দলত্যাগ বিরোধী আইনের নোটিশ গলার ফাঁস! জবাব দিতে তিন সপ্তাহের সময় চাইলেন ২০ জন বিদ্রোহী টিএমসি সাংসদ

দলত্যাগ বিরোধী আইনের ফাঁদে পড়ে মারাত্মক চাপে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) বিশজন বিদ্রোহী সাংসদ। লোকসভা সচিবালয়ের জারি করা নোটিশের জবাব দেওয়ার জন্য তাঁরা স্পিকারের কাছে আরও তিন সপ্তাহের সময় চেয়ে আবেদন করেছেন। মঙ্গলবার ইমেল এবং কুরিয়ারের মাধ্যমে লোকসভা সচিবালয়ের পরিচালকের কাছে এই সংক্রান্ত একটি হার্ড কপি পাঠিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সময় বাড়ানোর আর্জি জানানো হয়েছে। আগামী ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় চেয়ে জানানো হয়েছে যে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেওয়া ২২ পৃষ্ঠার দীর্ঘ আবেদনে আনীত অসংখ্য অভিযোগের পুঙ্খানুপুঙ্খ এবং সঠিক জবাব প্রস্তুত করার জন্যই এই বাড়তি সময়ের প্রয়োজন।

গত ২৫ আগস্ট লোকসভা সচিবালয় এই নোটিশ জারি করে সাত দিনের মধ্যে জবাব তলব করেছিল। তবে নোটিশ পাওয়ার পর থেকেই পিএমও (PMO)-র সঙ্গে যোগাযোগ এবং শীর্ষ আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করে আইনি পথে লড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এই বিদ্রোহী সাংসদরা। লোকসভায় এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, নিজেদের অবস্থান আইনগতভাবে স্পষ্ট করতেই তাঁরা স্পিকারের কাছে তিন সপ্তাহ সময় চেয়েছেন। অন্যদিকে, আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টেও এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে, যেখানে এই ২০ জন সাংসদকে নিজেদের জবাব পেশ করতে হবে।

সংবিধানের দশম তফসিল অনুযায়ী, শুধুমাত্র গোটা রাজনৈতিক দলই একীভূত হতে পারে, কোনো স্বতন্ত্র সাংসদ নয়—তৃণমূলের এমন যুক্তির বিপরীতে বিদ্রোহী সাংসদদের দাবি, দলে তাঁদের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সমর্থন রয়েছে। ফলে এই আইন তাঁদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় বলেই তাঁদের মত। এখন দেখার বিষয়, লোকসভার স্পিকার ওম বিরলা এই বিদ্রোহী সাংসদদের অতিরিক্ত সময় মঞ্জুর করেন, নাকি এই ঐতিহাসিক অযোগ্যতার মামলাটিতে দ্রুত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন।