ডিভিসির মহাপ্রলয়ঙ্করী জলে প্লাবনের আশঙ্কা দক্ষিণবঙ্গে! নদীপাড়ে লাল সতর্কতা জারি হতেই গ্রামবাংলায় হাহাকার!

ঝাড়খণ্ড ও বিহারে লাগাতার ভারী বৃষ্টির জেরে চরম বিপদের মুখে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলা। মাইথন ও পাঞ্চেত জলাধার থেকে বিপুল পরিমাণ জল ছাড়তে শুরু করেছে দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন বা ডিভিসি। একই সঙ্গে দুর্গাপুর ব্যারাজ থেকেও রেকর্ড পরিমাণ জল ছাড়ার ফলে দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে নতুন করে বন্যার কালো মেঘ ঘনাতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি এতটাই আশঙ্কাজনক যে ইতিমধ্যেই হুগলির দামোদর-পাড়ের বিভিন্ন গ্রামে হু হু করে নদীর জল ঢুকতে শুরু করেছে। সম্ভাব্য বিপর্যয় এড়াতে এবং সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে নদী তীরবর্তী গ্রামগুলিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে লাগাতার মাইকে প্রচার চালানো হচ্ছে।
পরিস্থিতির আকস্মিক অবনতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাজ্য প্রশাসন। নবান্নের নির্দেশ অনুযায়ী, ডিভিসির চেয়ারম্যানকে সরাসরি ফোন করে আপৎকালীন পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন মুখ্যসচিব মনোজ কুমার আগরওয়াল। কেন একসঙ্গে এত বিপুল পরিমাণ জল ছাড়া হচ্ছে, সে বিষয়ে কড়া কৈফিয়ত তলব করার পাশাপাশি জনজীবন রক্ষা করতে জল ছাড়ার পরিমাণ যতটা সম্ভব কমানোর জোরালো অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। তবে ঝাড়খণ্ড ও বিহারের ক্যাচমেন্ট এরিয়াতে অবিরাম বর্ষণের কারণে জলাধারগুলির জলস্তর মাত্রাতিরিক্ত বৃদ্ধি পাওয়ায় বাধ্য হয়েই এই জল ছাড়তে হচ্ছে বলে খবর।
ডিভিসির এই জল ছাড়ার ধাক্কায় বাঁকুড়া, পূর্ব বর্ধমান, হুগলি এবং হাওড়া জেলার দামোদর ও মুণ্ডেশ্বরী নদীর নিম্ন অববাহিকা এবং রূপনারায়ণের তীরবর্তী এলাকাগুলিতে কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আজ বিকেলের পর থেকেই নদীগুলির জলস্তর আরও বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই ৪ জেলার জেলাশাসকদের প্রতি কঠোর নির্দেশিকা জারি করে নবান্ন জানিয়েছে যে, নিচু এলাকার বাসিন্দাদের প্রয়োজনে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যেতে হবে। পাশাপাশি, যেকোনো ধরনের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় এসডিআরএফ (SDRF) এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সেচ দফতরের প্রকৌশলী ও আধিকারিকদের নদীর বাঁধের ওপর কড়া নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আজ বিকেলেই এই পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে নবান্নে একটি উচ্চপর্যায় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।