কলকাতায় যত্রতত্র মূত্রত্যাগ বা থুতু ফেললে বড় অঙ্কের জরিমানা! পুরসভার নতুন কড়া নিয়ম কার্যকর হতেই শহরে চাঞ্চল্য

শহরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে এবার থেকে কলকাতা শহরে জারি হলো একাধিক নতুন এবং কড়া নিয়ম। পুর ও নগর উন্নয়ন দফতরের পক্ষ থেকে আজ থেকেই এই নির্দেশিকা কার্যকর করা হয়েছে। নতুন নিয়মে জানানো হয়েছে, যত্রতত্র মূত্রত্যাগ করা, খোলা জায়গায় থুতু ফেলা কিংবা সরকারিভাবে নিষিদ্ধ প্লাস্টিক ব্যবহার করলে সরাসরি জরিমানার খাঁড়া নামবে।

পুরমন্ত্রীর সাম্প্রতিক ঘোষণা অনুযায়ী, এবার থেকে যত্রতত্র মূত্রত্যাগ করলে দিতে হবে ২০০ টাকা জরিমানা, খোলা জায়গায় থুতু ফেললে ১০০ টাকা এবং নিষিদ্ধ প্লাস্টিক ব্যবহার করলে গুনতে হবে ২০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা। তবে প্রশাসন কড়া পদক্ষেপ নিলেও শহর ও সমাজের প্রকৃত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার জন্য সাধারণ মানুষের সচেতনতাই যে সবচেয়ে বেশি জরুরি, তা বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছেন বিশিষ্টজনেরা। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই নতুন জরিমানার নিয়ম কঠোরভাবে চালু হওয়ার প্রথম দিনেই কলকাতার ব্যস্ততম এলাকা ধর্মতলার বিভিন্ন প্রান্তে যত্রতত্র মূত্রত্যাগ করার মতো পুরোনো চিত্রই চোখে পড়েছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, ঠিক পাশেই আধুনিক পে অ্যান্ড ইউজ শৌচাগার বা সুলভ শৌচাগার থাকা সত্ত্বেও তা ব্যবহার করতে দেখা যায়নি অনেককেই। এ বিষয়ে পথচলতি সাধারণ মানুষকে প্রশ্ন করা হলে কেউ নির্বিকারভাবে উত্তর দিয়েছেন যে তাঁদের বিষয়টি জানা ছিল না, আবার কারও সাফাই, “আগে তো এমনই হতো!” ফলে আইন চালুর প্রথম দিনেই এমন বেপরোয়া ছবি সামনে আসায় সাধারণ মানুষের নাগরিক সচেতনতা ও সদিচ্ছা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

এদিকে শহরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার স্বার্থে পুরআইনের আওতায় এই জরিমানা চালুর ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তকে একবাক্যে স্বাগত জানিয়েছেন প্রবীণ রাজনৈতিক নেতা তথা মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তাঁর দ্ব্যর্থহীন দাবি, শুধু প্রশাসনের একতরফা দায়িত্ব নয়, শহরকে ঝকঝকে ও পরিচ্ছন্ন রাখা প্রতিটি নাগরিকেরই সমান নৈতিক দায়িত্ব। মঙ্গলবার এই প্রসঙ্গে নিজের মতামত ব্যক্ত করতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান যে শহর পরিষ্কার রাখার ক্ষেত্রে নাগরিক সচেতনতার পাশাপাশি নিয়ম ভাঙলে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থাও অত্যন্ত জরুরি। দিলীপ ঘোষের কথায়, “শহর পরিষ্কার রাখাটা আমাদের সকলের প্রধান দায়িত্ব। এর ওপরই নির্ভর করে আমাদের সমগ্র রাজ্যের আসল ইমেজ বা ভাবমূর্তি।” তাঁর মতে, এই ধরনের সময়োপযোগী ও কড়া পদক্ষেপ প্রশাসনের তরফ থেকে আরও অনেক আগেই নেওয়া উচিত ছিল।

পাশাপাশি, সম্প্রতি রাজ্য শহরের বেহাল দশা ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে বলতে গিয়ে তিনি জানান যে, তিনি নিজে সম্প্রতি চারজন উচ্চপদস্থ আধিকারিককে সঙ্গে নিয়ে দেশের সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন শহর ইন্দোর ঘুরে দেখেছেন। তাঁর অভিজ্ঞতা থেকে তিনি উল্লেখ করেন যে, ইন্দোর আজ ভারতের অন্যতম পরিচ্ছন্ন শহর হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে, কারণ সেখানে কীভাবে অত্যন্ত বৈজ্ঞানিক উপায়ে বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়, তার সঠিক প্রক্রিয়াকরণ করা হয় এবং বর্জ্য থেকে গ্যাস ও জৈব সার তৈরি করা হয়, সেই উন্নত পরিকাঠামো তাঁরা সরেজমিনে খতিয়ে দেখেছেন। কলকাতার পুরবোর্ডও এবার শহরকে সেই পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্যই এই কঠোর জরিমানা ও শৃঙ্খলার পথ বেছে নিয়েছে, যা আগামী দিনে শহরের চেহারা বদলে দিতে পারে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।