সৌরভের সঞ্চালনায় শুরুতেই রণক্ষেত্র বিগ বস বাংলা! বাংলায় কথা না বলায় বিগ বসের মেগা ধমক!

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে রবিবার রাতে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নজরকাড়া সঞ্চালনায় পর্দা উঠেছে বহুচর্চিত ও জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘বিগ বস বাংলা’-র। সম্প্রচারের শুরু থেকেই ঘরের অন্দরে প্রতিযোগীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কের টানাপোড়েন, বন্ধুত্ব, মতবিরোধ এবং তীব্র বাকবিতণ্ডায় জমজমাট হয়ে উঠেছে এই শো। তবে প্রথম দু’দিনের সম্প্রচারেই দর্শকদের নজর কেড়েছে একাধিক বিতর্কিত ও নাটকীয় মুহূর্ত। শোয়ের শুরুতেই প্রতিযোগীদের কথোপকথনে অতিরিক্ত ইংরেজি শব্দ এবং অপশব্দের ব্যবহার নিয়ে দর্শকদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ দানা বাঁধতে শুরু করে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে খোদ ‘বিগ বস’-এর তরফ থেকে প্রতিযোগীদের কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়।
বিতর্কের সূত্রপাত ঘটে ‘ক্যাপ্টেন’ ভরত কলের সঙ্গে প্রতিযোগী তনুশ্রী রায়ের মতবিরোধকে কেন্দ্র করে। ভরতের নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা নিয়ে প্রকাশ্যেই তীব্র আপত্তি জানান তনুশ্রী। তাঁর স্পষ্ট ও ঝাঁঝালো বক্তব্য ছিল যে, মানুষ হিসেবে তো বটেই, একজন ক্যাপ্টেন হিসেবেও ভরত কলকে তাঁর একেবারেই পছন্দ নয়। তাই ক্যাপ্টেনের কোনো নির্দেশ তিনি মানতে বাধ্য নন। এরপরই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, যখন দীপেন্দু বিশ্বাস, দুর্নিবার সাহা, ঝিলম গুপ্ত এবং তনুশ্রী রায় দাসকে শাস্তিস্বরূপ ‘ডাগ হাউজ’-এ পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে তাঁরা নিজেদের মতো পৃথকভাবে রেশন সংগ্রহ করে রান্নাবান্না ও বসবাস শুরু করেন।
এই বিচ্ছিন্ন পরিস্থিতির মাঝেই ভরত ও তনুশ্রীর মধ্যে ফের একপ্রস্থ তীব্র তর্ক-বিতর্ক বেধে যায়। তনুশ্রীর মন্তব্যের কড়া জবাব দিতে গিয়ে ভরত তাঁকে সরাসরি বাথরুম পরিষ্কার করার নির্দেশ দেন। এমনকি ক্যাপ্টেনের নির্দেশ অমান্য করলে বাড়ির বাথরুম ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেন তিনি। ভরতের এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণে পরিস্থিতি আরও চড়ে যায় এবং তনুশ্রীও পালটা চিৎকার শুরু করেন। পরিবেশ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে বাকি প্রতিযোগীরা হস্তক্ষেপে বাধ্য হন, এমনকি মনামী ঘোষকে ভরতকে শান্ত করার চেষ্টা করতেও দেখা যায়। ঠিক সেই মুহূর্তেই আকস্মিকভাবে ‘বিগ বস’-এর অ্যালার্ম বেজে ওঠে এবং পরিস্থিতি আমূল বদলে যায়।
প্রতিযোগীদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়ে ‘বিগ বস’ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে, এই ঘর তাঁর এবং এখানে উপস্থিত প্রতিটি প্রতিযোগীকেই গোটা বাংলার মানুষ চেনে ও ভালোবাসে। তাই কথোপকথনে অতিরিক্ত ইংরেজি শব্দ বা বাক্য ব্যবহারের প্রবণতা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। সবাইকে সাফ নির্দেশ দেওয়া হয় যে এই ঘরের একমাত্র যোগাযোগের ভাষা হতে হবে বাংলা। পাশাপাশি, বাঙালি না হয়েও প্রতিযোগী আলেকজান্দ্রা টেলর যেভাবে নিখাদ বাংলায় কথা বলার নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, তাঁর সেই প্রচেষ্টার বিশেষ প্রশংসা করা হয়।
এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই শোকে ঘিরে নতুন এক জল্পনা চাউর হয়েছে। বাংলা বিনোদন জগতের অন্যতম চর্চিত অভিনেতা জীতু কামলের সাম্প্রতিক একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে নতুন গুঞ্জন। জল্পনা জোরালো হয়েছে যে, খুব শীঘ্রই নাকি ‘বিগ বস বাংলা’-র ঘরে ওয়াইল্ড কার্ড বা নতুন প্রতিযোগী হিসেবে পা রাখতে চলেছেন এই জনপ্রিয় অভিনেতা। নিজের পোস্টে জীতু ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে তিনি শীঘ্রই একটি বড় নন-ফিকশন রিয়েলিটি শোয়ে অংশ নিতে চলেছেন। শুধু তাই নয়, সেই শোয়ে বিজয়ী হয়ে যে অর্থ পুরস্কার তিনি পাবেন, তার ৭৫ শতাংশই গৃহহীন মানুষ, অনাথ শিশু এবং বৃদ্ধাশ্রমে থাকা অসহায় মানুষদের কল্যাণে দান করার মহৎ প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি। পুরস্কারের মাত্র ২৫ শতাংশ নিজের জন্য রেখে বাকি বিশাল অংশ জনকল্যাণে ব্যয় করার এই মানবিক ঘোষণা দর্শকদের কৌতূহল বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। যেহেতু জীতু বর্তমানে সিনেমার কাজ শেষ করে নতুন কোনো সিরিয়ালে যুক্ত নেই, তাই তাঁর এই রহস্যময় নন-ফিকশন শো আসলে ‘বিগ বস বাংলা’ কি না, তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। যদিও অভিনেতার তরফ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি, তবে শোয়ের এই রুদ্ধশ্বাস নাটক ও একের পর এক চমক দর্শকদের পর্দায় চোখ আটকে রাখতে বাধ্য করছে।