“খুনিদের না ধরলে আত্মঘাতী হব!” স্ত্রীর চরম হুঙ্কারের পরেই যোগী পুলিশের মেগা এনকাউন্টার, নিকেশ দুই শুটার

উত্তরপ্রদেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে লাগাতার রাজনৈতিক চাপানউতোরের মাঝেই জনপ্রিয় গায়ক ও ইউটিউবার অঙ্কিত বালিয়ান হত্যাকাণ্ডে এল এক বিরাট এবং চাঞ্চল্যকর আপডেট। জিম থেকে বেরোনোর সময় কুখ্যাত দুষ্কৃতীদের গুলিতে নৃশংসভাবে খুন হওয়া উদীয়মান গায়ক অঙ্কিত বালিয়ানের দুই মূল খুনিকে এনকাউন্টারে নিকেশ করল শামলি পুলিশ। এই যুগান্তকারী সাফল্য পাওয়ার পর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে যোগী প্রশাসন, কারণ গত কয়েকদিন ধরেই এই হাই-প্রোফাইল হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতি উত্তাল হয়ে উঠেছিল এবং খোদ বিরোধী শিবির থেকে শুরু করে নিহতের স্ত্রী চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিলেন।
উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই উত্তরপ্রদেশে জিমে শরীরচর্চা সেরে বেরোনোর ঠিক মুখেই চার দুষ্কৃতীর একটি দল অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় জনপ্রিয় গায়ক তথা ইউটিউবার অঙ্কিত বালিয়ানকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। প্রায় ২০ রাউন্ড নির্বিচার গুলিবর্ষণে অঙ্কিতের মাথা ও শরীরে একাধিক বুলেটবিদ্ধ হয় এবং হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই তাঁর মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে। এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের পরই নিহতের স্ত্রী জনসমক্ষে চাঞ্চল্যকর দাবি করে জানান যে, দ্রুত দোষীদের গ্রেফতার করা না হলে তিনি চরম পথ বেছে নেবেন। অন্যদিকে, সমাজবাদী পার্টি প্রধান অখিলেশ যাদব সহ বিরোধীরা যোগী সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে জানতে চান যে, পুলিশ এতদিন ধরে কী করছিল? এই তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক চাপের মুখেই আসামীদের ধরতে ময়দানে নামে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত গায়ক অঙ্কিত বালিয়ানের হত্যাকাণ্ডে সরাসরি যুক্ত দুই মূল শুটারের নাম সুমিত ও রোহিত। কুখ্যাত এই দুই অপরাধীর বয়স কুড়ির কোঠায় এবং তাদের প্রত্যেকের মাথার ওপর ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক পুরস্কার বা ইনাম ঘোষণা করা হয়েছিল। শামলির পুলিশ সুপার নরেন্দ্র প্রতাপ সিং জানিয়েছেন যে, অপরাধীদের ধরতে জেলাজুড়ে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা এবং বিশেষ তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছিল। সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথগুলিতে রাত বারোটা থেকে ভোর ছ’টা পর্যন্ত একটানা নাকা চেকিং চালানো হচ্ছিল। ঠিক সেই সময়ই সন্দেহজনক একটি মোটরসাইকেলে দুই দুষ্কৃতীকে আসতে দেখে পুলিশ তাদের থামানোর চেষ্টা করে।
পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে আচমকাই গুলি চালাতে শুরু করে অভিযুক্তরা। এমনকি একটি গুলি এসএইচও (SHO)-এর গাড়িতে গিয়ে লাগে, যাতে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান অফিসার বীরেন্দ্র কাসানা। এরপরই পুলিশের ওয়ারলেস বার্তার মাধ্যমে চারপাশ থেকে ঘেরাও করে ফেলে যৌথ বাহিনী। দীর্ঘক্ষণ ধরে চলা গুলির লড়াইয়ের পর পুলিশের এনকাউন্টারে দুই শুটারই গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। তদন্তে এও উঠে এসেছে যে, অঙ্কিতকে খুনের নেপথ্যে চারজন সরাসরি শুটার ছাড়াও আরও কয়েকজন নেপথ্যে থেকে গায়কের গতিবিধির রেইকি করেছিল। এই এনকাউন্টারের ফলে আপাতত চাঞ্চল্য কিছুটা কমলেও এই ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো গভীর রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত শত্রুতার যোগ আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।