মা হতে চলেছেন? গর্ভাবস্থার কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে চিরতরে মুক্তি পাওয়ার এই ৫টি জাদুকরী ও নিরাপদ উপায় আজই জেনে নিন!

মাতৃত্ব প্রতিটি নারীর জীবনের এক অত্যন্ত সুন্দর ও অনুভূতিপূর্ণ অধ্যায়, কিন্তু এই ন’মাসের যাত্রাপথে হবু মায়েদের শারীরিক ও মানসিক নানা পরিবর্তনের মুখোমুখি হতে হয়। গর্ভাবস্থার এই দীর্ঘ সময়ে হরমোনের তারতম্য এবং জরায়ুর ক্রমবর্ধমান চাপের কারণে অধিকাংশ নারীই কোষ্ঠকাঠিন্য, বদহজম এবং তীব্র গ্যাস-অম্বলের মতো যন্ত্রণাদায়ক সমস্যায় ভুগে থাকেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রেগন্যান্সির সময় প্রোজেস্টেরন হরমোনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ফলে পরিপাকতন্ত্রের গতি শ্লথ হয়ে যায়, যার ফলে খাবার হজম হতে বেশি সময় নেয় এবং মলের সঙ্গে জল বেরিয়ে গিয়ে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করে। অনেক সময় এই সাধারণ সমস্যাটি হেমোরয়েড বা পাইলসের মতো মারাত্মক রোগের রূপ নিতে পারে। তাই গর্ভকালীন সময়ে অতিরিক্ত ওষুধ বা পিল খাওয়ার ঝুঁকি না নিয়ে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক এবং নিরাপদ কিছু ঘরোয়া উপায়ে এই সমস্যার সমাধান করা অত্যন্ত জরুরি।

গর্ভাবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্যের এই কষ্টদায়ক সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে ডায়েট ও জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনা সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে। প্রথমত, প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে জল বা হাইড্রেটিং তরল পান করার অভ্যাস করতে হবে, যা অন্ত্রের গতিশীলতা সচল রাখতে সাহায্য করে। দ্বিতীয়ত, খাদ্যতালিকায় ফাইবার বা ফাইবারে ভরপুর খাবার যেমন— তাজা ফলমূল, সবুজ শাকসবজি, ওটস, অঙ্কুরিত ছোলা এবং লাল চালের ভাত নিয়মিত অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। ফাইবার মলকে নরম করতে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে জাদুর মতো কাজ করে। তৃতীয়ত, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হালকা এক্সারসাইজ, প্রেগন্যান্সির উপযোগী ইয়োগা বা নিয়মিত সকালে কিছু সময় হাঁটার অভ্যাস করলে হজমশক্তি বহুগুণ উন্নত হয়। এছাড়া সকালে হালকা গরম জলে লেবুর রস মিশিয়ে পান করা কিংবা রাতে শোওয়ার আগে এক গ্লাস ইষদুষ্ণ দুধে সামান্য ঘি মিশিয়ে খেলে দারুণ উপকার পাওয়া যায়। কোনো রকম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে গর্ভকাল পার করতে এই ছোট ছোট স্বাস্থ্যকর অভ্যাসগুলি আজই মেনে চলুন।