প্রয়াত স্ত্রীর ঠিক ৫০ বছর পর জীবনে এলেন নতুন আলোর দিশারী! প্রখ্যাত পরিচালক প্রভাত রায়ের কোলে আজ খুশির বন্যা

সালটা ২০২৩। বাংলা চলচ্চিত্রের প্রখ্যাত ও জনপ্রিয় পরিচালক প্রভাত রায়ের (Prabhat Roy) বর্ণময় জীবনে নেমে এসেছিল এক গভীর অন্ধকার নেমে এসেছিল। তাঁর দীর্ঘ ৫০ বছরের ছায়াসঙ্গী ও স্ত্রী জয়শ্রী রায় হঠাৎই প্রয়াত হন। তাঁদের নিজস্ব কোনো সন্তান না থাকায় স্ত্রী হারানোর পর পরিচালক সম্পূর্ণ একা হয়ে পড়েন। চারপাশের আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধব যখন যে যার ব্যস্ত জীবনে নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছিল, ঠিক তখনই পরিচালকের জীবনে এক দেবদূতের মতো আবির্ভূত হন একতা ভট্টাচার্য (Ekta Bhattacharjee)। গুরুতর অসুস্থ ও শয্যাশায়ী প্রভাত রায়ের পাশে ছায়ার মতো দাঁড়িয়ে নিজের বাবার মতো তাঁর সেবাযত্ন করে সুস্থ করে তোলেন একতা। সেই থেকেই একতা ও প্রভাত রায়ের মধ্যে গড়ে ওঠে এক অপূর্ব ও নিবিড় বাবা-মেয়ের পবিত্র সম্পর্ক। আর আজ সেই মেয়ের জন্মদিনে সোশ্যাল মিডিয়ায় না বলা অনেক কথা উজাড় করে দিলেন প্রবীণ পরিচালক। অন্যদিকে, সদ্য মা হওয়া একতাও জীবনের এই বিশেষ দিনে প্রথমবার নিজের আদরের মেয়ের মুখ প্রকাশ্যে এনেছেন।

পরিচালক প্রভাত রায় তাঁর স্নেহের মেয়েকে নিয়ে ফেসবুকে একটি দীর্ঘ ও আবেগপ্রবণ খোলা চিঠি লিখেছেন। ‘লাঠি’ ও ‘খেলাঘর’-এর মতো কালজয়ী ছবির সফল পরিচালক লিখেছেন, “জীবনে মাঝে মাঝে এমন অনেক অদ্ভুত ঘটনা ঘটে যার সঠিক কোনো মানে খুঁজে পাওয়া যায় না। আমার স্ত্রী জয়শ্রী দীর্ঘ ৫০ বছর আমার সঙ্গে সংসার করার পর গত বছর ২৮ এপ্রিল হঠাৎ আমাকে একা ফেলে চলে গেল। আমাদের কোনো ছেলে বা মেয়ে নেই। ফলে আমি একেবারে অসহায় ও একা হয়ে গেলাম। সবাই যখন নিজের মতো ব্যস্ত, ঠিক তখনই আমি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লাম এবং চোখের সামনে অন্ধকার দেখলাম। কিন্তু ঈশ্বর সম্ভবত সব দরজা একসঙ্গে বন্ধ করে দেন না।”

একতার অবদান স্মরণ করে পরিচালক আরও লেখেন, “একটি মেয়ে, যে নাকি ছোটবেলা থেকেই আমার মতো চলচ্চিত্র পরিচালক হতে চেয়েছিল এবং আমার প্রতিটি ছবি যার নখদর্পণে, সে এসে আমার হাত ধরে বলল, ‘এরপর থেকে তুমি আর কোনোদিন নিজেকে একা ভাববে না, কোনো কিছু নিয়ে চিন্তা করবে না, আমি তোমার পাশে আছি।’ সে আমার সব রকম শারীরিক ও মানসিক খেয়াল রেখে, পরম যত্নে আমাকে সুস্থ করে তুলল। ও আমাকে ভালোবেসে ‘বাবা’ বলে ডাকে, অথচ আমি কোনোদিন যে এই মিষ্টি ডাকটা শুনতে পাবো, তা স্বপ্নেও ভাবিনি। বিগত এক বছর আমার বহু কষ্ট ও লড়াইয়ের মধ্যে কাটছিল, বাঁচতে চাওয়ার ইচ্ছেটাও মরে গিয়েছিল। কিন্তু এখন আমার এই মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে আরও কিছু বছর এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকার নতুন ইচ্ছে জেগেছে।”

এদিকে, শুধু প্রভাত রায়ই নন, একতা ভট্টাচার্যও তাঁর নিজের জন্মদিনে জীবনের সবথেকে বড় উপহারটি সবার সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন। তিনি প্রথমবারের মতো তাঁর ছোট্ট সোনা মেয়ের মিষ্টি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ্যে এনেছেন (Ekta Bhattacharjee daughter)। মেয়ের জন্মদিনের এই বিশেষ মুহূর্তে একতা একটি সুন্দর ও আবেগভরা ক্যাপশন লিখেছেন। তিনি লিখেছেন, “আজ আমার নিজের জন্মদিনে আপনাদের সবার জন্য রইল একটা আস্ত রসগোল্লা! আমার মেয়ের ভালো নাম রাখা হয়েছে ‘আধীরা মিত্র’—এই নামটা রেখেছে আমার বাবা, অর্ণেশ মিত্র। আর ওর একটা সুন্দর ডাকনাম রাখা হয়েছে ‘গিনি’—যেটা রেখেছে ওর ‘বড় দাদা’, স্বয়ং প্রভাত রায়। তা ছাড়াও আমাদের দুই পরিবারের দাদু, দিদা, ঠাম্মা, পিশি এবং সমস্ত ভালোবাসার মানুষদের দেওয়া ওর আরও ১০৮টা আদরের নাম রয়েছে! আপনারা চাইলে আপনাদের ইচ্ছেমতো যেকোনো নামে ওকে ডাকতে পারেন।” পরিচালকের জীবনের এই নতুন অধ্যায় এবং ছোট্ট অতিথির আগমন বাংলা চলচ্চিত্র জগত ও অনুরাগীদের মনে এক গভীর আনন্দের সৃষ্টি করেছে।