নেপালে প্রলয়ঙ্করী বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯০৩! ৪ হাজারের বেশি নিখোঁজ পর্যটকের সন্ধানে হাহাকার

নেপালে আকস্মিক ও ভয়াবহ বন্যায় পরিস্থিতি দিন দিন আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। সোমবার প্রাপ্ত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই প্রলয়ঙ্করী প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে মৃতের সংখ্যা লাফিয়ে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯০৩-এ। এর পাশাপাশি এখনও পর্যন্ত ৪,২৪৭ জন মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (NDRRMA)-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে চিতवन ও সংলগ্ন এলাকায়। এখান থেকে উদ্ধার হয়েছে শত শত মরদেহ। নিখোঁজদের এই দীর্ঘ তালিকায় ৯৯ জন নিরাপত্তা কর্মী এবং ৫৯১ জন বিদেশি নাগরিকও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন, যা আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

প্রাথমিক তদন্ত ও বিশেষজ্ঞদের অনুমান, নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী অঞ্চলে হঠাৎ করেই বরফ ও পাহাড়ের বিশাল অংশ ধসে পড়ার কারণে এই আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। গত ২৬ আগস্ট উত্তর ও মধ্য নেপালের বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে নেমে আসে এই তাণ্ডবলীলা। হিমালয়ের কোল থেকে দক্ষিণমুখী প্রবাহিত ভোটেকোসি নদীর রুদ্রমূর্তি জলের তোড়ে নিমেষে ভেসে গেছে ঘরবাড়ি, বহু যানবাহন, আস্ত রাস্তাঘাট ও গুরুত্বপূর্ণ সেতু। এমনকি একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও এই আকস্মিক বন্যায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চিনের সরকারি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বিপর্যয়ের জেরে তিব্বত ও চিনা অংশেও ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় সাড়ে পাঁচশো মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

উদ্ধারকাজ ও ত্রাণের গতিপ্রকৃতি নিয়ে বলতে গেলে, প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে যে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৯,৫০০ জন মানুষকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এই উদ্ধার হওয়া মানুষের তালিকায় নেপালের স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি ভারত, আমেরিকা, চিন, ব্রিটেন, জার্মানি ও স্পেনসহ বহু দেশের অসংখ্য বিদেশি পর্যটকও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। প্রিয়জনদের সন্ধানে হাসপাতালের মর্গের বাইরে এখন স্বজনহারা মানুষের অন্তহীন ভিড়। মৃতদের সঠিক পরিচয় নিশ্চিত করতে হাসপাতালের দেওয়ালে নিখোঁজদের ছবি সাঁটানো হয়েছে। এদিকে, অজ্ঞাতপরিচয় ও বিকৃত হয়ে যাওয়া দেহগুলির সৎকার সম্পন্ন করতে আদর্শ প্রোটোকল মেনে চলা হচ্ছে। এই সংকটের মুহূর্তে নিখোঁজদের ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত করতে ভারত থেকে ১৮ সদস্যের একটি বিশেষ ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ দল নেপালে এসে পৌঁছেছে। দুই প্রতিবেশী দেশের যৌথ প্রচেষ্টায় উদ্ধার ও শনাক্তকরণ কাজ বর্তমানে জোরকদমে চলছে।