‘ভালবাসা চুরি’র অদ্ভুত ক্ষতিপূরণ দাবি! স্বামীর প্রেমিকার থেকে ৫০ লক্ষ টাকা চাইতে গিয়ে কোর্টে খেলেন বড় ধাক্কা

স্বামী বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার পর থেকেই শুরু হয়েছিল চরম পারিবারিক দ্বন্দ্ব। আর সেই সম্পর্কের জেরে এবার এক অভিনব ও চাঞ্চল্যকর আইনি লড়াইয়ের সাক্ষী থাকল দিল্লি আদালত। স্বামীর প্রেমিকার কাছ থেকে ‘ভালবাসা চুরি’র ক্ষতিপূরণ বাবদ সরাসরি ৫০ লক্ষ টাকা দাবি করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন এক স্ত্রী। তবে শেষ পর্যন্ত আইনি লড়াইয়ে টিকতে না পেরে মুখ থুবড়ে পড়ল তাঁর এই অদ্ভুত দাবি। দিল্লির জেলা আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, স্বামীর পরকীয়ায় তৃতীয়পক্ষের বিরুদ্ধে আনা এই আর্থিক ক্ষতিপূরণের দাবি আইনগতভাবে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং তা খারিজযোগ্য।

আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগকারিণী মহিলার সঙ্গে তাঁর স্বামীর বিয়ে হয়েছিল ২০০১ সালে। দীর্ঘ বছর সংসার করার পর ২০১২ সালে স্বামীর তরফ থেকে বিবাহবিচ্ছেদের মামলা দায়ের করা হয়, যা এখনও আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এর মাঝেই ২০০৯ সালে একটি সরকারি বা ব্যক্তিগত কাজে আমেরিকা সফরে গিয়ে অন্য এক মহিলার সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন ওই স্বামী। এরপর ২০১৩ সালের জানুয়ারি মাসে তিনি চিরতরে বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যান এবং ২০১৫ সালে ওই মহিলাকে আইনসম্মতভাবে বিয়ে করেন। পরবর্তীতে ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তাঁদের একটি কন্যাসন্তানও জন্ম নেয়। স্বামীর এই দ্বিতীয় সম্পর্ক এবং ঘর ছাড়ার ঘটনার পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন প্রথম পক্ষের স্ত্রী।

প্রাথমিক পর্যায়ে স্বামীর প্রেমিকার বিরুদ্ধে ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ ও সুদের দাবি জানালেও পরবর্তীতে সেই অঙ্ক কমিয়ে ৫০ লক্ষে নামিয়ে আনেন ওই মহিলা। আইনি ভাষায় একে ‘স্নেহ এবং ভালবাসার বিচ্যুতি’ (Alienation of Affection) হিসেবে তুলে ধরা হয়। তাঁর প্রধান যুক্তি ছিল, ওই তৃতীয় নারী ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁদের সুখে-শান্তিতে ভরা দাম্পত্য জীবনে প্রবেশ করে তাঁর স্বামীর ভালোবাসা চুরি করে নিয়েছেন এবং তাঁদের মধ্যে ফাটল ধরায়। ফলে এই মানসিক ও পারিবারিক ক্ষতির জন্য ওই প্রেমিকারই তাঁকে ৫০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য।

তবে দিল্লির জেলা আদালতের বিচারক অতুল আলাওয়াত এই মামলা খারিজ করে দিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু আইনি পর্যবেক্ষণ পেশ করেন। শুনান্নি চলাকালীন বিচারক স্পষ্ট ভাষায় জানান, অভিযোগকারিণী এমন কোনো অকাট্য প্রমাণ পেশ করতে পারেননি যা থেকে প্রমাণিত হয় যে ওই মহিলা তাঁর স্বামীকে জোর করে প্ররোচিত করেছিলেন বা ইচ্ছাকৃতভাবে বৈবাহিক সম্পর্ক থেকে ছিনিয়ে নিয়েছিলেন। বিচারক আরও জানান, দুই প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ সম্পূর্ণ পারস্পরিক সম্মতিতে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে লিপ্ত হয়েছেন এবং তাঁদের সন্তান হয়েছে বলেই তা আইনি শর্ত পূরণ করে না।

আদালতের নজরে আসে যে, ওই দম্পতির বৈবাহিক সম্পর্ক প্রথম থেকেই অত্যন্ত তিক্ত ছিল। যত বছর তাঁরা একসঙ্গে ছিলেন, স্বামীর শারীরিক বা মানসিক ঘনিষ্ঠতাও স্ত্রীর প্রতি সেভাবে ছিল না। আদালত চূড়ান্ত রায়ে জানিয়েছে, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের প্রতি বিশ্বস্ত থাকার এবং বৈবাহিক দায়িত্ব পালনের মূল দায় একান্তভাবেই স্বামীর নিজের। পরবর্তীতে স্বামী যাঁর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন, তিনি পরকীয়ার জন্য আইনগতভাবে সরাসরি দায়ী নন। এই রায়ের ফলে যেমন বড় ধাক্কা খেলেন স্ত্রী, তেমনই আইন মহলে এই মামলাটি এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।