমরমা কারবার? পুলিশ রেইড দিতেই ফাঁস লজের আসল রহস্য!

পশ্চিমবঙ্গের জঙ্গলমহলের বুকে অপরাধের বিরুদ্ধে লাগাতার কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করে ফের বড়সড় সাফল্য পেল ঝাড়গ্রাম জেলা পুলিশ। গোপন সূত্রে পাওয়া সুনির্দিষ্ট খবরের ভিত্তিতে ঝাড়গ্রাম শহরের উপকণ্ঠে অবস্থিত একটি বেসরকারি লজে অতর্কিত অভিযান চালিয়ে এক বিশাল মধুচক্রের পর্দাফাঁস করল পুলিশ প্রশাসন। ঝাড়গ্রাম থানা ও বিশেষ পুলিশি সূত্রের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এই সফল অভিযানে মোট ২১ জন সন্দেহভাজনকে হাতেনাতে পাকড়াও করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৩ জন মহিলা এবং ৮ জন পুরুষ অভিযুক্ত রয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, বেশ কিছুদিন ধরেই ঝাড়গ্রামের ওই নির্দিষ্ট লজটিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ ও অবৈধ কারবার চালানোর পশাপাশি একটি গোপন মধুচক্র পরিচালনা করার খবরাখবর প্রশাসনের কাছে আসছিল। এই ধরনের খবর সামনে আসতেই নড়েচড়ে বসে পুলিশ প্রশাসন। এরপর সমস্ত গোপনীয়তা বজায় রেখে এবং সুনির্দিষ্ট রণকৌশল তৈরি করে ঝাড়গ্রাম থানার একটি বিশেষ দল আচমকাই ওই লজে হানা দেয়। পুলিশের এই হঠাৎ হানায় লজের অন্দরে তীব্র চাঞ্চল্য ও হুলুস্থুল পড়ে যায়।
অভিযান চলাকালীন পুলিশ লজের বিভিন্ন কক্ষ তল্লাশি করে আপত্তিকর অবস্থায় একাধিক নারী ও পুরুষকে আটক করে। পরবর্তীতে ঘটনাস্থল থেকেই ১৩ জন মহিলা এবং ৮ জন পুরুষকে গ্রফতার করে সোজা ঝাড়গ্রাম থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে ধৃতদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট আইনি ধারায় সুনির্দিষ্ট মামলা রুজু করে তাদের কঠোর জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশ জানতে চাইছে এই চক্রের মূল হোতা বা মাস্টারমাইন্ড কে এবং এর পেছনে কোনো পাচারচক্র বা বড় কোনো অপরাধমূলক সিন্ডিকেট যুক্ত রয়েছে কি না।
শুধু ওই নির্দিষ্ট লজটিই নয়, ঝাড়গ্রাম শহর বা তার আশপাশের অন্য কোনো হোটেল, গেস্ট হাউস কিংবা লজে এই ধরনের অবৈধ অনৈতিক কার্যকলাপ বা মধুচক্রের কোনো নেটওয়ার্ক গোপনে সক্রিয় রয়েছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখতে এখন ব্যাপক তল্লাশি ও তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। জনবহুল এলাকায় এই ধরনের অনৈতিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে পুলিশের এমন কড়া ও জোরালো পদক্ষেপে শহরজুড়ে স্বস্তি ফিরেছে এবং সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।