এক উৎসব, বহু গল্প! কেন গোটা দেশ জুড়ে আলোয় আলোয় পালিত হয় এই বিশেষ দিনটি?

অযোধ্যা তখন যেমন প্রদীপের আলোয় সেজে উঠত, আজও ঠিক তেমনই সেজে ওঠে। ঘটা করে ঢাক-ঢোল বাজিয়ে ভগবান শ্রীরাম ও মাতা সীতার ভক্তিভরে অভ্যর্থনা জানানোর সুপ্রাচীন প্রথা আজও সমানভাবে বজায় রয়েছে। ছোট দীপাবলির সন্ধ্যায় অযোধ্যার পবিত্র রাম কি পৈড়িতে একসঙ্গে ৩০ লক্ষ প্রদীপ জ্বালানোর এক অপরূপ দৃশ্য দেশবাসীকে মুগ্ধ করে। বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে এই বিশেষ ধারাবাহিকতা অত্যন্ত জাঁকজমকের সঙ্গে পালিত হয়ে আসছে। বিশেষ করে শ্রীরাম জন্মভূমি মন্দির নির্মাণের পর থেকে দিপোৎসবের এই মহোৎসব আরও বহুগুণ বেশি বর্ণময় হয়ে উঠেছে। আস্ত একটি রাজ্য সরকার যেন এই বিশেষ দিনটিতে অযোধ্যা নগরীতে উপস্থিত থাকে। বধূবেশে সজ্জিত অযোধ্যার রূপ দেখে মনে হয়, যেন স্বয়ং ভগবান রামের দীর্ঘ চৌদ্দ বছর পর অযোধ্যায় ফিরে আসার বিজয় উৎসব চলছে।
তবে গোটা ভারতজুড়ে দীপাবলির এই আলোর উৎসবটি ঠিক উত্তর ভারতের মতো এক ছাঁচে মাপা নয়। এই পবিত্র দিনটিতে ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত, ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে নানান স্বতন্ত্র ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় পরম্পরা পালিত হয়ে থাকে। আসুন, এবারের দীপাবলির এই বিশেষ মুহূর্তের হাত ধরে জেনে নেওয়া যাক এই মহোৎসবের সঙ্গে ঠিক কী কী বৈচিত্র্যময় ও আকর্ষণীয় পৌরাণিক কাহিনি ও পটভূমি জড়িয়ে রয়েছে।
প্রথমেই আসে অযোধ্যায় ভগবান শ্রীরামের ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনের কথা। রামায়ণ মহাকাব্যের বর্ণনামতে, ভগবান শ্রীরামচন্দ্র দীর্ঘ চৌদ্দ বছরের নির্বাসনকাল সফলভাবে কাটিয়ে সস্ত্রীক অযোধ্যা নগরীতে ফিরে এসেছিলেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন প্রমত্তা সীতা এবং অনুজ ভ্রাতা লক্ষ্মণও। নিজেদের প্রিয় রাজকুমারের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত প্রত্যাবর্তনে অযোধ্যার সাধারণ মানুষ পুরো নগরীকে আলোকমালার রোশনাইতে ভরিয়ে তুলেছিল। এই মনোজ্ঞ প্রসংগটিকেই দীপাবলির রাতে ঘরে ঘরে প্রদীপ প্রজ্বলনের প্রধান ও অন্যতম ধর্মীয় কারণ হিসেবে গণ্য করা হয়। এই কাহিনি আমাদের শেখায় যে প্রদীপ কেবল বাহ্যিক সাজসজ্জার মাধ্যম নয়, বরং এটি মানবজীবনের আশা, সুস্বাগতম এবং ধর্মের চূড়ান্ত পুনরুত্থানের পরম প্রতীক। শ্রীরামের ঘরে ফেরার এই আনন্দঘন ঐতিহ্যই দীপাবলিকে ভালোবাসার মানুষদের সঙ্গে একত্রিত হওয়ার এবং উদ্যাপনের এক অনুপম অনুষঙ্গে পরিণত করেছে।
অন্যদিকে, জৈন ধর্মের অনুসারীদের কাছে দীপাবলির একটি অত্যন্ত বিশেষ আধ্যাত্মিক সম্পর্ক রয়েছে, যা সরাসরি ভগবান মহাবীরের মহাপরিনির্বাণ বা মোক্ষলাভের সঙ্গে জড়িত। জৈন সম্প্রদায়ের ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় প্রথা অনুযায়ী, ভগবান মহাবীর ঠিক এই পবিত্র তিথিতেই পাवाপুরী নামক স্থানে নশ্বর দেহত্যাগ করে পরম মোক্ষ ও চিরমুক্তি লাভ করেছিলেন। জৈন ধর্মাবলম্বীদের কাছে এই দিনটি তাঁদের অন্তরাত্মার চূড়ান্ত মুক্তি এবং নিভৃত আধ্যাত্মিক সাধনাকে স্মরণ করার একটি শ্রেষ্ঠ সুযোগ। জৈন বিশ্বাস অনুযায়ী, মহাবীরের মহাপ্রয়াণের পর তাঁর পবিত্র জ্ঞানের আলোকবর্তিকাকে চিরস্মরণীয় করে রাখতেই প্রথম প্রদীপ জ্বালানো হয়েছিল। জৈন সমাজে দীপাবলির মূল ভাবটি জাগতিক বাহ্যিক জাঁকজমকের চেয়ে আত্মবিশ্লেষণ, মনের সংযম এবং অহিংসার কঠোর অনুশাসনের ওপর প্রধানত নিবদ্ধ থাকে। মহাবীরের মহান উপদেশগুলি সর্বদাই সমস্ত জীবকুলের প্রতি গভীর করুণা, পরম সত্যবাদিতা, অপরিগ্রহ এবং আত্মানুশাসনের চিরন্তন বার্তা বহন করে। এই পবিত্র তিথিতে জৈন সম্প্রদায়ের মানুষ অত্যন্ত ভক্তিভরে পুজো, ধ্যান, পবিত্র ধর্মীয় শাস্ত্রপাঠ এবং মানবকল্যাণে দান-পুণ্য করে থাকেন। এমনকি অনেক জৈন পরিবার দীপাবলির এই শুভ সময়টিকে তাঁদের নতুন বর্ষবরণের সূচনার দিন হিসেবেও গণ্য করে থাকেন।
শিখ সম্প্রদায়ের কাছে দীপাবলির দিনটি অত্যন্ত মর্যাদার সঙ্গে ‘বন্দী ছোড় দিবস’ বা মুক্তির মহান দিন হিসেবে উদ্যাপিত হয়। এই বিশেষ দিনটির সঙ্গে শিখ ধর্মের ষষ্ঠ গুরু, গুরু হরগোবিন্দ সাহেবের ঐতিহাসিক মুক্তির স্মৃতি গভীরভবে জড়িয়ে রয়েছে। শিখ ধর্মীয় পরম্পরার বয়ান অনুযায়ী, মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের আমলে গুরু হরগোবিন্দ সাহেবকে তৎকালীন সময়ে গোয়ালিয়রের দুর্গে অন্যায়ভাবে বন্দি করে রাখা হয়েছিল। পরবর্তীকালে যখন তাঁকে ওই বন্দিদশা থেকে নিঃশর্তভাবে মুক্তি দেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়, তখন তিনি অত্যন্ত মহত্বের পরিচয় দিয়ে একা একা মুক্তি নিতে অস্বীকার করেন। তিনি শর্ত দেন যে, তাঁর সঙ্গে কারারুদ্ধ থাকা অন্যান্য হিন্দু রাজাদেরও একসঙ্গে মুক্তি দিতে হবে। ঐতিহাসিক কাহিনি অনুসারে তাঁর সেই দাবি মেনে নেওয়া হয় এবং বহু বন্দি রাজা তাঁর মাধ্যমেই একসঙ্গে নতুন জীবন ও স্বাধীনতা ফিরে পেয়েছিলেন। শিখদের এই ‘বন্দী ছোড় দিবস’ পালনের অর্থ কেবল একজন মাত্র ব্যক্তির কারামুক্তি নয়, বরং এর মূল অন্তর্নিহিত তাৎপর্য হলো নিপীড়িত ও নির্যাতিত অপরকেও মুক্ত করার উদার মানসিকতা। এই বিশেষ দিনটিতে গুরুদ্বারগুলিতে বিশেষ প্রার্থনা, মিষ্টি সুরে কীর্তন এবং সাধারণ মানুষের সেবামূলক আয়োজনের এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা ঘটে। অমৃতসরের বিশ্বখ্যাত হরমন্দির সাহেব বা স্বর্ণমন্দিরে এই দিনটিতে আলোর রোশনাই এবং অভূতপূর্ব আলোকসজ্জার যে অপরূপ দৃশ্য দেখা যায়, তা সারা বিশ্বের মানুষকে মন্ত্রমুগ্ধ করে। শিখদের এই সুমহান ঐতিহ্য মানবজীবনের সীমাহীন সাহস, পরোপকার এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার চিরন্তন বার্তা প্রচার করে।
পশ্চিমবঙ্গ তথা পূর্ব ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে দীপাবলির রাতে মা কালীর আরাধনা ও মহা ধুমধামে পুজো করার সুপ্রাচীন নিয়ম প্রচলিত রয়েছে। সনাতন ধর্মে দেবী কালীকে মহাশক্তি, পরম নির্ভয়তা এবং ত্রিভুবনের সমস্ত দুষ্কৃতকারী শক্তির বিনাশকর্ত্রী হিসেবে গণ্য করা হয়। দীপাবলির এই অমাবস্যার রাতে রাজ্যের সমস্ত প্রান্তে অগণিত মন্দির এবং সুসজ্জিত মণ্ডপগুলিতে দেবী কালীর মহাপ্রতিমা স্থাপন করে মহাসমারোহে পুজো করা হয়। সারারাত ধরে চলে ভক্তদের ভক্তিভরা পুজো-অর্চনা এবং জাগতিক নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠান। স্থানীয় সাংস্কৃতিক আচার-অনুষ্ঠান ভেদে কালু পুজোর রূপ কিছুটা আলাদা হতে পারে। কোথাও এটি একান্তই ভক্তিমূলক সাধনার একনিষ্ঠ রাত, আবার কোথাও এটি দলগত এক মহাসামাজিক উৎসব। দেবী কালীর এই রৌদ্ররসের উদ্দীপ্ত রূপ মানবসমাজে এই শাশ্বত বার্তাটি পৌঁছে দেয় যে, যেকোনো ধরনের অন্যায়, অবিচার ও অন্ধকারের ভয়কে পরাস্ত করতে হলে মনের ভেতর অপার শক্তি এবং সাহসের উপস্থিতি অপরিহার্য। দীপাবলির আলোর রোশনাইয়ের সঙ্গে মহাশক্তি কালীর এই আরাধনার রূপটি উৎসবকে এক নতুন প্রাণশক্তি, সুরক্ষা এবং ইতিবাচক পরিবর্তনের ভাবনার সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত করে।
দক্ষিণ ভারতের অনেক অঞ্চলেই দীপাবলি উৎসবের মূল পৌরাণিক ভিত্তিটি আবর্তিত হয়েছে রাক্ষসরাজ নরকাশ্বরের বধের কাহিনীর ওপর ভিত্তি করে। পৌরাণিক আকিয়ান ও শাস্ত্রীয় বর্ণনা অনুযায়ী, নরকাচার নামক এক পাপিষ্ঠ ও অত্যাচারী অসুর শাসক সাধারণ মানুষকে চরমভাবে উৎপীড়ন ও হেনস্থা করছিল। ত্রাতা হিসেবে স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ওই নরপিশাচের অশুভ শক্তির অবসান ঘটান এবং তার বন্দিদশা থেকে হাজার হাজার নির্যাতিত মানুষকে চিরমুক্ত করেন। দক্ষিণ ভারতের কিছু নির্দিষ্ট অঞ্চলে এই বিশেষ কাহিনীর প্রেক্ষাপটে সত্যভামার বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা ও অবদানের কথাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণভাবে স্মরণ করা হয়। এই অঞ্চলের সনাতন ঐতিহ্য অনুযায়ী দীপাবলির উৎসবের সূচনা হয় ভোরের প্রথম আলো ফোটার বহু আগে থেকেই। মানুষ সূর্যোদয়ের আগেই পবিত্র জলে স্নান সেরে নতুন এবং উজ্জ্বল পোশাক পরিধান করেন এবং নিজ নিজ গৃহের চৌহদ্দিতে মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বলন করেন। অনেক স্থানে নরকাশ্বরের অশুভ প্রতীকের কুশপুতুল দাহ করারও রেওয়াজ রয়েছে। এই পৌরাণিক কাহিনীর মূল অন্তর্নিহিত দর্শনটি হলো সমস্ত ধরনের পাশবিক অত্যাচার, অন্ধকার এবং ভয়ের হাত থেকে পূর্ণাঙ্গ মুক্তি লাভ করা। যদিও ভৌগোলিক অবস্থান ও অঞ্চলভেদে পূজার নির্দিষ্ট আচার, নৈবেদ্যের পদ এবং উদযাপনের সময়ে সামান্য তারতম্য দেখা দিতে পারে।
অন্যদিকে, ভারতবর্ষের বাণিজ্যপন্থী ও অন্যান্য বহু অঞ্চলে দীপাবলির পুণ্যলগ্নে মা লক্ষ্মী এবং বিঘ্নহর্তা ভগবান গণেশের যৌথ আরাধনার বিশেষ চল রয়েছে। মা লক্ষ্মীকে পার্থিব ধনসম্পদ, সৌভাগ্য এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির অধিষ্ঠাত্রী দেবী হিসেবে মান্য করা হয়, আর ভগবান শ্রীগণেশ হলেন যেকোনো শুভ কাজের প্রারম্ভিক ও সমস্ত বিঘ্ন দূর করার দেবতা। বিশেষ করে ভারতের ব্যবসায়ী সম্প্রদায় এবং মারোয়ারি সমাজে এই দিনটিতে তাঁদের হিসাবের নতুন খাতা (বই-খাতা) বা আধুনিক বাণিজ্যিক লেজার এবং ব্যবসার সঙ্গে জড়িত সমস্ত নতুন কাজের শুভ সূচনা করার প্রাচীন প্রথা রয়েছে। বহু পরিবার এই দিনটিকে তাদের নতুন আর্থিক বা বাণিজ্যিক বছরের প্রথম দিন হিসেবে বিবেচনা করে থাকে। মা লক্ষ্মী ও গণেশের যুগল পুজোর পাশাপাশি ঘরবাড়ির নিপুণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, রঙিন আল্পনা ও রঙ্গোলি অঙ্কন, প্রদীপ প্রজ্জ্বলন এবং মিষ্টিমুখ করানোর রেওয়াজ অত্যন্ত জনপ্রিয়। তবে এই সমস্ত আচার-অনুষ্ঠানের তাৎপর্য কেবল অন্ধের মতো টাকা-পয়সা বা ধনসম্পত্তি কামানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। পরিচ্ছন্নতা, অতিথি আপ্যায়ন, অন্যের সঙ্গে আনন্দের অংশীদার হওয়া এবং আগামী দিনগুলির জন্য মঙ্গলকামনা করার মতো মহৎ বিষয়গুলিও এই উৎসবের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিক।
সবশেষে বলা যায়, দীপাবলির এই বহুমুখী ও বৈচিত্র্যময় রূপ এবং গল্পগুলি আমাদের এটিই স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেয় যে ভারতের জাতীয় উৎসবগুলি কদাচ কোনো একটি নির্দিষ্ট সংকীর্ণ গণ্ডি কিংবা একক ধর্মীয় অভিজ্ঞতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শ্রীরামচন্দ্রের অযোধ্যায় ফিরে আসা, মহাবীরের পরম নির্বাণ লাভ, গুরু হরগোবিন্দ সাহেবের ঐতিহাসিক বন্দিমুক্তি, মা মহাশক্তি কালীর আরাধনা কিংবা নরকাশ্বরের বিনাশ—প্রতিটি ঘটনার স্মৃতিই নিজ নিজ সম্প্রদায়ের মানুষের হৃদয়ে গভীর ও অমর তাৎপর্য বহন করে চলেছে। এই সমস্ত বর্ণাঢ্য উৎসবের মূল স্রোতের মাঝে একটি অত্যন্ত সুন্দর ও সুদৃঢ় ঐক্যসূত্র লুকিয়ে রয়েছে। সেটি হলো—অজ্ঞতার অন্ধকার ভেদ করে আলোর জয়, বন্ধন ও শৃঙ্খল ছিন্ন করে মুক্তির জয়, ভয়ের কালো মেঘ কাটিয়ে সাহসের জয় এবং সর্বপরি হতাশার বুক চিরে নতুন আশার জয়। তাই দীপাবলিকে সঠিক অর্থে উপলব্ধি করার সর্বশ্রেষ্ঠ মাধ্যম হলো এর এই অপার ও সুন্দর বৈচিত্র্যকে বুক খুলে স্বীকার করে নেওয়া। প্রতিটি স্বতন্ত্র পরম্পরা তাদের নিজস্ব সুদীর্ঘ ইতিহাস, অটল বিশ্বাস এবং নিজস্ব স্থানীয় সংস্কৃতির পরশ বুলিয়ে এই উৎসবকে প্রতিনিয়ত এক নতুন ও বিশাল অর্থ দান করে চলেছে। প্রদীপ প্রজ্বলনের এই পবিত্র কাজটি কোথাও পরম আতিথেয়তার উষ্ণ অভ্যর্থনা, কোথাও বা কোনো মহামানুষের সশ্রদ্ধ স্মরণ, কোথাও আত্মিক সাধনা আবার কোথাও বাঁধভাঙা আনন্দোৎসব। যখন মানুষ জাতপাত ও ভেদাভেদ ভুলে একে অপরের ঐতিহ্যকে সম্মানের চোখে বুঝতে শেখে, তখন দীপাবলি কেবল কিছু প্রদীপের আলোর রোশনাইয়ের উৎসব হয়ে থাকে না, বরং তা কোটি মানুষের বৈচিত্র্যের মাঝে একসঙ্গে মিলেমিশে বাঁচার এবং আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার এক মহোৎসবে রূপান্তরিত হয়।