রক্ত পাচার কাণ্ডে বড় স্বস্তি! কলকাতার কোন ৩ জনপ্রিয় ব্লাড ব্যাঙ্কের উপর থেকে উঠল নিষেধাজ্ঞা?

পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় শোরগোল ফেলে দেওয়া রক্ত ও প্লাজমা পাচার কাণ্ড এবং একাধিক গুরুতর অনিয়মের অভিযোগে কোণঠাসা হওয়া কলকাতার তিন বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কের ওপর থেকে অবশেষে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিল রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর। দীর্ঘ টালবাহানা ও আইনি টানাপড়েনের পর স্বাস্থ্য ভবনের এই সিদ্ধান্তে শহরজুড়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে, সেগুলি হলো—হাজরার পিপলস ব্লাড ব্যাঙ্ক, আলিপুরের কোঠারি ব্লাড ব্যাঙ্ক এবং যোধপুর পার্কের অশোক ব্লাড ব্যাঙ্কের নাম। পূর্বে রক্তদান শিবির থেকে রক্ত সংগ্রহ এবং সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর স্বাস্থ্য দফতর এই ব্লাড ব্যাঙ্কগুলির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, রাজ্য স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর অভিযুক্ত ব্লাড ব্যাঙ্কগুলির কতগুলি কঠোর শর্ত সাপেক্ষে মুচলেকা জমা দেয়। সরকারের বেঁধে দেওয়া সেই সমস্ত শর্ত ও নিয়মাবলী মেনে নেওয়ার পরেই স্বাস্থ্য ভবন এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, ব্লাড ব্যাঙ্কগুলি এখন থেকে ইচ্ছামতো যথেচ্ছভাবে রক্তদান শিবির করে রক্ত সংগ্রহ করতে পারবে না। প্রতিটি ব্লাড ব্যাঙ্কের জন্য রক্ত সংগ্রহের নির্দিষ্ট সীমা বা কোটা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, রাজ্য সরকারের পূর্বানুমতি বা স্পেশাল পারমিশন ছাড়া কোনোভাবেই ভিন রাজ্যে রক্ত বা প্লাজমা পাঠানো যাবে না। উল্লেখ্য, এর আগে স্বাস্থ্য দফতরের তদন্তে রাজ্যের মোট ১২টি ব্লাড ব্যাঙ্কের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল, যার মধ্যে এখনও পর্যন্ত মাত্র ৫টি ব্লাড ব্যাঙ্কের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হলো এবং বাকি ৭টি ব্লাড ব্যাঙ্কের ওপর নিষেধাজ্ঞা এখনও বলবৎ রয়েছে।

এদিকে ব্লাড ব্যাঙ্ক কেলেঙ্কারির শিকড় যে কতটা গভীরে, তা তদন্ত করতে গিয়ে স্বাস্থ্য ভবনের অধিকারিকদের চোখ কপালে উঠেছে। রক্ত দুর্নীতির তদন্তে নেমে স্বাস্থ্য দফতর জানতে পেরেছে যে, এই কেলেঙ্কারির পেছনেও কাজ করছিল এক বিরাট ‘কাটমানি’ চক্র। বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজের পড়ুয়াদের টাকার লোভ দেখিয়ে ভুয়া ডাক্তার সাজিয়ে বিভিন্ন রক্তদান শিবিরে পাঠানো হতো। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় কলকাতার এসএসকেএম (SSKM), এনআরএস (NRS) এবং ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী স্বাস্থ্য ভবনের স্ক্যানারে রয়েছেন। তদন্তে উঠে এসেছে যে, প্রতিটি ক্যাম্পের জন্য বরাদ্দ ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকার মধ্যে ডাক্তারি পড়ুয়ারা পেতেন মাত্র ৮০০ টাকা, আর বাকি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা সোজা চলে যেত প্রভাবশালী ছাত্র নেতাদের পকেটে। এই পুরো দুর্নীতি চক্রে তিন মেডিক্যাল কলেজের তিন প্রভাবশালী ছাত্রনেতার নামও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে, যা নিয়ে রাজ্যজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।