রংপুরে একই পরিবারের চারজন খুন কাণ্ড: জেরায় মাদক নেওয়ার কথা বললেও টেস্টে মিলল না কিছুই!

রংপুর নগরের দাসপাড়া মাছুয়াপাড়া এলাকায় একই পরিবারের চারজনকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই অভিযুক্ত সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডোপ টেস্টের প্রতিবেদন ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। আদালতের জবানবন্দিতে তাঁরা মাদক সেবনের কথা স্বীকার করলেও, সাম্প্রতিক ডোপ টেস্টের রিপোর্টে তাঁদের শরীরে কোনো মাদক বা নেশার বস্তুর অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এর ফলে গোটা তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়েই নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
ডোপ টেস্টের ফলাফল ও পুলিশের বক্তব্য
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার আট দিন পর গত রবিবার রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতর থেকে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধর মূত্রের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এরপর রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সেই নমুনা পরীক্ষা করা হয়। সোমবার দুপুরে হাতে আসা সেই প্রতিবেদনে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, ধৃতদের শরীরে মাদকের কোনো অস্তিত্ব নেই।
এ বিষয়ে রংপুর মহানগর ডিবির উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানান, ঘটনার অনেক দিন পর মূত্রের নমুনা পরীক্ষা করার ফলে অনেক সময় মাদকের উপস্থিতি ধরা পড়ে না। সাধারণত দু–তিন দিনের মধ্যে পরীক্ষা করলে তা স্পষ্টভাবে পাওয়া যেত। পাশাপাশি, হাসপাতালে শুধুমাত্র মূত্র পরীক্ষা করার সুযোগ থাকায় চুল বা রক্তের নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব হয়নি বলেও তিনি জানান।
পুলিশের আগের দাবি ও বর্তমান পরিস্থিতির সংঘাত
এর আগে পুলিশের পক্ষ থেকে জোরালোভাবে দাবি করা হয়েছিল যে, ওই চারজনকে নির্মমভাবে হত্যার আগে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ মাদক সেবন করেছিলেন। এমনকি আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতেও তাঁরা হত্যার আগে আট থেকে নয়টি ইয়াবা সেবনের কথা স্বীকার করেছিলেন। পুলিশ দাবি করেছিল, মাদক সেবনে বাধা দেওয়ার ফলেই এই চর্তুঘাতের ঘটনা ঘটে।
তবে ডোপ টেস্টের রিপোর্টে মাদক না পাওয়ার বিষয়টি তাদের আগের বক্তব্যের সঙ্গে পুরোপুরি সাংঘর্ষিক হয়ে দাঁড়ানোয় তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠছে। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তদন্ত এখনও সচল রয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গত ২২ আগস্ট মাছুয়াপাড়া এলাকার নিজ বাড়ি থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী এবং দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করেছিল পুলিশ।