এআই ডেটা সেন্টারের দাপটে চরম বিদ্যুৎ সংকট! পরিস্থিতি সামাল দিতে এবার ময়দানে নামলেন এলন মাস্ক

বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI ডেটা সেন্টারের রমরমায় লাফিয়ে বাড়ছে বিদ্যুতের চাহিদা। আর এই বিপুল শক্তির জোগানে ঘাটতি দেখা দেওয়ার আশঙ্কায় এবার এক অভিনব ও দূরদর্শী পদক্ষেপ করতে চলেছেন টেক জায়ান্ট এলন মাস্ক। নিজস্ব কোম্পানির মাধ্যমেই গ্যাস টারবাইনের যন্ত্রাংশ তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাঁর মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ‘স্পেসএক্স’ (SpaceX)। আর এর জন্য টেক্সাসের বাস্ত্রোপ এলাকায় একটি বিশাল ইন-হাউস ফাউন্ড্রি বা নিজস্ব কারখানা গড়ে তোলা হচ্ছে।
কেন এই বড় সিদ্ধান্ত নিলেন মাস্ক?
মাইক্রোব্লগিং প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’ (X)-এ এই নতুন পরিকল্পনার কথা প্রকাশ করেছেন মাস্ক। তাঁর মতে, টেসলা ও স্পেসএক্স সোলার প্যানেলের উৎপাদন বাড়ালেও আগামী কয়েক বছর নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রয়োজনীয়তা থেকেই যাবে। কিন্তু সমস্যা হলো, গ্যাস টারবাইনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ— যেমন ব্লেড এবং ভেনস (vanes) তৈরির জন্য বিশেষ ধরনের কাস্টিং প্রযুক্তি ও উন্নত পরিকাঠামোর প্রয়োজন হয়। বর্তমান বাজারে এই ধরনের যন্ত্রাংশ তৈরি করতে পারে এমন কারখানার সংখ্যা অত্যন্ত সীমিত। মাস্কের দাবি, এই কাস্টিং প্রক্রিয়াই হলো গ্যাস টারবাইন উৎপাদনের সবচেয়ে বড় বাধা বা ‘বটলনেক’। স্পেসএক্স যদি নিজেরাই এই যন্ত্রাংশ তৈরি শুরু করে, তবে নতুন বিদ্যুৎ প্রকল্প চালু করার সময় প্রায় ১৮ মাস পর্যন্ত কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
মহাকাশ প্রযুক্তি ও AI-এর মেলবন্ধন:
জানা গেছে, ২০২৬ সালের মার্চ থেকে জুনের মধ্যে এই প্রকল্পের জন্য টেক্সাসের বাস্ত্রোপ-এ (অস্টিন থেকে প্রায় ৪৮ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত স্টারলিংক ম্যানুফ্যাকচারিং প্লান্টের কাছে) প্রায় ৮৩০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। আর্থিক বিশ্লেষকদের মতে, স্পেসএক্সের রকেট ইঞ্জিনের টারবাইন পাম্প কাস্টিং এবং ডেটা সেন্টারের গ্যাস টারবাইনের যন্ত্রাংশ তৈরিতে একই ধরনের সংকর ধাতু (alloy) ব্যবহার করা যায়। ফলে একই কারখানায় মহাকাশ বিজ্ঞান এবং এআই-ভিত্তিক ডেটা সেন্টারের কাজ একসঙ্গে চালানো সম্ভব হবে, যা উৎপাদন খরচ অনেকটাই কমিয়ে দেবে।
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে এই উচ্চমানের টারবাইন কম্পোনেন্টস তৈরির কারখানাগুলি ২০২৯-৩০ সাল পর্যন্ত বুকড হয়ে রয়েছে। এর ফলে নতুন বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলিতে বড় ধরনের ব্যাকলগ তৈরি হয়েছে। তবে মাস্কের এই নিজস্ব কারখানা চালুর উদ্যোগ ডেটা সেন্টারগুলির ভবিষ্যৎ বিদ্যুৎ সংকটের স্থায়ী সমাধানে এক বিরাট ভূমিকা নিতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।