হঠাৎ জেলে হানা মুখ্যমন্ত্রীর! বন্দিদের সঙ্গে কথা বলে নিলেন খবরাখবর, নিজে খেয়ে দেখলেন খাবারের মান

রাজ্য প্রশাসনের অন্দরে নজরদারি বাড়াতে এবার একেবারে অপ্রত্যাশিত পদক্ষেপ নিলেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি. জোসেফ বিজয়। শুক্রবার চেন্নাইয়ের বিখ্যাত পুঝল কেন্দ্রীয় কারাগারে এক হচমকা (আচমকা) ঝটিকা পরিদর্শন চালান তিনি। দেশের অন্যতম বৃহত্তম এই জেল চত্বরের সার্বিক পরিকাঠামো এবং বন্দিদের সুযোগ-সুবিধা সরাসরি খতিয়ে দেখতেই তাঁর এই আকস্মিক অভিযান।
কী কী পরিদর্শন করলেন মুখ্যমন্ত্রী?
এদিন জেলের কোয়ারেন্টাইন জোন, হাসপাতাল, মাদকমুক্তি পুনর্বাসন কেন্দ্র, লাইব্রেরি থেকে শুরু করে হাই-সিকিউরিটি ব্লক—সবকিছু ঘুরে দেখেন মুখ্যমন্ত্রী। শুধু তাই নয়, বন্দিদের জন্য তৈরি হওয়া খাবারের গুণমান নিজে মুখে চেখে দেখেন তিনি। এছাড়া পুরুষ ও মহিলা বন্দিদের থাকার জায়গা, কারিগরি ও কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং বন্দিদের তৈরি বিভিন্ন সামগ্রীর (যেমন কাগজের খাম, ফাইল ফোল্ডার, কম্বল ইত্যাদি) উৎপাদন ইউনিটও ঘুরে দেখেন বিজয়। এদিনের এই আকস্মিক পরিদর্শনে তাঁর সঙ্গে ছিলেন ডিজিপি (কারাগার) সন্দীপ রাই রাঠোরসহ একাধিক শীর্ষ আধিকারিক।
বন্দিদের উদ্দেশ্যে কী বার্তা দিলেন?
পরিদর্শনকালে মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি বন্দিদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রয়োজনের কথা মন দিয়ে শোনেন। বন্দিদের উদ্দেশে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “অনেক মানুষই পরিস্থিতির শিকার হয়ে অপরাধ করে ফেলেন। অনিচ্ছাকৃত ভুল এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপরাধের মধ্যে তফাত রয়েছে।” তাই বন্দিদের সংশোধনের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের আগ্রহ অনুযায়ী পড়াশোনা ও পেশাগত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার জন্য কারা কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশ দেন তিনি। বিশেষ করে লাইব্রেরিতে পর্যাপ্ত বই রাখার ওপর জোর দেন মুখ্যমন্ত্রী।
জেল পরিদর্শন শেষে ফেরার পথে আচমকাই স্থানীয় এম-৩ পুঝল থানাতেও ঢুকে পড়েন মুখ্যমন্ত্রী জোসেফ বিজয়। সেখানে থানার দৈনন্দিন কাজকর্মে ব্যবহৃত রেজিস্টার, কম্পিউটার রুম এবং লক-আপ পরিদর্শন করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর এই হঠাৎ ঝটিকা সফরের খবর ছড়িয়ে পড়তেই জেল ও থানা চত্বরে সাধারণ মানুষের ভিড় জমে যায়।