‘যত বল করব, শরীর তত মজবুত হবে!’ কিংবদন্তিদের পরামর্শে কীভাবে বদলে গেল উদীয়মান ভারতীয় বোলারের কেরিয়ার?

ভারতীয় ক্রিকেটের উদীয়মান তরুণ পেসার গুরনূর ব্রাড় সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে দারুণভাবে শিরোনামে উঠে এসেছেন। মাত্র গত তিন মাস ধরে জাতীয় দলের অভিজ্ঞ দুই পেসার জসপ্রীত বুমরাহ এবং মোহাম্মদ সিরাজের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বোলিং করার অভিজ্ঞতা তাঁর বোলিং স্কিলে এক বিশাল ইতিবাচক পরিবর্তন এনে দিয়েছে। বর্তমানে তাঁর একমাত্র প্রধান লক্ষ্য দেশের হয়ে প্রতিটি ফরম্যাটেই নিয়মিত প্রতিনিধিত্ব করা। কেরিয়ারের শুরু থেকেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের জাত চিনিয়েছেন গুরনূর। ইতিমধ্যে তিনি ৬টি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে তুলে নিয়েছেন ১১টি উইকেট, যদিও তাঁর ইকোনমি রেট কিছুটা বেশি অর্থাৎ সাতের কাছাকাছি রয়েছে। তবে এই ২৬ বছর বয়সি প্রতিভাবান ফেসার দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, আফগানিস্তান এবং ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত ওয়ানডে সিরিজের কঠিন লড়াইয়ের সময় তিনি বোলিংয়ের নিখুঁত লেংথ এবং বৈচিত্র্য সম্পর্কে অত্যন্ত মূল্যবান কিছু কৌশল আয়ত্ত করতে পেরেছেন, যা তাঁর ভবিষ্যৎ কেরিয়ারকে আরও সমৃদ্ধ করবে।

সাংবাদিক বৈঠকে গুরনূর তাঁর এই রূপান্তরের পেছনের গল্প বলতে গিয়ে জানান যে, মূলত রঞ্জি ট্রফি এবং ‘ভারত এ’ (India A) দলের হয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে তাঁর ধারাবাহিক ও নজরকাড়া পারফরম্যান্সই তাঁকে ভারতীয় সিনিয়র জাতীয় দলে জায়গা করে দিয়েছে। তবে তিনি কেবল দলে সুযোগ পেতেই সন্তুষ্ট ছিলেন না, বরং কোন উইকেটে কোন নির্দিষ্ট ব্যাটারের বিরুদ্ধে ঠিক কেমন লাইন ও লেংথে বোলিং করা উচিত, সেই সূক্ষ্ম কৌশলগুলি নিখুঁতভাবে আয়ত্ত করতে চেয়েছিলেন। গুরনূরের মতে, আন্তর্জাতিক মঞ্চে লম্বা রেসের ঘোড়া হতে হলে শারীরিক ফিটনেস সবার আগে জরুরি। তাই তিনি নিজের শরীরকে এমনভাবে প্রস্তুত করতে চান যাতে তিনি ক্লান্তিহীনভাবে দীর্ঘ সময় ধরে ওভারের পর ওভার বল করতে পারেন এবং নিজের খেলা সম্পূর্ণভাবে উপভোগ করতে পারেন।

টিম ইন্ডিয়ার প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর, বোলিং কোচ মর্নি মর্কেল এবং জসপ্রীত বুমরাহের মতো বিশ্বমানের অভিজ্ঞ সতীর্থদের সান্নিধ্য তাঁর বোলিংয়ে অনন্য ধার এনে দিয়েছে। গুরনূরের কথায়, মর্নি স্যার ও গম্ভীর স্যারের সঙ্গে রুটিন কথাবার্তা এবং বুমরাহ ও সিরাজ ভাইদের নিখুঁত বোলিং অ্যাকশন খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করার পর একজন পেসার হিসেবে তাঁর আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বেড়ে গেছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই অভিজ্ঞ তারকারা যেভাবে নিজেদের মানসিক ও শারীরিক দিক থেকে ম্যাচের জন্য প্রস্তুত করেন এবং উইকেটে আগ্রাসী মনোভাব বজায় রেখে প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের ওপর নিয়মিত চাপ সৃষ্টি করেন, সেই টেকনিকই গুরনূর এখন নিজের বোলিংয়ে প্রয়োগ করার চেষ্টা করছেন।