ভারত-ইরান বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে হোয়াইট হাউসের বড় হুশিয়ারি! মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্যে বিশ্ব রাজনীতিতে তুমুল শোরগোল!

মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও বুধবার অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, ভারত ও ইরানের মধ্যে বর্তমানে কোনও প্রকৃত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে বলে তাঁর মনে হয় না। একইসঙ্গে ওয়াশিংটনের কড়া বার্তা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, কোনো দেশেরই উচিত নয় ইরানকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর কোনো পথ তৈরি করে দেওয়া। ফক্স নিউজ রেডিও-র জনপ্রিয় শো ‘দ্য ব্রায়ান কিলমিড শো’-তে একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারে এই চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেন মার্কিন সচিব। সাম্প্রতিক সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO) শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে কিরঘিস্তানের রাজধানী বিশকেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠককে কেন্দ্র করেই তাঁকে এই প্রশ্ন করা হয়েছিল।

মার্কো রুবিওর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল যে প্রধানমন্ত্রী মোদি ও পেজেশকিয়ানের মধ্যে হওয়া এই উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় কি কোনো নতুন বাণিজ্য চুক্তির পথ প্রশস্ত হয়েছে? এর উত্তরে রুবিও বলেন, “ঠিক আছে, আমি মনে করি না যে ভারত ও ইরানের মধ্যে এই মুহূর্তে কোনো আনুষ্ঠানিক বাণিজ্য চুক্তি রয়েছে। বিশ্বের প্রতিটি দেশই নিজেদের স্বাধীন বিদেশনীতি তৈরি করে এবং আন্তর্জাতিক মহলের বহু দেশই ইরানের সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ ও কথাবার্তা চালিয়ে যায়।” তবে এই কূটনৈতিক সম্পর্কের মাঝেই তিনি মার্কিন প্রশাসনের অবস্থান অত্যন্ত কঠোরভাবে স্পষ্ট করে দিয়েছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন যে কোনো অবস্থাতেই ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞার চাপ কমাতে রাজি নয়, তা পুনর্ব্যক্ত করে রুবিও বলেন যে সব দেশেরই উচিত ওয়াশিংটনের অবস্থানকে গুরুত্ব দেওয়া। তিনি বলেন, “কোনো দেশেরই এমন কোনো বাণিজ্যিক বা আর্থিক ব্যবস্থা তৈরিতে ইরানকে সাহায্য করা উচিত নয়, যার মাধ্যমে তেহরান অতিরিক্ত অর্থ উপার্জন করতে পারে এবং সেই অর্থ মধ্যপ্রাচ্যে সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়া কিংবা মারণ পরমাণু অস্ত্র তৈরির কাজে ব্যবহার করতে পারে।” মার্কিন বিদেশসচিব আরও হুশিয়ারি দিয়ে যোগ করেন যে, কোনো দেশ যদি এই নিষেধাজ্ঞা ভাঙার বা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে, তবে আমেরিকা সেই দেশগুলির বিরুদ্ধেও কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করতে এক মুহূর্ত পিছপা হবে না।

উল্লেখ্য, গত সোমবার বিশকেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন। গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইরান-আমেরিকা সংঘাত শুরুর পর এটিই ছিল দুই শীর্ষ নেতার মধ্যে প্রথম মুখোমুখি সাক্ষাৎ। সেই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানান যে, ভারত ইরানের সঙ্গে তার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক পণ্যের তালিকা আরও সম্প্রসারণ ও বৈচিত্র্যপূর্ণ করতে আগ্রহী। একইসঙ্গে তিনি পশ্চিম এশিয়ায় দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতাবস্থা ফেরানোর প্রচেষ্টার প্রতি নয়াদিল্লির পূর্ণ সমর্থনের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন। বৈঠকে সাধারণ নাগরিক, অসামরিক পরিকাঠামো এবং মুক্ত নৌ চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষার গুরুত্ব নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি, কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চাবাহার বন্দরের ভবিষ্যৎ এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে তার টিকে থাকা নিয়েও ভারত ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। একদিকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্ব বজায় রাখা এবং অন্যদিকে তেহরানের সঙ্গে ঐতিহাসিক কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক রক্ষা করা—এই দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জের মাঝেই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই মন্তব্য বর্তমান আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। নয়াদিল্লি বরাবরই জোরালোভাবে বলে এসেছে যে এই অঞ্চলের সমস্ত বিরোধ আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করা উচিত, তবে মার্কিন চাপ কীভাবে সামাল দেয় ভারত, সেটাই এখন দেখার।