পুজোর পরেই বঙ্গে ভোটের সুনামি! নভেম্বরের শেষেই কি বেজে উঠবে পুরভোটের বাদ্যি?

পুজো কাটতে না কাটতেই রাজ্যে ফের রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়ে বেজে উঠতে চলেছে ভোটের বাদ্যি। বিধানসভা নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার রাজ্যজুড়ে পুরসভা নির্বাচন করানোর তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। প্রশাসনিক সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, চলতি বছরের নভেম্বর মাসের শেষ অথবা ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই পুরভোট সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এগোচ্ছে কমিশন। নির্দিষ্ট সেই সময়সীমা মাথায় রেখেই এখন থেকেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে।

কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে কলকাতা পৌরসভা সহ রাজ্যের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পুরভোটগুলি সম্পন্ন করার প্রাথমিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্য পূরণের জন্য ভোটার তালিকা সংশোধন, পোলিং স্টেশন চিহ্নিতকরণ এবং ওয়ার্ডভিত্তিক আসন সংরক্ষণের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলি দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংশোধিত ভোটার তালিকার ভিত্তিতেই আসন্ন এই পুরভোট পরিচালিত হবে এবং ভোট প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন অফ ইন্ডিয়ার সমস্ত নির্দেশিকা কঠোরভাবে মেনে চলা হবে বলে জানা গেছে।

এদিকে আসন্ন পুরভোটের আগে রাজ্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্পোরেশন ও পুরসভায় ওয়ার্ড বিন্যাসে বড়সড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রশাসনিক তথ্যানুযায়ী, কলকাতা পুরসভায় ওয়ার্ডের সংখ্যা ১৪৪ থেকে বাড়িয়ে ২০৯ করার প্রক্রিয়া চলছে। অন্যদিকে, হাওড়া পুরসভায় ওয়ার্ড সংখ্যা ৫০ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৬৮ এবং ঐতিহ্যবাহী হলদিয়া পুরসভায় ২৯টি থেকে বাড়িয়ে ওয়ার্ডের সংখ্যা ৩০ করা হয়েছে। এই ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস এবং সীমানা নির্ধারণ প্রক্রিয়া ভোট রাজনীতিতে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

প্রাথমিক পর্যায়ে রাজ্যের কোন কোন অঞ্চলে ভোটগ্রহণ করা হতে পারে, তা নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে। কমিশন সূত্রে খবর, প্রথম দফায় কলকাতা ও হাওড়া-বালি ছাড়াও ঝাড়গ্রাম, কালিম্পং, কার্শিয়াং এবং ধূপগুড়ি পুরসভায় ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হতে পারে। এই সার্বিক প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে বুধবারই একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠকে বসছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের সমস্ত জেলার জেলাশাসক এবং অতিরিক্ত জেলাশাসকদের নিয়ে একটি ভার্চুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ওই বৈঠকে নির্বাচনের সার্বিক নিরাপত্তার প্রস্তুতি, পোলিং স্টেশনের পরিকাঠামো এবং ওয়ার্ডভিত্তিক জনসংখ্যার নিরিখে আসন সংরক্ষণের চূড়ান্ত রূপরেখা প্রস্তুত করা হবে। সবমিলিয়ে, বিধানসভা ভোটের মহাযুদ্ধের পর এবার বাংলার শহরাঞ্চলগুলিতে পুরভোটের আবহ দানা বাঁধতে শুরু করেছে।