বাড়ি করতে গেলেই দিতে হতো চাঁদা! এবার চাপের মুখে গ্রামবাসীদের হাতে নগদ টাকা ফিরিয়ে দিল গ্রাম কমিটি!

রাজনৈতিক পালাবদলের হাওয়ায় রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজ্যজুড়ে। পরিবর্তনের হাওয়া লাগতেই এবার গ্রামবাংলায় এক অভূতপূর্ব ও চাঞ্চল্যকর ছবি সামনে এল। গ্রামের উন্নয়নের নামে জবরদস্তি সাধারণ মানুষের কাছ থেকে তোলা বা চাঁদার আকারে আদায় করা টাকা এবার বাধ্য হয়ে একে একে ফিরিয়ে দিচ্ছেন খোদ গ্রামের মোড়ল ও স্থানীয় কমিটির কর্তারা। অতীতে নতুন বাড়ি নির্মাণ বা যেকোনো সামাজিক কাজের অজুহাতে জোর করে টাকা আদায়ের যে রীতিনীতি চালু ছিল, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের জেরে গ্রামবাসীদের সম্মিলিত প্রতিবাদের মুখে পড়ে সেই অবৈধ অর্থই এখন সুদসহ বা কিস্তিতে ফেরত দিতে শুরু করেছেন তাঁরা।
ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার দাসপুর থানার সুরারানপুর এলাকায়। বুধবার বিকেলে ঘাটাল-মেদিনীপুর সড়কের ধারে অবস্থিত স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী সুরারানপুর শীতলা মন্দিরের নাটমন্দিরে এক অভিনব দৃশ্য দেখা যায়। গ্রাম কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এদিন একটি বিশেষ সভার আয়োজন করা হয় এবং সেখানে তালিকা ধরে ধরে গ্রামবাসীদের হাতে নগদ টাকা তুলে দেওয়া হয়। গ্রাম কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি তথা স্থানীয় তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য অনিল চক্রবর্তী নিজহাতে সত্যম্বর চক্রবর্তী, তরুণ মণ্ডল, মিতা জানা থেকে শুরু করে সাধারণ গ্রামবাসীদের হাতে ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত নগদ ফেরত দেন। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, প্রথম দফায় এ দিন প্রায় ৬৮ হাজার টাকা গ্রামবাসীদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। টাকা ফেরত পাওয়ার পর স্থানীয় মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
টাকা ফেরত পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দা দীপক দোলই অকপটে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানান। তিনি জানান, অতীতে এই গ্রামে নতুন বাড়ি তৈরি করতে গেলে গ্রাম কমিটিকে মোটা অঙ্কের টাকা দিতে বাধ্য করা হতো। টাকা না দেওয়ায় বাড়ি তৈরির প্রশাসনিক অনুমতি বা পারমিশন পর্যন্ত আটকে রাখা হয়েছিল। শেষপর্যন্ত বাধ্য হয়ে কমিটিকে ৮ হাজার টাকা দেওয়ার পরেই তিনি বাড়ি তৈরির অনুমতি পান। এদিন তাঁকে ৭ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র শোরগোল শুরু হয়েছে। যদিও পূর্বতন কমিটির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা এই সমস্ত অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করে দাবি করেছেন যে, গ্রামে নতুন কেউ স্থায়ীভাবে বসবাস করতে এলে গ্রামের সার্বিক সম্মান ও উন্নয়নের স্বার্থে কিছু অর্থ নেওয়া হতো। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে মোড়লদের এই নাটকীয় ইউ-টার্ন এবং টাকা ফেরতের হিড়িক গোটা এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে।