যুদ্ধের মাঝেই বড়সড় শান্তির বার্তা! শর্ত মানলে যুদ্ধবিরতিতে ফিরতে রাজি ইরান, ট্রাম্প কী করবেন?

যুক্তরাষ্ট্র যদি পূর্বের সমঝোতা স্মারক বা যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্তাবলীতে পুনরায় ফিরে আসে, তবে ইরানও অবিলম্বে পাল্টা ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে প্রস্তুত বলে ঘোষণা করলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। কিরগিজস্তানের বিশকেকে অনুষ্ঠিত সাংহাই কো-অপারেশন অর্গ্যানাইজেশন (এসসিও) সম্মেলনের ফাঁকে এই মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চুক্তির শর্ত ভঙ্গের গুরুতর অভিযোগও তোলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট।
চুক্তি ভাঙার নেপথ্য কাহিনী:
এর আগে গত জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সেই চুক্তি ভেস্তে গিয়েছিল। দুই পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলায় পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে। হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে ধারাবাহিক আগ্রাসনের অভিযোগ তুলে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। পানামার পতাকাবাহী একটি ট্যাঙ্কারে ইরানের ড্রোন হামলার পরেই সেই সামরিক সংঘাতের সূচনা হয়েছিল। তেহরান অবশ্য শুরু থেকেই জানিয়ে আসছে যে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে অবাধ চলাচলের অনুমতি তারা দিলেও প্রতিটি জাহাজকে তাদের নির্দিষ্ট শর্ত মানতে হবে।
বর্তমান পরিস্থিতি ও আমেরিকার প্রতিক্রিয়া:
সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালীর লারাক দ্বীপে মাইন-স্থাপনের কাজে যুক্ত ইরানি বাহিনীর ওপর আমেরিকা হামলা চালালে, জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলি লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায় ইরান। এই উত্তেজনার মধ্যেই ওভাল অফিসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন যে ইরানের সাম্প্রতিক হামলার উপযুক্ত ‘জবাব’ দেওয়া হবে, তবে এর অর্থ এই নয় যে পুরোপুরি সর্বাত্মক যুদ্ধে ফিরে যাচ্ছে দুই দেশ। এখন দেখার বিষয়, ইরানের এই যুদ্ধবিরতিতে ফেরার প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে মার্কিন প্রশাসন শেষ পর্যন্ত কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।