যুদ্ধংদেহী মনোভাব নাকি শান্তির বার্তা? বিশ্বমঞ্চে কড়া হুংকার দিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন পেজেশকিয়ান

শাঁঘাই সহযোগিতা সংগঠন বা এসসিও (SCO) এর শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে সোমবার সকালেই কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে এসে পৌঁছেছেন ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা (IRNA)-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিরগিজস্তানের ডেপুটি কেবিনেট চিফ অত্যন্ত উষ্ণ অভ্যর্থনায় তাকে স্বাগত জানান। এই ঐতিহাসিক সফরে পেজেশকিয়ান শুধু এসসিও শীর্ষ সম্মেলনেই ভাষণ দেবেন না, বরং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেবেন, যা বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশকেকের এই সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আগে নিজের দেশ ছাড়ার প্রাক্কালে ইরানের রাষ্ট্রপতি স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেছেন যে, তার দেশ কখনোই কোনো ধরনের যুদ্ধ বা সংঘাত চায় না। তবে তেহরানের সার্বভৌমত্বের ওপর যদি কোনো প্রকার বাহ্যিক আগ্রাসন চালানো হয়, তবে তার উপযুক্ত ও কঠোর জবাব দেওয়া হবে। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা গোটা বিশ্বের জন্যই চরম ক্ষতিকর বলে মন্তব্য করে তিনি পারস্পরিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও যৌথ নিরাপত্তা লক্ষ্য অর্জনে দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধির ওপর বিশেষ জোর দেন। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বমঞ্চে যখন পরাশক্তিগুলোর আধিপত্য বিস্তারের লড়াই চলছে, তখন এই ধরনের সম্মেলন স্বাধীন রাষ্ট্রগুলোর স্বতন্ত্র মতামত প্রকাশের এক অনন্য মঞ্চ হিসেবে কাজ করে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে এই বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং সন্ত্রাসবাদ দমনের মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলো প্রধান আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, উজবেকিস্তানের সফল সরকারি সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী মোদী ইতিমধ্যেই বিশকেকে এসে পৌঁছেছেন, যেখানে বিমানবন্দরের টার্মিনালে তাকে অভ্যর্থনা জানান কিরগিজ প্রজাতন্ত্রের কেবিনেট অফ মিনিস্টার্সের চেয়ারম্যান আদিলবেক কাসিমালিয়েভ। কিরগিজ প্রেসিডেন্ট সাদির ঝাপারভের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণে ভারতের প্রধানমন্ত্রী এই সফরে যোগ দিয়েছেন।
উক্ত শীর্ষ সম্মেলনের পার্শ্ববৈঠকে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট এবং তাাজিকখস্তানের রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে পৃথকভাবে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় বসবেন। তাছাড়া, কিরগিজ রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রণে তিনি ঐতিহ্যবাহী ষষ্ঠ ওয়ার্ল্ড নোম্যাড গেমসের বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। হাজার বছরের পুরনো সভ্যতার এই অঞ্চলে শান্তি, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ফিরিয়ে আনতে যৌথ সহযোগিতার বিকল্প নেই বলেই মনে করছেন শীর্ষ নেতৃত্ব।