ব্রাজিলের পর এবার উরুগুয়ে! কলকাতার ফুটবলে মহাবিস্ফোরণ, জানুন কবে আসছে লাতিন মহারথীরা

শারদোৎসবের ঠিক আগে তিলোত্তমা শহর কলকাতায় নামতে চলেছে বিশ্বফুটবলের দুই মহাতারকা শক্তি—ব্রাজিল এবং উরুগুয়ে। ফুটবলের মক্কা হিসেবে পরিচিত এই শহরে এর আগে এমন নজিরবিহীন ঘটনা কখনো ঘটেনি। ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসে প্রথমবার মাত্র তিনদিনের ব্যবধানে ল্যাটিন আমেরিকার দুই হেভিওয়েট দল পা রাখতে চলেছে। এআইএফএফ-এর এই ঐতিহাসিক ঘোষণার পর থেকেই বাংলার ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করেছে। ডুরান্ড কাপ চ্যাম্পিয়ন ও ইস্টবেঙ্গলের তারকা ডিফেন্ডার আনোয়ার আলি নিজের জন্মদিনে এই মেগা টুর্নামেন্ট নিয়ে রোমাঞ্চ প্রকাশ করেছেন।

দীর্ঘ ৪২ বছর আগে শেষবার উরুগুয়ে দল কলকাতায় নেহেরু গোল্ড কাপ খেলতে এসেছিল। সেই সময় কিংবদন্তি এনজো ফ্রান্সেসকোলির জাদুকরী ফুটবল নৈপুণ্য কাছ থেকে উপভোগ করেছিলেন শহরের ক্রীড়াপ্রেমীরা। যদিও ১৯৭৭ সালে নিউ ইয়র্ক কসমস ক্লাবের জার্সিতে ফুটবল সম্রাট পেলে কলকাতার মাটিতে খেলেছিলেন, তবে হলুদ জার্সিতে কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে লাতিন আমেরিকার এই ফুটবল ছন্দ স্বচক্ষে দেখার সুযোগ পাননি বাঙালি দর্শকরা। এবার সেই অভাব পূরণ হতে চলেছে। অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশনের তত্ত্বাবধানে আসন্ন ফিফা ফ্রেন্ডলি ম্যাচগুলোকে ঘিরে গোটা দেশে চরম ফুটবল উন্মাদনা তৈরি হয়েছে।

বর্তমানে ভারতীয় জাতীয় ফুটবল দলের অন্যতম ভরসাযোগ্য ডিফেন্ডার আনোয়ার আলি গত দুই মরশুম ধরে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন। ইস্টবেঙ্গলের হয়ে আইএসএল ও সদ্য সমাপ্ত ডুরান্ড কাপ জয়ের পর তিনি এখন প্রতিপক্ষের কাছে অপ্রতিরোধ্য এক প্রাচীর। নিজের সাতাশতম জন্মদিনে এই ডিফেন্ডার আসন্ন ম্যাচগুলো সম্পর্কে অত্যন্ত আশাবাদী। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, বিশ্বমানের দলের বিরুদ্ধে মাঠে নামার এই অভিজ্ঞতা শুধু খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাসই বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে না, বরং আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতীয় ফুটবলের সম্মান ও গ্রহণযোগ্যতাকেও এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর পানামার বিরুদ্ধে প্রথম ফিফা আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলতে নামছে ভারতীয় দল। এই ম্যাচটি মূলত আসন্ন ব্রাজিল এবং উরুগুয়ে ম্যাচের কার্টেন রেইজার হিসেবে কাজ করবে। ইতিমধ্যে কনফেডারেশন অব ব্রাজিল ফুটবলের শীর্ষ প্রতিনিধিরা কলকাতা সফর করে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের পরিকাঠামো সরেজমিনে খতিয়ে দেখেছেন। স্টেডিয়ামের সংস্কারের জন্য তারা কিছু সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকাও দিয়ে গিয়েছেন, যা দ্রুত সম্পন্ন করার কাজ চলছে।

ব্রাজিল ও উরুগুয়ের মতো পরাশক্তিদের বিরুদ্ধে খেলা প্রসঙ্গে আনোয়ার আরও বলেন, “দর্শকভরা যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে বিশ্বের সেরা দলগুলোর মুখোমুখি হব ভাবতেই রক্তে শিহরণ জাগছে। গ্যালারি ভর্তি লক্ষাধিক মানুষের সামনে বুক চিতিয়ে লড়াই করে দেশের মুখ উজ্জ্বল করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।” বেঙ্গালুরুর কান্তিরাভা স্টেডিয়াম থেকে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন—সবমিলিয়ে আগামী দশদিনের একটি মেগা ফুটবল এপিসোডের অপেক্ষায় দিন গুনছেন দেশের কোটি কোটি ফুটবল অনুগামী।