কৈলাস যাত্রার মাঝেই কাল হলো হড়পা বান! চোখের সামনে সব ভাসিয়ে নিয়ে গেল জল-পাথর, প্রাণে বাঁচলেন কীভাবে?

কৈলাস-মানস সরোবর দর্শনের স্বপ্ন নিয়ে নেপাল হয়ে তিব্বতের পথে রওনা দিয়েছিলেন বর্ধমানের ২২ জনের একটি বাঙালি দল। কিন্তু সেই যাত্রাপথই যে এক লহমায় মৃত্যুপুরী হয়ে উঠবে, তা ঘুণাক্ষরেও টের পাননি তাঁরা। আর সেই বিভীষিকাময় পরিস্থিতি থেকে তাঁদের মুুঠোবদ্ধ জীবন ফিরিয়ে আনল মাত্র ১০ মিনিটের একটি সাধারণ চা-বিরতি!
ভয়াবহ সেই মুহূর্তের বিবরণ:
গন্তব্যে পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে কাঠমান্ডু থেকে চিন সীমান্তের দিকে রওনা দিয়েছিলেন বর্ধমান শহরের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কল্যাণ তা এবং ব্যবসায়ী বিপ্লব হাজরা। পাহাড়ি রাস্তায় বেশ কিছুটা পথ এগোনোর পর চা খাওয়ার জন্য গাড়ি থামান তাঁরা। গরম চায়ে চুমুক দিতে দিতে কেটে যায় প্রায় ১০ মিনিট। আর ঠিক তার পরেই প্রকৃতির এক ভয়ঙ্কর রূপ দেখতে পান তাঁরা।
হঠাৎই পাহাড়ের বুক চিড়ে নেমে আসে সর্বগ্রাসী হড়পা বান। চোখের সামনে জল, কাদা আর বিশাল সব পাথরের স্রোত ভাসিয়ে নিয়ে যায় গাছপালা, ঘরবাড়ি, গাড়ি ও গবাদি পশু। স্থানীয়দের তাড়া খেয়ে প্রাণের ভয়ে খাড়াই পাহাড়ি রাস্তা প্রায় ২০০ মিটার দৌড়ে উঁচু জায়গায় আশ্রয় নেন ওই বাঙালি পর্যটকরা। চোখের পলকে চোখের সামনে ঘটে যাওয়া এই ধ্বংসলীলা দেখে নিজেদের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না তাঁরা।
চায়ের কাপেই জীবনদান:
পরবর্তী সময়ে বাড়ি ফিরে কল্যাণ বাবু ও বিপ্লব বাবু জানিয়েছেন, ওই ১০ মিনিটের চা-বিরতিটাই তাঁদের মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে এনেছে। তাঁরা যদি নির্দিষ্ট সময়ে ওই পথ পেরিয়ে নির্দিষ্ট ব্রিজের কাছাকাছি পৌঁছে যেতেন, তবে মুহূর্তের মধ্যে জলের তোড়ে তলিয়ে যেতেন। চোখের সামনে মৃত্যুকে এত কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে আজও শিউরে উঠছেন তাঁরা। যদিও এই মর্মান্তিক ঘটনার পরও মানস সরোবর যাওয়ার জেদ বা স্বপ্ন বিন্দুমাত্র ম্লান হয়নি তাঁদের।