‘হায় রে ট্রাম’ যুগ শেষ! কলকাতার ঐতিহ্য বাঁচাতে সরাসরি আসরে বিদেশের রাষ্ট্রদূতেরা, জানুন বড় আপডেট

কলকাতার রাজপথে কি ফের তার চেনা মেজাজে সশব্দে ফিরে আসতে চলেছে ঐতিহ্যবাহী ট্রাম? তিলোত্তমার বুক চিরে ট্রাম চলাচলের সেই পুরোনো সোনালী দিন কি আবার আধুনিক রূপে বাস্তবায়িত হতে চলেছে? রাজ্যে পালাবদলের পর ট্রামকে নিয়ে শহরবাসীর মনের আশা ফের একবার তীব্রভাবে জেগে উঠেছে। রাজ্য পরিবহণ দফতরের সাম্প্রতিক অতি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপে অন্তত তেমনই আশার আলো দেখতে শুরু করেছেন দেশবিদেশের পর্যটক থেকে শুরু করে আমজনতা। কলকাতার গণপরিবহণ ব্যবস্থার সার্বিক পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং পরিবেশবান্ধব ট্রাম পরিষেবাকে সম্পূর্ণ এক নতুন মাত্রায় ফিরিয়ে আনার উদ্দেশ্যে এবার এক বড়সড় ঐতিহাসিক প্রযুক্তিগত ও কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। শহরের এই ঐতিহ্যবাহী পরিবহণ ব্যবস্থার সঙ্গে আধুনিক নগর-পরিকল্পনার সঠিক মেলবন্ধন ঘটাতে বিশ্বমঞ্চের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাকে এখন পুরোপুরি কাজে লাগাতে চাইছে রাজ্য। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বমানের গণপরিবহণ প্রযুক্তি ও তাদের ট্রাম পরিচালনার দক্ষ অভিজ্ঞতাকে কলকাতার প্রেক্ষাপটে প্রয়োগ করতেই সম্প্রতি এক অস্ট্রেলীয় প্রতিনিধি দলের সঙ্গে অতি গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়ে গেল।

মঙ্গলবার বিকেলে কলকাতার রাজ্য পরিবহণ দফতরে অত্যন্ত গোপনীয়তা ও গুরুত্ব সহকারে আয়োজিত হয় এই বহুল চর্চিত বৈঠকটি। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিং এবং কলকাতায় নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার কনসাল জেনারেল বার্নার্ড লিঞ্চ। কনসাল জেনারেলের পাশাপাশি এই বিশেষ প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন অস্ট্রেলীয় কনসুলেটের সিনিয়র ইকনমিক রিসার্চ অ্যান্ড ভিজিটস অফিসার অনঘা, কর্পোরেট সার্ভিসেস ম্যানেজার রাজীব ঘোষ এবং সিনিয়র রিসার্চ অ্যান্ড ভিজিটস অফিসার অ্যাঞ্জেলিনা নায়ার। দ্বিপাক্ষিক এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে কলকাতার গণপরিবহণের আধুনিকীকরণ, শহরের ক্রমবর্ধমান যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং ধুঁকতে থাকা ট্রাম ব্যবস্থার সার্বিক পুনরুজ্জীবন নিয়ে অত্যন্ত বিস্তারিত ও ইতিবাচক আলোচনা হয়।

বৈঠকের প্রধান বিষয়সূচি অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন শহরটি বিশ্বজুড়ে তাদের আধুনিক, মার্জিত ও গতিশীল ট্রাম পরিষেবার জন্য অত্যন্ত বিখ্যাত। সেই বিশ্বখ্যাত সফল মডেলকে মাথায় রেখে কলকাতায় কীভাবে বিন্দুমাত্র যানজট না বাড়িয়ে আরও বেশি আধুনিক ও দ্রুতগামী ট্রাম পরিষেবা পুনরায় চালু করা সম্ভব, তা নিয়ে উভয় পক্ষের প্রযুক্তিবিদদের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা চলে। পরিবহণমন্ত্রী বৈঠকে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, ট্রাম পরিষেবা ফিরিয়ে আনার এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনাটি কেবল গতানুগতিক আলোচনার স্তরেই সীমাবদ্ধ নেই। এই পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাকে দ্রুত বাস্তব রূপ দিতে ইতিমধ্যেই দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রায়ত্ত পরামর্শদাতা সংস্থা ‘রাইটস’ (RITES)-কে দিয়ে একটি বিস্তৃত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চালানো হচ্ছে। সংস্থার চূড়ান্ত রিপোর্ট হাতে আসার পরেই রাজ্য প্রশাসন পরবর্তী চূড়ান্ত প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

মন্ত্রী তাঁর সাম্প্রতিক অস্ট্রেলিয়া সফরের স্মৃতিচারণ করে জানান, সেখানকার অত্যন্ত সুসংগঠিত গণপরিবহণ ব্যবস্থা তিনি নিজ চোখে পরিদর্শন করেছেন। সেই উন্নত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই অস্ট্রেলিয়ার অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও পরিকাঠামোগত কৌশলগুলি কলকাতায় প্রয়োগ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে রাজ্য। কলকাতার এই বিশাল পরিবহণ পরিকাঠামো উন্নয়নে অংশ নিতে অস্ট্রেলীয় সংস্থাগুলিও বেশ উৎসুক। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কনসাল জেনারেলকে বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে, তারা যেন আগ্রহী অস্ট্রেলীয় সংস্থাগুলিকে সরকারের ভবিষ্যৎ টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে উৎসাহিত করেন। তবে পুরো বিষয়টি যে সম্পূর্ণভাবে সরকারি স্বচ্ছ নিয়মাবলি এবং আইনি নীতি মেনেই সম্পন্ন হবে, তা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।