পর্ন অ্যাপের ফাঁদে সর্বস্বান্ত হতে পারেন! মেটার প্ল্যাটফর্মে চলা বিপজ্জনক ম্যালওয়্যার নিয়ে মারাত্মক সতর্কতা জারি কেন্দ্রের

সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারকারীদের সুরক্ষার স্বার্থে অত্যন্ত কঠোর সতর্কবার্তা জারি করল কেন্দ্রীয় সরকার। সোমবার দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনস্থ বিশেষ বিভাগের তরফে একটি গুরুত্বপূর্ণ অ্যাডভাইসরি জারি করা হয়েছে। সেখানে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, কিছু অসাধু অপরাধী চক্র পর্নোগ্রাফি অ্যাপকে প্রধান হাতিয়ার বানিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে ভয়ঙ্কর প্রতারণার ছক কষেছে। অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে মেটা (Meta)-র বিভিন্ন জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম, মূলত ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে এই সমস্ত ক্ষতিকর অ্যাপগুলির লোভনীয় বিজ্ঞাপন ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে সাধারণ ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্ত করার জন্য।

সোমবার মূলত ‘ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম থ্রেট অ্যানালিটিক্স ইউনিট’ (NCTAU)-র পক্ষ থেকে এই চাঞ্চল্যকর অ্যাডভাইসরি প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে বিশেষভাবে কয়েকটি বিপজ্জনক অ্যাপের নাম প্রকাশ্যে আনা হয়েছে, যেগুলি থেকে সাধারণ মানুষকে অবিলম্বে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নিষিদ্ধ ও ক্ষতিকর অ্যাপগুলির তালিকায় রয়েছে— Night Play, Reloop, Kyss, Vimo, Rivo, Nexo এবং Vixa। এছাড়াও এই ধরনের সমতুল্য বা অন্য কোনো অজানা নামের থার্ড-পার্টি অ্যাপ ডাউনলোড করার ক্ষেত্রেও চরম সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই অ্যাপগুলির ভেতরে অত্যন্ত শক্তিশালী ম্যালওয়্যার লুকিয়ে রয়েছে, যা একবার ফোনে ইনস্টল হয়ে গেলে ব্যবহারকারীর পুরো ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ সরাসরি সাইবার অপরাধীদের হাতের মুঠোয় চলে যায়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এনসিটিএইউ (NCTAU)-র তদন্তে উঠে এসেছে যে, এই সাইবার প্রতারণা চক্রটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে কাজ করে। প্রথমে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে এই অ্যাপগুলির জমকালো বিজ্ঞাপন দেখে কোনো ব্যবহারকারী ফাঁদে পা দিয়ে অ্যাপটি ডাউনলোড করেন। ফোনে অ্যাপটি ইনস্টল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিডিয়ো এবং ফটো সহ বিভিন্ন কন্টেন্ট অ্যাক্সেস করার নাম করে একটি এক্সটার্নাল এপিকে (APK) ফাইল ডাউনলোডের নির্দেশ দেওয়া হয়। আসলে এই ক্ষতিকর এপিকে ফাইলটিই হলো আসল ম্যালওয়্যার। অনেক সময় অ্যাপগুলি ডাউনলোড করার ঠিক পরেই তা আপডেট করার নির্দেশ আসে, এবং সেই আপডেটের আড়ালেও ম্যালওয়্যার ফাইলটি গোপনে ডিভাইসে প্রবেশ করে।

এই ম্যালওয়্যার ফাইলগুলি ফোনে ডাউনলোড হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অনেক সময় ব্যাকগ্রাউন্ডে একটি ক্ষতিকর ভিপিএন (VPN)-ও ইনস্টল হয়ে যায়। এর ফলে ব্যবহারকারীর ফোনের সমস্ত ইন্টারনেট ট্রাফিক বা ডেটা সোজা হ্যাকারদের নিজস্ব সার্ভারের মধ্য দিয়ে পরিচালিত হতে শুরু করে। এর জেরে অপরাধীরা আক্রান্ত ডিভাইসের সম্পূর্ণ রিমোট অ্যাকসেস বা নিয়ন্ত্রণ হাসিল করে নেয়। তাছাড়া ইনস্টল করার সময় এই অ্যাপগুলি বিভিন্ন সংবেদনশীল পারমিশন বা অনুমতিও আদায় করে নেয়, যার ফলে ফোনের ক্যামেরা, কন্টাক্টস এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ফিচারগুলি অপরাধীদের কব্জায় চলে যায়।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জোরালোভাবে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে বলা হয়েছে যে, এই ধরনের কোনো অ্যাপ যেন ভুলেও ডাউনলোড করা না হয়। কারণ এর ফলে ব্যক্তিগত ডেটা চুরির পাশাপাশি বড় ধরনের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিপদের সম্ভাবনা থাকে। সবচেয়ে বড় কথা, এই ধরনের ক্ষতিকর অ্যাপগুলি গুগল প্লে স্টোর (Play Store)-এর সিকিউরিটি সার্ভারের মধ্যে তালিকাভুক্ত থাকে না, ফলে সেগুলি গুগলের শক্তপোক্ত নিরাপত্তা বেষ্টনী খুব সহজেই এড়িয়ে বাইরে থেকে ফোনে ঢুকে পড়ে। তাই মন্ত্রকের তরফে সমস্ত দেশবাসীকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যে, অ্যাপ ডাউনলোড করার সময় সবসময় বিশ্বস্ত এবং একমাত্র গুগল প্লে স্টোর অথবা অ্যাপলের অ্যাপ স্টোর (App Store)-এর ওপরই ভরসা রাখুন।