সরকারি কর্মচারীদের জন্য বিরাট সুখবর! নতুন পে-স্কেল কার্যকর হতেই কি আকাশছোঁয়া হবে দ্রব্যমূল্য? জানুন আসল সত্য

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে দেশের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নবম জাতীয় বেতন কাঠামো বা নতুন পে-স্কেল অনুমোদন করেছে সরকার। চলতি বছরের পহেলা জুলাই থেকেই এই পে-স্কেল কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এই ঐতিহাসিক ঘোষনার পরেই শুরু হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা। অতিরিক্ত এই বিশাল অঙ্কের অর্থের জোগান কীভাবে আসবে এবং এর ফলে বাজারে মূল্যস্ফীতি বা দ্রব্যমূল্য হু হু করে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা কতটা— তা নিয়ে এখন দেশজুড়ে চলছে তীব্র আলোচনা।

কত বাড়ছে বেতন ও খরচ কত হবে?
সরকারি সূত্র ও বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, নবম পে-স্কেলে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে দেশে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি চাকরিজীবী এবং প্রায় ৯ লাখ পেনশনভোগী রয়েছে। নতুন এই কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক ব্যয় হবে আনুমানিক ১ লাখ ৫ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা। এর মধ্যে চলতি অর্থবছরের বাজেটে ৪৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে একসঙ্গে পুরো টাকা দেওয়া সম্ভব না হওয়ায় সরকার আগামী দুই বছরে ধাপে ধাপে, অর্থাৎ তিন কিস্তিতে মূল বেতন পরিশোধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

অর্থের সংস্থান ও অর্থনীতিবিদদের কপালে চিন্তার ভাঁজ:
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আয় বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সহায়তায় এই বিপুল ব্যয়ের সংস্থান করা হবে। তবে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, রাজস্ব আয়ের দুর্বলতা এবং মূল্যস্ফীতির চাপ বিবেচনা করে অর্থনীতিবিদরা এই পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে বড় ধরনের ঝুঁকির কথা বলছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিশেষজ্ঞ ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (CPD) গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেমের মতে, এক বছরের মধ্যে এই পে-স্কেল পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে হলে সরকারকে ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত ঋণ নিতে হতে পারে। এর ফলে এমনিতেই চাপে থাকা বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (ADP) আরও কাটছাঁট করতে বাধ্য হবে সরকার। পাশাপাশি, সরকারি খাতের এই বেতন বৃদ্ধির প্রভাবে বেসরকারি খাত এবং সাধারণ মানুষের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মূল্যস্ফীতি ও বেসরকারি খাতের ওপর চাপ:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির শিক্ষক সায়মা হক বিদিশার মতে, জ্বালানি সংকট ও উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির এই সময়ে নতুন পে-স্কেল বাজারে বাড়তি মুদ্রাস্ফীতি তৈরি করতে পারে। বাজারে কৃত্রিম সংকট রোধ এবং মজুতদারি ঠেকাতে কঠোর নজরদারি না রাখলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সবমিলিয়ে, সরকারি কর্মচারীদের মুখে হাসি ফোটালেও এই নতুন পে-স্কেল দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে কতটা স্বস্তি আনবে, এখন সেটাই দেখার বিষয়!