হাসপাতাল নাকি মৃত্যুর ফাঁদ! লিফটে আটকে মর্মান্তিক মৃত্যু রোগীর, ২০ মিনিট আগেই ঘটেছিল এই বড় সংকেত?

মধ্যপ্রদেশের রীভা জেলার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ঘটে গেল চরম মর্মান্তিক ও চাঞ্চল্যকর দুর্ঘটনা। সামান্য কাঁধের আঘাতের চিকিৎসা করাতে এসে হাসপাতালের লিফটে আটকে মৃত্যু হলো এক রোগীর। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চরম গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন মৃতের পরিবার।

কীভাবে ঘটেছিল এই দুর্ঘটনা?
মৈহার জেলার অমরপতন এলাকার বাসিন্দা ৫২ বছর বয়সি সুরেশ সেন সম্প্রতি গাছ থেকে পড়ে গিয়ে কাঁধের হাড় ভেঙে ফেলেন। শনিবার সন্ধ্যায় পরিবারের লোকজন তাঁকে রীভার সমন থানা এলাকার ‘ন্যাশনাল হস্টেল ও হাসপাতাল’-এ ভর্তি করেন।

রাতে হাসপাতালের এক কর্মী ওই রোগীকে স্ট্রেচারে করে লিফটের মাধ্যমে ওপরের তলে নিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎই লিফটে বড় ধরণের যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। রোগীর ছেলের অভিযোগ, কর্মী তাঁদের সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠতে বলেন। পরে উপরে গিয়ে তাঁরা দেখতে পান, লিফটের নিচে আটকে রয়েছে তাঁদের বাবার ক্ষতবিক্ষত শরীর এবং হাসপাতালের সেই কর্মী ঘটনাস্থল থেকে উধাও!

‘২০ মিনিট আগেই ফঁসেছিল লিফট’!
আক্ষরিক অর্থেই ক্ষোভ প্রকাশ করে পরিবারের দাবি, এই ভয়ংকর দুর্ঘটনার ঠিক ২০ মিনিট আগেই অন্য এক তরুণী একই লিফটে আটকে পড়েছিলেন। কিন্তু এরপরেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনো সতর্কতা অবলম্বন করেনি বা লিফট বন্ধ রাখেনি। চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতার কারণে এই প্রাণঘাতী পরিণতি হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের।

ঘটনার পরই হাসপাতালে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। খবর পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন ঘটনাস্থলে পৌঁছলে ক্ষুব্ধ পরিবারের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি ও উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে এবং পুরো ঘটনার পেছনের গাফিলতি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে।