মমতার বিরুদ্ধে মুখ খুললেন দলবদলু কাকলি! তৃণমূল ছাড়ার পর কোন বিস্ফোরক তথ্যে কাঁপল রাজ্য রাজনীতি?

তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়ার পর এই প্রথম কোনো প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিলেন বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। সাম্প্রতিক সময়ে এনসিপিআই (NCPI)-তে যোগদান করা এই নেত্রী নিজের একটি কোচিং সেন্টারের কৃতী ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান থেকেই সরাসরি আক্রমণ শানালেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। তাঁর এই তীব্র আক্রমণকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
দীর্ঘ চার দশক ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ওঠাবসা থাকলেও দলবদলের পর এদিন একেবারেই চেনা ছন্দে ছিলেন না কাকলি। তিনি তৃণমূলের বহুচর্চিত ‘খেলা হবে’ স্লোগানকে কটাক্ষ করে বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই স্লোগান দিয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু গত বিধানসভা নির্বাচনে বাংলার সাধারণ মানুষ সেই বল সোজা মাঠের বাইরে পাঠিয়ে দিয়ে পাকাপাকিভাবে খেলা শেষ করে দিয়েছে। মমতার সঙ্গে দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত চল্লিশ বছর ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর নেত্রী ছিলেন, কিন্তু বিগত পাঁচ-সাত বছর ধরে তাঁর আচরণ ও কার্যকলাপে তিনি অত্যন্ত মর্মাহত এবং হতাশ হয়েছেন।
শুধু দলনেত্রীই নন, কাকলির কড়া নিশানায় ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। সম্প্রতি দলত্যাগীদের উদ্দেশে অভিষেকের দেওয়া কঠোর বার্তার প্রত্যুত্তর দিয়ে কাকলি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে তিনি বাংলার মানুষের রায়কেই মাথা পেতে নিয়েছেন এবং সেই কারণেই তিনি দলত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করেন যে, কোনো অবস্থাতেই তিনি আর কোনোদিন তৃণমূলে ফিরে যাবেন না। অভিষেককে সরাসরি আক্রমণ করে তিনি আরও বলেন, এই রাজ্য এর আগে কখনও বালি, সোনা এবং কয়লা পাচারের এমন ভয়াবহ রূপ দেখেনি। রাজ্যের এই আর্থিক দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটের চূড়ায় বসেই সবকিছু নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে বলে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনের পরপরই তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করে এনসিপিআই-তে যোগ দেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। যদিও তাদের নতুন রাজনৈতিক দলটিকে এখনও নির্বাচন কমিশন বা আদালত আইনগতভাবে সম্পূর্ণ স্বীকৃতি দেয়নি, তবুও বিধানসভায় তাদের বসার আলাদা ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং গোটা আইনি লড়াই বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। লোকসভার স্পিকারের পাঠানো নোটিসের জবাব যথাযথ যুক্তি সহকারে সময়মতো দেবেন বলেও জানান তিনি।