‘মিথ্যার রাজনীতি দেশকে পিছিয়ে দিচ্ছে!’ জিডিপি-র রকেটের গতি দেখেই নাম না করে রাহুল গান্ধীকে চরম আক্রমণ প্রধানমন্ত্রীর

চলতি অর্থবর্ষের এপ্রিল থেকে জুন এই প্রথম ত্রৈমাসিকে ভারতের অর্থনীতি সমস্ত শঙ্কা ও পূর্বাভাসকে ভুল প্রমাণিত করে এক অভাবনীয় ও শক্তিশালী গতিতে এগিয়ে চলেছে। সোমবার সরকারিভাবে প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার বা জিডিপি (GDP) পৌঁছ জানিয়েছে ৭.৮ শতাংশে। মধ্যপ্রাচ্যের তীব্র ইরান-সংঘাত এবং তার জেরে বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া গভীর আর্থিক অনিশ্চয়তা ও সাপ্লাই চেইনের চরম বিপর্যয়ও ভারতের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক অগ্রগতির চাকা থামাতে পারেনি। দেশের এই ঐতিহাসিক সাফল্য ও অর্থনৈতিক অর্জনের প্রেক্ষাপটকে সামনে রেখে এবার লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে কড়া ভাষায় নিশানা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
দেশের এই অর্জনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, “দেশের জনগণকে আমার আন্তরিক অভিনন্দন। ৭.৮ শতাংশের এই শক্তিশালী বৃদ্ধি দেশকে আনন্দিত ও গৌরবান্বিত করেছে। তবে এর কৃতিত্ব দেশের প্রতিটি নাগরিকের দৃঢ় সংকল্প ও কঠোর পরিশ্রমেরই প্রাপ্য। এটি আমাদের সকলের সম্মিলিত শক্তিরই এক অনন্য প্রতিফলন।” বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন যে, গোটা বিশ্ব আজ যুদ্ধ, সংঘাত ও নানাবিধ গভীর সংকটে জর্জরিত। ২০২০ সালের কোভিড-পরবর্তী সময় থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত আন্তর্জাতিক স্তরে কোথাও কোনো প্রকৃত স্থিতিশীলতা দেখা যাচ্ছে না। এর মধ্যে সরবরাহ শৃঙ্খল বা সাপ্লাই চেইন মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হওয়া সত্ত্বেও ভারত প্রমাণ করে দিয়েছে যে সমস্ত প্রতিকূলতাকে জয় করে দেশ কীভাবে নিজস্ব গতিতে এগিয়ে যেতে পারে।
এর পরেই নাম না করে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে অত্যন্ত জোরালো ভাষায় আক্রমণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি তীব্র কটাক্ষ করে বলেন, “অন্যদিকে, ভারতের অভ্যন্তরেই হতাশায় নিমজ্জিত কিছু মানুষ চারদিকে কেবল ‘মিথ্যার প্রতিধ্বনি’ বা ‘ঝুট কি গুঞ্জ’ ছড়িয়ে বেড়াচ্ছেন। তবে দেশের সাধারণ মানুষ সেই সমস্ত নেতিবাচক ও বিভ্রান্তিকর কথাবার্তা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে ৭.৮ শতাংশের এই অবিশ্বাস্য অর্থনৈতিক বৃদ্ধি অর্জন করেছে। আমাদের এই অগ্রগতির গতিধারাকে আগামী দিনেও একইভাবে বজায় রাখতে হবে।” প্রসঙ্গত, মোদির এই ‘ঝুট কি গুঞ্জ’ মন্তব্যটি গত সপ্তাহে একটি রাজনৈতিক ব্যঙ্গাত্মক গোষ্ঠীর দ্বারা রাহুলের ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ প্রচার অভিযানের সমালোচনার সূত্র ধরেই এসেছে। এর আগে বিজেপি নেতৃত্বও দাবি করেছিল যে, রাহুল গান্ধীর সাম্প্রতিক প্রচার কর্মসূচিতে দেওয়া বক্তব্যের একটি বড় অংশই তথ্যগতভাবে ভুল ও বিভ্রান্তিকর ছিল।